টাঙ্গাইলে নতুন কুঁড়ি স্পোটর্সের পুরষ্কার ও সনদপত্র বিতরন
‘স্বপ্নের পথে, বিজয়ের সাথে’ শ্লোগানে দক্ষ ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করার অভিযানের প্রাথমিক স্তর ‘নতুন কুঁড়ি র্স্পোটস’ টাঙ্গাইলে পুরষ্কার ও সনদপত্র বিতরণীতে সমাপ্ত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপ্তিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
তিনি বলেন, খেলাধুলায় জয়পরাজয় মুখ্য না, মুখ্য হলো শেখা। কেউ সাঁতারে ভালো, কেউ দাবায় ভালো, কেউ ক্রিকেটে ভালো, কেউ ফুটবল কিংবা বিভিন্ন এ্যাথলেটিক্সে ভালো। আমরা প্রত্যাশা করি আমাদের সন্তানেরা লেখাপড়ার পাশাপাশি যা কিছু সুন্দর, ক্রীড়াক্ষেত্রে মেতে উঠে। নিজেকে বিকশিত করবে, নিজেকে অনন্য উচ্চতায় মেলে ধরবে। সুনাগরিক হবে, ভালো মানুষ হবে।,

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্চয় কুমার মহন্তর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. সেলিম মিয়া, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু , সদর বিএনপির সভাপতি আজগর আলী , জেলা সহকারি ক্রিকেট কোচ ইসলাম খান ও জেলা আম্পায়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম লিটন।
জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরনী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন ধারাভাষ্যকার মো. আলীম হোসেন।
টাঙ্গাইলে নতুনকুড়ি স্পোর্টসে ১২ থেকে ১৪ বছরের প্রায় ৩০০০হাজার কিশোর/কিশোরীদের অংশগ্রহনে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কাবাডি, সাঁতার, এ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন ও মার্শাল আট প্রতিযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।
নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় ফুটবল খেলায় বালক বিভাগে টাঙ্গাইল পৌরসভা চ্যাম্পিয়ন ও সখিপুর উপজেলা রানার্সআপ।
ফাইনালে সেরা খেলোয়াড় সখিপুর উপজেলার কাউছার, টুর্নামেন্টের সেরা গোপালপুরের নাঈম খান এবং বালিকা বিভাগে গোপালপুর উপজেলা চ্যাম্পিয়ন এবং ভুঞাপুর উপজেলা রানার্সআপ। সেরা খেলোয়াড় ভুঞাপুর উপজেলার ফাইনালের সেরা সুমাইয়া ও টুর্নামেন্টে সেরা গোপালপুরের হ্যাপি। ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় বালক বিভাগে টাঙ্গাইল পৌরসভা চ্যাম্পিয়ন এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা রানার্সআপ। সেরা খেলোয়াড় কনক দাস হরিজন এবং বালিকা বিভাগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চ্যাম্পিয়ন এবং টাঙ্গাইল পৌরসভা রানার্সআপ। ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় সদরের মুন্নী আক্তার জুঁই ও টুর্নামেন্টের সেরা একই দলের খেলোয়াড় সুমাইয়া আক্তার।
