ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
সঠিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দেশ গঠনে সহযোগিতা করুন-প্রতিমন্ত্রী টুকু দিঘুলীয়া কল্লোল সমিতির সাধারণ সভা টাঙ্গাইলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শ্রমিকদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ টাঙ্গাইল জেলায় গুণী শিক্ষক মনোনীত মুহাম্মদ শাহীন আল মামুন নাগরপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ছুরিকাঘাতে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা ব্রীজে রডের বদলে বাঁশ; এবার বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ ঘাটাইলে বৈদ্যুৎস্পৃষ্টে অটোরিকশা চালকের মৃত্যু টাঙ্গাইলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিধন ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাসাইলে ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ: দুদকের অভিযান

মধুপুরের উচ্ছেদ নিয়ে উত্তেজনা, ক্ষতিগ্রস্ত গারোদের পুনর্বাসনের আশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ০৭:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুরে রাবার বাগানের দখল হওয়া জমি উদ্ধারের অভিযানে একটি গারো পরিবারের নতুন নির্মাণাধীন ঘরের কাজ বন্ধ ও খুটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হয়।

সোমবার (৯ মার্চ) উপজেলার ধরাটি গ্রামের কালাপাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বনশিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বশিউক) এর স্থানীয় বাগান ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ওই পরিবারের বসতঘর উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় বাড়ির চারপাশে লাগানো গাছপালা কেটে ফেলা ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুনভাবে আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং মধুপুর বনে গারো সম্প্রদায় ও বন বিভাগের চলমান বিরোধ পুনরায় সামনে আসে।

ভুক্তভোগী রমেন কুবি ও তার স্ত্রী শিবলি মাংসাং দাবি করেন, তাদেরকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। প্রায় ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে জমির দখল কিনে তারা সাত বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

চাঁদপুর রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক আমানুল্লাহ বলেন, রাবার শিল্পের দখল হওয়া জমি উদ্ধারের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা জুবায়ের হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

ইউএনও মির্জা জুবায়ের হোসেন জানান, বৈঠকে মধুপুর রাবার বাগানের মহাব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন, সংশ্লিষ্ট বাগানের ব্যবস্থাপক আমানুল্লাহ, মধুপুর থানার ওসি জাফর ইকবাল ও পিআইও রাজীব আল রানা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য তাদের ঘর পুনর্র্নিমাণে দুই বান্ডিল টিন, ৬ হাজার টাকা এবং খুঁটি বাবদ প্রয়োজনীয় সব ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সমাধান প্রক্রিয়ার সময় জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সাংবাদিক লিটন সরকার, হাবিবুর রহমান ও লিয়াকত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

এম.কন্ঠ/ ১১ মার্চ/এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

মধুপুরের উচ্ছেদ নিয়ে উত্তেজনা, ক্ষতিগ্রস্ত গারোদের পুনর্বাসনের আশ্বাস

প্রকাশ: ০৭:৫৭:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গাইলের মধুপুরে রাবার বাগানের দখল হওয়া জমি উদ্ধারের অভিযানে একটি গারো পরিবারের নতুন নির্মাণাধীন ঘরের কাজ বন্ধ ও খুটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনের আশ্বাস দেওয়া হয়।

সোমবার (৯ মার্চ) উপজেলার ধরাটি গ্রামের কালাপাহাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বনশিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বশিউক) এর স্থানীয় বাগান ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ওই পরিবারের বসতঘর উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় বাড়ির চারপাশে লাগানো গাছপালা কেটে ফেলা ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নতুনভাবে আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং মধুপুর বনে গারো সম্প্রদায় ও বন বিভাগের চলমান বিরোধ পুনরায় সামনে আসে।

ভুক্তভোগী রমেন কুবি ও তার স্ত্রী শিবলি মাংসাং দাবি করেন, তাদেরকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। প্রায় ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে জমির দখল কিনে তারা সাত বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

চাঁদপুর রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক আমানুল্লাহ বলেন, রাবার শিল্পের দখল হওয়া জমি উদ্ধারের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা জুবায়ের হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

ইউএনও মির্জা জুবায়ের হোসেন জানান, বৈঠকে মধুপুর রাবার বাগানের মহাব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন, সংশ্লিষ্ট বাগানের ব্যবস্থাপক আমানুল্লাহ, মধুপুর থানার ওসি জাফর ইকবাল ও পিআইও রাজীব আল রানা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য তাদের ঘর পুনর্র্নিমাণে দুই বান্ডিল টিন, ৬ হাজার টাকা এবং খুঁটি বাবদ প্রয়োজনীয় সব ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সমাধান প্রক্রিয়ার সময় জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সাংবাদিক লিটন সরকার, হাবিবুর রহমান ও লিয়াকত হোসেন উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।

 

এম.কন্ঠ/ ১১ মার্চ/এম. টি