ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
কালিহাতীতে ঝিনাই নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু টাঙ্গাইলে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাদের অভিযোগ গোপালপুরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সরকারি কর্মচারীর আত্মহত্যা টাঙ্গাইলে ৫ম বারের মতো শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক সম্মাননা পেলেন মুহাম্মদ শাহীন আল মামুন টাঙ্গাইলে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সভা গোপালপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সেই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত কালিহাতীর জোকারচর-পৌলী-মহেলায় রাতভর অভিযান টাঙ্গাইলে ইউএনডি পি , দ্য কোকাকোলা ফাউন্ডেশনের পরিচ্ছন্নতা ক্যাম্প কালিহাতীতে ৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বাসাইলে যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

টাঙ্গাইলে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাদের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ০৩:০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সামাউন কবীরের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাদের অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার মাসে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাদের ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে।

ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, সামাউন কবীর পরিষদে ফটোকপির মেশিন থাকা সত্বেও বাইরে থেকে ফটোকপির বিল বাউচার দিখেয়ে হাজার হাজার টাকা আত্মসাদ করেছেন।

এছাড়াও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকলেও সে দিনও আপ্পায়নসহ বিভিন্ন খরচ দেখিয়েছেন। বিলের খাতায় একাধিক জায়গায় প্রশাসকের স্বাক্ষর ও তারিখে গড় মিল পাওয়া গেছে। সামাউন কবীর বর্তমানের দেলদুয়ারের এলাসিন ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করলেও সেখানেও কয়েক দফা ইউপি সদস্যদের সাথে হাতাহাতি হয়েছে।

ইউপি সদস্যরা জানান, ২০২২ সালে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে সামাউন কবীর বাঘিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। অভ্যুত্থানের পর চেয়ারম্যান না থাকায় সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সদস্যদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান না থাকার সুবাধে প্রশাসককে ম্যানেজ করেই ভুয়া বিল বাউচার করে লুটপাট শুরু করে।

এছাড়াও প্রশাসক মেহেদী হাসান হাসানও পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ না পেলে বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল স্বাক্ষর করেন না বলে ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। ইতিপূর্বে ভিজিএফের চাল কালোবাজারিসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ তোলা হলে প্রশাসক মেহেদী হাসান রহস্যজনক কারনে কোন ব্যবস্থা নেননি। গত বছরের ২ ডিসেম্বর বদলি হয়ে চলে যান সামাউন কবির।

ডকুমেন্ট থেকে জানা যায়, গত বছরের ৯ জুলাই আপ্পায়ন খরচ দেখিয়েছেন ১১ হাজার ২০০ টাকা, ৩১ জুলাই স্টেশনারী মালামাল ক্রয় করেছেন তিন হাজার ৫০০ টাকা, রেস্তোরা ও ফল ভান্ডারে আপ্পায়ন খরচ দেখিয়েছেন ছয় হাজার ১০০ টাকা, ফটোস্ট্যাট দুই হাজার ২০০ টাকা, ২৮ আগস্ট আপ্পায়ন খরচ দেখিয়েছেন চার হাজার ৫৫০ টাকা, স্টেশনারী মালামাল ৩ হাজার ৬৫০ টাকা, পিন্টার কালি তিন হাজার ১০০ টাকা, ২৮ স্টেপ্টেম্বর রেস্তোরা ও ফল ভান্ডার ও বেকারির প্যাডে আপ্পায়ন বিল দেখিয়েছেন সাত হাজার টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে নামে বেনামে ভুল বিল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ইউপি সদস্যদের দাবি, যে এক কাপ চা ও খাওয়ান না, সে আবার হাজার হাজার টাকা বিল করে কিভাবে?

আর জানা যায়, গত বছরের ২ নভেম্বর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকলেও ৩২ হাজার টাকার অধিক আপ্পায়ন, ফটোকপিসহ বিভিন্ন খরচ দেখিয়েছেন। এছাড়াও উপজেলার প্রশাসনের কাছ থেকে হাটের ইজারার ৫ শতাংশ কমিশনের দুই লাখ ২৭ হাজার ১১৫ টাকার চেকটি ১৬ সেপ্টেম্বর ইস্যু হয়। সেটি জমা দেখিয়েছে ৫ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো টাকাটাই সামাউন কবীর আত্মসাদ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিষদ থেকে ভুয়া বিল বাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাদ করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের সাবেক উপপরিচালককে বার বার বলেও কোন সুরাহা হয়নি।

এছাড়াও সামাউন কবির কালিহাতীর এলেঙ্গা এলাকায় লাখ লাখ টাকার জমি ও কোটি টাকার উপরে খরচ করে বহুতল ভবণ করেছেন। তিনি আসলেও এক দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা জরুরি।

অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সামাউন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রশাসক মেহেদী হাসান বলেন, আমি কোন যাতায়াত বিল নেইনি। আমার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ বিষয়ে সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, আমি নতুনে দায়িত্ব নিয়েছি। আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এম.কন্ঠ/ ০৭ মে /এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা আত্মসাদের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৩:০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সামাউন কবীরের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাদের অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার মাসে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাদের ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে।

ইউপি সদস্যদের অভিযোগ, সামাউন কবীর পরিষদে ফটোকপির মেশিন থাকা সত্বেও বাইরে থেকে ফটোকপির বিল বাউচার দিখেয়ে হাজার হাজার টাকা আত্মসাদ করেছেন।

এছাড়াও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকলেও সে দিনও আপ্পায়নসহ বিভিন্ন খরচ দেখিয়েছেন। বিলের খাতায় একাধিক জায়গায় প্রশাসকের স্বাক্ষর ও তারিখে গড় মিল পাওয়া গেছে। সামাউন কবীর বর্তমানের দেলদুয়ারের এলাসিন ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করলেও সেখানেও কয়েক দফা ইউপি সদস্যদের সাথে হাতাহাতি হয়েছে।

ইউপি সদস্যরা জানান, ২০২২ সালে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে সামাউন কবীর বাঘিল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। অভ্যুত্থানের পর চেয়ারম্যান না থাকায় সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সদস্যদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান না থাকার সুবাধে প্রশাসককে ম্যানেজ করেই ভুয়া বিল বাউচার করে লুটপাট শুরু করে।

এছাড়াও প্রশাসক মেহেদী হাসান হাসানও পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ না পেলে বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল স্বাক্ষর করেন না বলে ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। ইতিপূর্বে ভিজিএফের চাল কালোবাজারিসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ তোলা হলে প্রশাসক মেহেদী হাসান রহস্যজনক কারনে কোন ব্যবস্থা নেননি। গত বছরের ২ ডিসেম্বর বদলি হয়ে চলে যান সামাউন কবির।

ডকুমেন্ট থেকে জানা যায়, গত বছরের ৯ জুলাই আপ্পায়ন খরচ দেখিয়েছেন ১১ হাজার ২০০ টাকা, ৩১ জুলাই স্টেশনারী মালামাল ক্রয় করেছেন তিন হাজার ৫০০ টাকা, রেস্তোরা ও ফল ভান্ডারে আপ্পায়ন খরচ দেখিয়েছেন ছয় হাজার ১০০ টাকা, ফটোস্ট্যাট দুই হাজার ২০০ টাকা, ২৮ আগস্ট আপ্পায়ন খরচ দেখিয়েছেন চার হাজার ৫৫০ টাকা, স্টেশনারী মালামাল ৩ হাজার ৬৫০ টাকা, পিন্টার কালি তিন হাজার ১০০ টাকা, ২৮ স্টেপ্টেম্বর রেস্তোরা ও ফল ভান্ডার ও বেকারির প্যাডে আপ্পায়ন বিল দেখিয়েছেন সাত হাজার টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে নামে বেনামে ভুল বিল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ইউপি সদস্যদের দাবি, যে এক কাপ চা ও খাওয়ান না, সে আবার হাজার হাজার টাকা বিল করে কিভাবে?

আর জানা যায়, গত বছরের ২ নভেম্বর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকলেও ৩২ হাজার টাকার অধিক আপ্পায়ন, ফটোকপিসহ বিভিন্ন খরচ দেখিয়েছেন। এছাড়াও উপজেলার প্রশাসনের কাছ থেকে হাটের ইজারার ৫ শতাংশ কমিশনের দুই লাখ ২৭ হাজার ১১৫ টাকার চেকটি ১৬ সেপ্টেম্বর ইস্যু হয়। সেটি জমা দেখিয়েছে ৫ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো টাকাটাই সামাউন কবীর আত্মসাদ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিষদ থেকে ভুয়া বিল বাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাদ করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের সাবেক উপপরিচালককে বার বার বলেও কোন সুরাহা হয়নি।

এছাড়াও সামাউন কবির কালিহাতীর এলেঙ্গা এলাকায় লাখ লাখ টাকার জমি ও কোটি টাকার উপরে খরচ করে বহুতল ভবণ করেছেন। তিনি আসলেও এক দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা জরুরি।

অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সামাউন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রশাসক মেহেদী হাসান বলেন, আমি কোন যাতায়াত বিল নেইনি। আমার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগটি মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ বিষয়ে সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, আমি নতুনে দায়িত্ব নিয়েছি। আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এম.কন্ঠ/ ০৭ মে /এম. টি