ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে ধ্বস, যানচলাচল বন্ধ টাঙ্গাইলে “ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অ্যাস্ট্রো-অলিম্পিয়াড” উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন টাঙ্গাইলে সরকারি মুরগির খামারে ব্যবস্থাপকের বিদায় সংবর্ধনা কালিহাতীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে ইউএনও ফারজানা আক্তারের মতবিনিময় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবলে টাঙ্গাইল সদরের জয়লাভ এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা প্রয়োজন মধুপুরে গোসলে নেমে নিখোঁজের পর আদিবাসী যুবকের মরদেহ উদ্ধার ক্ষুদ্র ও মাঝারি পোল্ট্রি খামারিদের ঋণ সুবিধা নিশ্চিতের আশ্বাস-প্রতিমন্ত্রী টুকুর টাঙ্গাইলে মামলা করায় ভুক্তভোগী পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা বাংলাদেশ আম্পায়ার এসোসিয়েশনের টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম পরিদর্শন

এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা প্রয়োজন

তারেক আহমেদ :
প্রকাশ: ০২:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোজাম্মেল হক হিরো বলেছেন, দীর্ঘদিন এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিকভাবে শিক্ষার পরিবেশ,স্বচ্ছতা ও সংস্কৃতিকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।

সেই অচলাবস্থা থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মোজাম্মেল হক হিরো আরো বলেন, এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা দেখেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র উপলব্ধি করা যায়। দীর্ঘদিন অবহেলা ও বৈষম্যের কারণে অনেক সম্ভাবনাময় পিছিয়ে পড়েছে। তাই এখন প্রয়োজন, সম্মিলিত উদ্যোগে আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত বিদ্যালয়ে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।

শনিবার এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে কালিহাতী প্রেসক্লাবের বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে এলেঙ্গা বিদ্যালয়ের সভাপতি মোজাম্মেল হক হিরো সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ভালো শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন দক্ষ, সৎ ও নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক। একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চরিত্র, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের ভিত্তিও নির্মাণ করেন।

সেই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাংবাদিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি স্থানীয় জমিদারদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি এলাকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

বর্তমানে বিদ্যালয়টি এলেঙ্গা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এবং বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও কারিগরি শাখায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রতিনিধি ও দৈনিক মজলুমের কন্ঠ নিজস্ব প্রতিবেদক তারেক আহমেদ জানান, শিক্ষা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষা ছাড়া একটি জাতির উন্নতি কল্পনাও করা যায় না। একটি জাতিকে উন্নতির ক্রমবর্ধমান পথে ধাবিত হতে গেলে চূড়ায় পৌঁছাতে হলে শিক্ষা ছাড়া গত্যন্তর নেই। জাতীয় উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসম্মত শিক্ষা। একটি ভালো বীজ থেকেই সম্ভব একটি গাছ মহীরুহ হয়ে উঠা, তেমনি মানসম্মত শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ গঠন ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। ভালো বীজ থেকেই কেবল ভালো ফল আশা করা যায়।

স্থানীয়রা জানান, কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক হয়েছে পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়ে ফিরেছে শৃঙ্খলা, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঐতিহ্যবাহী এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায় এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। একপর্যায়ে এলাকার মানুষের কাছেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোজাম্মেল হক হিরো। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেন। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরে আসে এবং নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম নিশ্চিত করা সম্ভব হয় বলে জানান।

জানা গেছে, শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পড়াশোনার অগ্রগতিও শিক্ষকরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে আরও মনোরম করতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা যেন অর্থাভাবে ঝরে না পড়ে, সে লক্ষ্যে বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সভাপতি।

বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে সময়মতো ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং সার্বিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, আগের তুলনায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেক উন্নত হয়েছে। নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে তারা এখন স্বস্তি বোধ করছেন। তাদের মতে, বিদ্যালয়ের প্রতি হারিয়ে যাওয়া আস্থা আবারও ফিরে আসছে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমেও আগ্রহ দেখাচ্ছে। শিক্ষকদের ভাষ্য, ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগও আগের তুলনায় বেড়েছে।

 

এম.কন্ঠ/ ১৯ জুলাই /এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা প্রয়োজন

প্রকাশ: ০২:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মোজাম্মেল হক হিরো বলেছেন, দীর্ঘদিন এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বাভাবিকভাবে শিক্ষার পরিবেশ,স্বচ্ছতা ও সংস্কৃতিকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।

সেই অচলাবস্থা থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধার করে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মোজাম্মেল হক হিরো আরো বলেন, এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা দেখেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র উপলব্ধি করা যায়। দীর্ঘদিন অবহেলা ও বৈষম্যের কারণে অনেক সম্ভাবনাময় পিছিয়ে পড়েছে। তাই এখন প্রয়োজন, সম্মিলিত উদ্যোগে আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত বিদ্যালয়ে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।

শনিবার এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে কালিহাতী প্রেসক্লাবের বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষে এলেঙ্গা বিদ্যালয়ের সভাপতি মোজাম্মেল হক হিরো সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ভালো শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন দক্ষ, সৎ ও নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক। একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চরিত্র, মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের ভিত্তিও নির্মাণ করেন।

সেই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সাংবাদিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি স্থানীয় জমিদারদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি এলাকার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

বর্তমানে বিদ্যালয়টি এলেঙ্গা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এবং বিজ্ঞান, মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও কারিগরি শাখায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রতিনিধি ও দৈনিক মজলুমের কন্ঠ নিজস্ব প্রতিবেদক তারেক আহমেদ জানান, শিক্ষা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। শিক্ষা ছাড়া একটি জাতির উন্নতি কল্পনাও করা যায় না। একটি জাতিকে উন্নতির ক্রমবর্ধমান পথে ধাবিত হতে গেলে চূড়ায় পৌঁছাতে হলে শিক্ষা ছাড়া গত্যন্তর নেই। জাতীয় উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসম্মত শিক্ষা। একটি ভালো বীজ থেকেই সম্ভব একটি গাছ মহীরুহ হয়ে উঠা, তেমনি মানসম্মত শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ গঠন ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। ভালো বীজ থেকেই কেবল ভালো ফল আশা করা যায়।

স্থানীয়রা জানান, কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক হয়েছে পাঠদান কার্যক্রম। বিদ্যালয়ে ফিরেছে শৃঙ্খলা, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণচাঞ্চল্য।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঐতিহ্যবাহী এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয়, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে যায় এবং অভিভাবকদের মধ্যে বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। একপর্যায়ে এলাকার মানুষের কাছেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোজাম্মেল হক হিরো। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেন। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরে আসে এবং নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম নিশ্চিত করা সম্ভব হয় বলে জানান।

জানা গেছে, শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা ও শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পড়াশোনার অগ্রগতিও শিক্ষকরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে আরও মনোরম করতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা যেন অর্থাভাবে ঝরে না পড়ে, সে লক্ষ্যে বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগও রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সভাপতি।

বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে সময়মতো ক্লাস পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং সার্বিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা সহজ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, আগের তুলনায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেক উন্নত হয়েছে। নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে তারা এখন স্বস্তি বোধ করছেন। তাদের মতে, বিদ্যালয়ের প্রতি হারিয়ে যাওয়া আস্থা আবারও ফিরে আসছে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমেও আগ্রহ দেখাচ্ছে। শিক্ষকদের ভাষ্য, ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগও আগের তুলনায় বেড়েছে।

 

এম.কন্ঠ/ ১৯ জুলাই /এম. টি