কাবাডি খেলায় টাঙ্গাইল পৌরসভা চ্যাম্পিয়ন এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা রানার্সআপ। সেরা টাঙ্গাইল পৌরসভার নাজমুল হাসান ও টুর্নামেন্ট সেরা একই দলের ইয়াছিন মিয়া। বালিকা বিভাগে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা চ্যাম্পিয়ন এবং টাঙ্গাইল পৌরসভা রানার্সআপ। সদর উপজেলার কল্পনা ও মেঘলা ফাইনাল ও টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়।
ব্যাডমিন্টন এককে বালক বিভাগে নাগরপুর উপজেলার আনাম আল আকিফ চ্যাম্পিয়ন এবং মির্জাপুর উপজেলার ডি এম সিয়াম রানার্সআপ। এবং দ্বৈতে নাগরপুর উপজেলার আনাম আল আকিফ ও মুহাই মিনুল ক আফিফ চ্যাম্পিয়ন এবং গোপালপুর উপজেলা রাফি ও সিয়া¥ রানার্সআপ।
ব্যাডমিন্টন একক বালিকা বিভাগে টাঙ্গাইল পৌরসভার মির্জা সুরা চ্যাম্পিয়ন এবং সদর উপজেলার সিনথিয়া ইসলাম মরিয়ম রানার্সআপ। দ্বৈতে টাঙ্গাইল সদরের সিনথিয়া ইসলাম মরিয়ম ও সুচী খান চ্যাম্পিয়ন এবং সায়লা জামান মীম ও ধনবাড়ীর জান্নাতুল মুনতাহা রানার্সআপ।
দাবা প্রতিযোগিতায় গোপালপুরের জারিফ হোসেন চ্যাম্পিয়ন এবং আফিফ আহমেদ রানার্সআপ এবং বালিকা বিভাগে ঘাটাইল উপজেলার নিসা ফাওজিয়া চ্যাম্পিয়ন এবং একই উপজেলার জিনাত তাসনিম সুবর্না রানার্সআপ।
এ্যাথলেটিক্সে বালক বিভাগে ৫০ মিটার মুক্তসাঁতারে সদরের সোহান ১ম ও জীবন দ্বিতীয়। চিৎ সাঁতারে সদরের ইমন ১ম ও দিব্য দ্বিতীয়। বুক সাঁতারে সদরের ইমন ও মোহাম্মদ আলী যথাক্রমে ১ম ও দ্বিতীয়। প্রজাপতি সাঁতারে সদরের সোহান ১ম ও জীবন দ্বিতীয়।
৫০ মিটার মুক্তসাঁতার প্রতিযোগিতায় বালিকা বিভাগে টাঙ্গাইল পৌরসভার জান্নাত ১ম এবং সদরের জয়া কর্মকার দ্বিতীয়। ৫০ মিটার চিৎ সাঁতারে জয়া কর্মকার ১ম এবং সুমি খাতুন দ্বিতীয়। ৫০ মিটার বুক সাঁতারে সদরের তিথি মনি শীল ১ম ও পৌরসভার জান্নাত দ্বিতীয়। ৫০ মিটার প্রজাপতি সাঁতারে সদরের তিথি মনি শীল ১ম ও ভুঞাপুর উপজেলার সাদিয়া দ্বিতীয়।
তৃনমূল পর্র্যায় থেকে প্রতিভা সংগ্রহ করে খেলাধূলায় পারদর্শী করে জেলা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহনের মাধ্যমে দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরী করা। তবে ক্রীড়ামোদী দর্শক ও কিছু অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নতুন কুঁড়ি টুর্নামেন্টে ১২ থেকে ১৪ বছরের অধিক বয়সী খেলোয়াড়বৃন্দ বিভিন্ন পদ্ধতিতে অংশগ্রহন করেছে। যা এই সুন্দর আয়োজন তৃনমূল পর্যায়ে খেলোয়াড় তৈরী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে খেলা আয়োজন হলেও এখানে জেলা তেমন পর্যায়ে কোন প্রচার ছিলো না। খেলার মাঠে ও মাঠের বাইরে ছিলো না কোন মাইকিং। যে কারনে মাঠের বাইরের লোকজন জানতেই পারেনি এখানে বড় ধরনের খেলা হচ্ছে । খেলাধূলার সংবাদ তুলের ধরার জন্য ছিলো না কোন ক্রীড়া সাংবাদিক। যে কারনে সংবাদপত্রে খেলাধূলার সংবাদ পর্যাপ্ত ছিলো না। অনেকের ধারনা অনেকটা দায়সারা ভাবেই দ্রুত খেলার আয়োজন এবং দ্রুত শেষ করা হয়েছে। এ থেকে আদ্যে লাভ হবে কি? ক্রীড়ামোদীর প্রশ্ন!
এম.কন্ঠ/ ০৯ মে /এম. টি

























