ঢাকা ০৪:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
টাঙ্গাইলে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ টাঙ্গাইলে ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে অবহিতকরণ সভা টাঙ্গাইল কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবলের ছোঁয়া কালিহাতীতে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল কুমুদিনী সরকারি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক ক্যাম্পেইন ঘাটাইলে সড়কের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন কালিহাতীতে কয়েক মিনিটের ঝড়ে তছনছ কস্তুরীপাড়া বাজার সখীপুরে বাঁশ বোঝাই ট্রাকের পেছনে মুরগিবাহী ট্রাকের ধাক্কা; নিহত ৪ দুর্ঘটনায় স্বীকার নাতির চিকিৎসার অর্থ যোগাতে নানা মোটরবাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বাসাইলে গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গোপালপুরে সাতারকান্দি ভায়া হাদিরা সড়কের বেহালদশা

মো. সেলিম হোসেন : গোপালপুর প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ০১:৫৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা পূর্ব পাড়া এলাকার “সাতারকান্দি-হাদিরা” নামক গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কারের অভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন সাধারণ মানুষসহ শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নানান ধরণের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

প্রায় ৭০০ মিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি আব্দুর রহিম তালুকদারের বাড়ির সামনে থেকে শুরু হয়ে উত্তর পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত। রাস্তার দুই পাশে জনবহুল গ্রাম এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে তিনটি পুকুরের পাশ ঘেঁষে থাকা এই কাঁচা রাস্তাটি ভেঙে গিয়ে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে এবং প্রায় সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠে।

এলাকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। তাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে হলে এই রাস্তাটি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু রাস্তার কর্দমাক্ত ও ভাঙা অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে গাড়ি, ভ্যান কিংবা অটোরিকশা প্রায়ই কাদায় আটকে যায়। এতে কৃষকদের সময়, শ্রম ও অর্থের ক্ষতি হচ্ছে। অনেক সময় পচনশীল পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় বিক্রির সুযোগও হাতছাড়া হয়।

প্রতিদিন এই রাস্তাটি দিয়ে বহু শিক্ষার্থী নিকটবর্তী স্কুলে যাতায়াত করে। কিন্তু বর্ষার সময় পানি আর কাদার কারণে তাদের স্কুলে পৌঁছাতে হয় প্রচণ্ড কষ্টে। অনেকে পড়ে গিয়ে আহতও হয়। স্কুলপোশাক ও বইখাতা নষ্ট হওয়া তো নিত্যদিনের ঘটনা। এতে করে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং তারা স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

অন্যদিকে, উত্তর পাড়া জামে মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিরাও এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। বিশেষ করে জুম্মা ও ঈদের নামাজের সময় দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা এই পথ দিয়েই মসজিদে আসেন। কিন্তু রাস্তার করুণ অবস্থার কারণে অনেক সময় বয়স্ক মুসল্লিরা পড়ে গিয়ে আহত হন বা ভিজে কাপড়ে নামাজ পড়তে বাধ্য হন।

সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এ রাস্তা ব্যবহার করে রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন কাদায় আটকে পড়ার কারণে অনেক সময় রোগীকে কোলে করে নিয়ে যেতে হয়। এর ফলে জরুরি চিকিৎসা পেতে দেরি হয় এবং জীবনের ঝুঁকি বাড়ে।

এই দুর্ভোগের প্রেক্ষিতে গ্রামের বাসিন্দ মাহমুদুল হাসান গাজ্জালী তালুকদার গোপালপুর বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

তিনি জানান, “এই রাস্তাটি শুধু চলাচলের পথ নয়, এটি আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। এর উন্নয়ন না হলে, কৃষি, শিক্ষা, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড এবং চিকিৎসা,সবকিছুই বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত এই রাস্তার আর.সি.সি ঢালাই করে স্থায়ীভাবে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হোক।”

 

এম.কন্ঠ/  ০২ অগাস্ট  /এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

গোপালপুরে সাতারকান্দি ভায়া হাদিরা সড়কের বেহালদশা

প্রকাশ: ০১:৫৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা পূর্ব পাড়া এলাকার “সাতারকান্দি-হাদিরা” নামক গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কারের অভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন সাধারণ মানুষসহ শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নানান ধরণের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

প্রায় ৭০০ মিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি আব্দুর রহিম তালুকদারের বাড়ির সামনে থেকে শুরু হয়ে উত্তর পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত বিস্তৃত। রাস্তার দুই পাশে জনবহুল গ্রাম এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে তিনটি পুকুরের পাশ ঘেঁষে থাকা এই কাঁচা রাস্তাটি ভেঙে গিয়ে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে এবং প্রায় সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠে।

এলাকার বেশিরভাগ মানুষ কৃষিনির্ভর। তাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে হলে এই রাস্তাটি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু রাস্তার কর্দমাক্ত ও ভাঙা অবস্থার কারণে পণ্য পরিবহন করতে গিয়ে গাড়ি, ভ্যান কিংবা অটোরিকশা প্রায়ই কাদায় আটকে যায়। এতে কৃষকদের সময়, শ্রম ও অর্থের ক্ষতি হচ্ছে। অনেক সময় পচনশীল পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় বিক্রির সুযোগও হাতছাড়া হয়।

প্রতিদিন এই রাস্তাটি দিয়ে বহু শিক্ষার্থী নিকটবর্তী স্কুলে যাতায়াত করে। কিন্তু বর্ষার সময় পানি আর কাদার কারণে তাদের স্কুলে পৌঁছাতে হয় প্রচণ্ড কষ্টে। অনেকে পড়ে গিয়ে আহতও হয়। স্কুলপোশাক ও বইখাতা নষ্ট হওয়া তো নিত্যদিনের ঘটনা। এতে করে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং তারা স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

অন্যদিকে, উত্তর পাড়া জামে মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিরাও এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। বিশেষ করে জুম্মা ও ঈদের নামাজের সময় দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিরা এই পথ দিয়েই মসজিদে আসেন। কিন্তু রাস্তার করুণ অবস্থার কারণে অনেক সময় বয়স্ক মুসল্লিরা পড়ে গিয়ে আহত হন বা ভিজে কাপড়ে নামাজ পড়তে বাধ্য হন।

সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এ রাস্তা ব্যবহার করে রোগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন কাদায় আটকে পড়ার কারণে অনেক সময় রোগীকে কোলে করে নিয়ে যেতে হয়। এর ফলে জরুরি চিকিৎসা পেতে দেরি হয় এবং জীবনের ঝুঁকি বাড়ে।

এই দুর্ভোগের প্রেক্ষিতে গ্রামের বাসিন্দ মাহমুদুল হাসান গাজ্জালী তালুকদার গোপালপুর বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

তিনি জানান, “এই রাস্তাটি শুধু চলাচলের পথ নয়, এটি আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। এর উন্নয়ন না হলে, কৃষি, শিক্ষা, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড এবং চিকিৎসা,সবকিছুই বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত এই রাস্তার আর.সি.সি ঢালাই করে স্থায়ীভাবে পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হোক।”

 

এম.কন্ঠ/  ০২ অগাস্ট  /এম. টি