ঘাটাইলে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলতে গিয়ে চালক আটক
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে জনসাধারণের জন্য সরকারিভাবে সরবরাহ করা বিপুল পরিমাণ ওষুধ দীর্ঘদিন মজুদ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
পরে এসব ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সেগুলো ট্রাকভর্তি করে যমুনা নদীতে ফেলার সময় স্থানীয় জনতার হাতে ওষধ ভর্তি একটি পিকাপ আটক হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে মজুদকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো একটি পিকাপ এ করে যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ট্রাকটি আটক করে। পরে ওই পিকাপ ভ্যানটি তল্লাশি করলে ঔষধের গায়ে ক্রয়-বিক্রয় দন্ডনীয় সিল দেখতে পেয়ে সরকারি ঔষধ বলে সনাক্ত করে। পরে বিষয়টি ভূয়াপুর থানা পুলিশকে জানালে ওই পিকাপ ভ্যানটি আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। পরে ট্রাকে থাকা বিপুল পরিমাণ ওষুধের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা: আলমগীর কবীরকে প্রধান করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার জনগণের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার জন্য ওষুধ সরবরাহ করলেও ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসব ওষুধ যথাসময়ে রোগীদের মাঝে বিতরণ না করে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। এরই মধ্যে ওষুধগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এ ঘটনায় সরকারি ওষুধের সঠিক ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও বিতরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সরকারি ওষুধ কেন রোগীদের মধ্যে সময়মতো বিতরণ করা হয়নি এবং কীভাবে বিপুল পরিমাণ ওষুধের মেয়াদ শেষ হলো তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, সরকারি সম্পদের এমন অপচয় হয়ে থাকলে দায়ীদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন সরকারি ওষুধ নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবু নয়িম মোহাম্মদ সোহেল বলেন, আমরাও অবগত হয়েছি যে এক পিকাপ ঔষধ ভূয়াপুর থানায় আটক আছে । সাময়িকভাবে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমরা জড়িতদের সনাক্তের চেষ্টা করছি। বিষয়টি তদন্তের পরে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।
এম.কন্ঠ/ ২৭ অগাস্ট /এম. টি



























