ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
ঘাটাইলে নববধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্য, স্বজনদের দাবি হত্যা জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন টাঙ্গাইল পুলিশ লাইন্স স্কুলের শিক্ষার্থীরা গোপালপুরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে রাস্তার ইট তুলে বাড়িতে বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ কালিহাতীতে অসুস্থ গরু জবাইয়ের চেষ্টা, ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা বাসাইলে উন্নত জাতের বাছুর প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী ঘাটাইলে আনেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯টি স্কুলের ক্রিড়া প্রতিযোগীতা টাঙ্গাইলে কুরবানির জন্য ২ লাখ ৩৩ হাজার পশু প্রস্তুত বাসাইলে কৃষক হত্যা মামলার আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন নাগরপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ৪ জনের কারাদণ্ড টাঙ্গাইলে ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস পালন

গোপালপুরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে রাস্তার ইট তুলে বাড়িতে বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ

গোপালপুর প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ০১:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিটা) অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে গোপালপুর উপজেলার পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০০ মিটার গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম। আর কাজের ঠিকাদারি পান তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় দিনের বেলায় রাস্তার ইট তুলে ভ্যানে করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান তারা। পরে সেই ইট দিয়ে বাড়িতে পাকা বাথরুম ও পায়খানা নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গ্রামের মোড়ল আব্দুল হালিম জানান, পাশের প্যারাজানি বিলে সহস্রাধিক একর জমিতে বোরো ও রোপা ধানের আবাদ হয়। কৃষকদের হালচাষ ও ফসল পরিবহনের জন্য এই সড়কই একমাত্র ভরসা। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সড়কটি সংস্কার ও ইটের সলিংয়ের উদ্যোগ নেয়।

তিনি আরও বলেন, “রাস্তার ইট তোলার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, রাস্তা পাকা করা হবে। তাই ইট তুলে খোয়া বানানো হচ্ছে। পরে দেখা যায়, সেই ইট দিয়ে তাদের বাড়িতে বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে।”

এদিকে বর্ষা শুরু হওয়ায় ইটবিহীন সড়কের মাটি ধসে পড়ছে। এতে মাঠ থেকে বোরো ধান ঘরে তুলতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।

গ্রামের প্রবীণ আব্দুল জলিল বলেন, “স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলে সরকারি টাকায় রাস্তা বানাইছে, আবার তারাই দিনের বেলায় রাস্তার ইট তুলে নিয়ে বাড়িতে গোসলখানা আর পাকা পায়খানা বানাইছে। তারা প্রভাবশালী। কিছু বলতে গেলেই ভয়ভীতি দেখায়।”

সোমবার সরেজমিনে ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে রাস্তার কাজের সাইনবোর্ড বাথরুমের পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্যের স্বামী ও ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ওই অর্থবছরে তিনি ইউনিয়নের চারটি গ্রামীণ সড়কের সলিং কাজ পান। কাজ শেষে সাড়ে তিন হাজার ইট উদ্বৃত্ত ছিল। সেই ইট দিয়েই বাড়িতে বাথরুম নির্মাণ করেছেন।

সরকারি প্রকল্পের উদ্বৃত্ত ইট ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “উপজেলা প্রশাসন তো কখনো ইট ফেরত চায়নি। এখানে সাংবাদিকদের সমস্যা কোথায়?”

তবে ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “গ্রামের কিছু দুষ্ট লোক রাতের আঁধারে রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই রাস্তার ইট দিয়ে বাথরুম নির্মাণের প্রশ্নই আসে না।”

ইট চুরির বিষয়ে প্রশাসনকে কেন অবহিত করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রাস্তাটি পুনঃসংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। তাই হারিয়ে যাওয়া ইট নিয়ে ভাবা হয়নি।”

গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিজ খরচে ইট কিনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

 

এম.কন্ঠ/ ১৮ মে /এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

গোপালপুরে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে রাস্তার ইট তুলে বাড়িতে বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশ: ০১:৫৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিটা) অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে গোপালপুর উপজেলার পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০০ মিটার গ্রামীণ সড়কে মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম। আর কাজের ঠিকাদারি পান তার স্বামী তোফাজ্জল হোসেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় দিনের বেলায় রাস্তার ইট তুলে ভ্যানে করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান তারা। পরে সেই ইট দিয়ে বাড়িতে পাকা বাথরুম ও পায়খানা নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

গ্রামের মোড়ল আব্দুল হালিম জানান, পাশের প্যারাজানি বিলে সহস্রাধিক একর জমিতে বোরো ও রোপা ধানের আবাদ হয়। কৃষকদের হালচাষ ও ফসল পরিবহনের জন্য এই সড়কই একমাত্র ভরসা। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সড়কটি সংস্কার ও ইটের সলিংয়ের উদ্যোগ নেয়।

তিনি আরও বলেন, “রাস্তার ইট তোলার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, রাস্তা পাকা করা হবে। তাই ইট তুলে খোয়া বানানো হচ্ছে। পরে দেখা যায়, সেই ইট দিয়ে তাদের বাড়িতে বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে।”

এদিকে বর্ষা শুরু হওয়ায় ইটবিহীন সড়কের মাটি ধসে পড়ছে। এতে মাঠ থেকে বোরো ধান ঘরে তুলতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা।

গ্রামের প্রবীণ আব্দুল জলিল বলেন, “স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলে সরকারি টাকায় রাস্তা বানাইছে, আবার তারাই দিনের বেলায় রাস্তার ইট তুলে নিয়ে বাড়িতে গোসলখানা আর পাকা পায়খানা বানাইছে। তারা প্রভাবশালী। কিছু বলতে গেলেই ভয়ভীতি দেখায়।”

সোমবার সরেজমিনে ইউপি সদস্যের বাড়িতে গিয়ে রাস্তার কাজের সাইনবোর্ড বাথরুমের পাশে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্যের স্বামী ও ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ওই অর্থবছরে তিনি ইউনিয়নের চারটি গ্রামীণ সড়কের সলিং কাজ পান। কাজ শেষে সাড়ে তিন হাজার ইট উদ্বৃত্ত ছিল। সেই ইট দিয়েই বাড়িতে বাথরুম নির্মাণ করেছেন।

সরকারি প্রকল্পের উদ্বৃত্ত ইট ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “উপজেলা প্রশাসন তো কখনো ইট ফেরত চায়নি। এখানে সাংবাদিকদের সমস্যা কোথায়?”

তবে ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “গ্রামের কিছু দুষ্ট লোক রাতের আঁধারে রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই রাস্তার ইট দিয়ে বাথরুম নির্মাণের প্রশ্নই আসে না।”

ইট চুরির বিষয়ে প্রশাসনকে কেন অবহিত করা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “রাস্তাটি পুনঃসংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। তাই হারিয়ে যাওয়া ইট নিয়ে ভাবা হয়নি।”

গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিজ খরচে ইট কিনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

 

এম.কন্ঠ/ ১৮ মে /এম. টি