যমুনার চরে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের শরতের আড্ডা
যতদূর চোখ যায় শুধু সাদা কাশফুল, মাঝে মাঝে একটা সরু খালের মতো জল। বিকেলের নরম রোদে কাশফুলগুলো সোনা হয়ে যায়। এখানকার উন্মুক্ত পরিবেশে ছোট দোকানগুলোতে লাল চা আর পাঁচ টাকার বিস্কুট, কিন্তু স্বাদটা শহরের কোনো ক্যাফেতেই পাওয়া যায় না। টিনের একটা ছাপড়া, ভিতরে দুটো বেঞ্চ। কেটলি কালো হয়ে গেছে, চিনির কৌটা খোলা। দোকানি চাচা তাড়াহুড়ো করে না, আস্তে আস্তে চা ঢালে। বিস্কুটটা শক্ত, পাঁচ টাকার এনার্জি বিস্কুট – কিন্তু ওই বালির উপর বসে, যমুনার হাওয়া খেতে খেতে ওটাই মনে হয় অমৃত।
এমনই এক মায়াবী পরিবেশে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের পৌলী এলাকায় যমুনার চরে ‘শরতের আড্ডা’র আয়োজন করে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার।
বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের সদস্যরা বই পড়ার পাশাপাশি অংশ নেয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে, তারই অংশ হিসেবে এই আয়োজন। দিনব্যাপী এই আড্ডায় ছিল গান, কবিতা আবৃত্তি ও সাহিত্য আড্ডার পাশাপাশি নৌকা ভ্রমণ, মাছ ধরা, কাশবনে ঘুরে বেড়ানো। সারা দিন আনন্দমুখর সময় কাটান সদস্যরা।
আয়োজকরা জানান, আবহমান বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য, প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে পারস্পরিক ভাববিনিময় এবং আনন্দমুখর সহমর্মিতার পরিবেশ নির্মাণই এই আড্ডার উদ্দেশ্য।
প্রসঙ্গত, “এসো বই পড়ি নিজেকে আলোকিত করি” স্লোগানকে ধারণ করে ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের চৌরাকররা গ্রামে গড়ে ওঠে ‘বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার’।
এম.কন্ঠ/ ২২ অক্টোবর ২০২৬/এম. টি





















