মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনা
শ্রেণী কক্ষে যাওয়ার পরিবর্তে চির নিদ্রায় শায়িত হলো তানবীর ও হুমাইরা
প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও ঢাকার দিয়াবাড়ী মাইস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের শ্রেণি কক্ষে যাওয়ার কথা ছিলো তানবীর আহমেদ ও মেহেনাজ আক্তার হুমাইরা। তানবীর ওই স্কুলের অষ্টম শ্রেণীতে পড়ে ও হুমায়রা তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলো।
কিন্তু সোমবার দুপুরের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দুই জনের নিহত হওয়ায় মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় হুমাইরার ও সকাল ১০ টায় তানবীরের নামাজের জানাযা শেষে স্থানীয় কবর স্থানের তাদের দাফন করা হয়।
এর আগে রাতে নিহতের লাশ অ্যাম্বুলেন্সযোগে টাঙ্গাইলের নিজ নিজ বাড়িতে আনা হয়। নিহতের লাশ নিজ বাড়িতে আসলে স্বজনদের আহাজারিতে জেলার মির্জাপুর ও সখিপুরের আকাশ ভারী হয়ে ওঠে। সন্তানদের শোকে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন বাবা-মা। গ্রামে পুরো বাড়ি জুড়ে বইছে শোকের মাতম।
তানবীর আহমেদ মির্জাপুরের ওয়ার্শি ইউনিয়নের নগরভাত গ্রামের রুবেল মিয়া ও লিপি বেগম দম্পতির ছেলে। মেহেনাজ আক্তার হুমাইরা (৮) সখীপুর উপজেলার হতেয়া কেরানিপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। সে ওই স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা শিক্ষক।
স্বজনরা জানান, সোমবার সকাল ১০ টায় মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের স্থানীয় মাদ্রাসায় তানভীর আহমেদের ও সখীপুর উপজেলার হতেয়া কেরানিপাড়া গাবলের বাজার মাঠে হুমায়রার নামাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে তাদের স্থানীয় ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাযায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজারো মানুষ অংশ নেয়।
এদিকে মেধাবী এ ছাত্রের মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক এ বি এম আরিফুর ইসলাম প্রমুখ।
নিহত তানবীরের চাচাতো ভাই সজিব জানায়, তার চাচা রুবেল মিয়া ও চাচী লিপি বেগম সন্তানকে ভাল লেখাপড়া ও সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য মাইলস্টোন কলেজে ভর্তি করেছিলেন। তার চাচা ঢাকায় ব্যবসা করেন। তানবীরের ছোট ভাই তাসবীর চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। সজিব জানায় তানবীরের স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার। সে লক্ষ্য নিয়েই সে প্রচুর লেখাপড়া করতো। ছটিতে যখন গ্রামে আসতো তখনও পড়াশোনায় ব্যস্ত থাকতো। সোমবার বিমান দুর্ঘটনায় তানবীরের মৃত্যুর খবর গ্রামে ছড়িয়ে পরলে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। তার স্বজনদের কান্নায় চারপাশের বাতাস ভারি হয়ে আসছে। মঙ্গলবার তানবীরের মরদেহ গ্রামরে বাড়িতে আসলে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহত তানবীরের চাচাতো ভাই সজিব বলেন, চাচা-চাচি সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য মাইলস্টোন কলেজে ভর্তি করেছিলেন। তানভীরের ছোট ভাই তাসবির একই চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে।
তিনি আরও জানান, ‘তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরলে গ্রামে হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্নায় চারপাশের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
তানবীরের বাবা রুবেল মিয়া বলেন, তানবীর অষ্টম শ্রেণীতে ও ছোট ছেলে ইংলিশ ভার্সনে একই স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়তো। দুই জন দুই ভবণে ক্লাশ করতো। তানভীরের ছুটি হয় দুপুর একটায়, আর ছোটটার সাড়ে ১২ টায়। তানবীর স্কলার কোচিং এর জন্য অপেক্ষা করতো। তানবীর প্রথম শ্রেণীতে থেকে ক্লাশের প্রথম ছিলো। যে কারনে তানবীর ক্লাশের ক্যাপটেন ছিলো। সকলতে সাড়িবদ্ধভাবে নিচে নামাতো গিয়ে তানবীরের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার কারনে অনেক হতাহত হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদ চাই। হুমাইরার দাদা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, এবার কোরবানি ঈদে দাদু এসেছিল। দাদু সারাক্ষণ আমার সঙ্গেই থাকত। দাদু আর কোনো দিন আসবে না। আর আমাকে দাদু বলবে না।
এম.কন্ঠ/ ২২ জুলাই /এম. টি


























