একসময়ের ক্রীড়া নগরী টাঙ্গাইলের ক্রীড়াঙ্গনকে ফিরিয়ে আনবো-টুকু
‘টাঙ্গাইলকে একসময় ক্রীড়া নগরী বলা হতো,সেই টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য ক্রীড়াক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনবো।’ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল শহীদ মিনার চত্বরে বিন্দুবাসিনী ক্রিকেট টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ কথা বলেছেন।
তিনি আরো বলেন, আমাদের সচেতন থাকতে হবে, যাতে কারো সন্তান মাদকের দিকে বাধিত না হয়। মাদক ভবিষ্যৎ প্রজম্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সেই ভবিষ্যৎ প্রজম্মকে যদি গড়ে তুলতে হয়, অবশ্যই এই ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। অবশ্যই টাঙ্গাইল মাদকমুক্ত শহর হবে’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৪ এপ্রিল সারা বাংলাদেশে কৃষি কার্ড বিতরন অনুষ্ঠান হবে। তবে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি কার্ড বিতরন অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন। স্থানীয় পৌরউদ্যানে বৈশাখী মেলারও উদ্ধোন করবেন। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের নামীদামী ব্যান্ড শিল্পী ছাড়াও একক শিল্পী বেবী নাজনীনসহ অনেকেই আসবে। আপনারা সবাই আমন্ত্রিত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তরিকুল ইসলাম খান ঝলক, বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল রহমান শফিক, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব জাহিদ হোসেন মালা, জেলা ছাত্র দলের আহবায়ক দুর্জয় হোড় শুভ, বিন্দুবাসিনী স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র আনিসুল করিম খান ইমন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সালেহ্ মোহাম্মদ শাফী ইথেন।
বিন্দুবাসিনী এসএসসি ১৯৯৭ ব্যাচের আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী বিন্দুবাসিনী সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ বৃষ্টির কারনে অনুপযুক্ত থাকায় বিকল্প ভেন্যু বেপারীপাড়া এতিমখানা মাঠে সকালে দুটি ফাইনালে সিনিয়র গ্রুপে চ্যালেঞ্জার ১৯৯৭ ব্যাচ এবং জেনারেল গ্রুপে দূরন্ত ২০১৬ব্যাচ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
সকালের সিনিয়র গ্রুপে ১ম ফাইনালে চ্যালেঞ্জার ১৯৯৭ ব্যাচ প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১১৩ রান করে। দলের পক্ষে নোমান সর্বোচ্চ ৩৪ রান করে টাইম আউট হয়। এছাড়া হিরা ৩০ রান করে। বোলিংয়ে রাফেল,ইয়াসিন ও আউলিয়া প্রত্যেকে ১টি করে উইকেট দখল করে। জবাবে আবর্তন ৯৯ নির্ধারিত ১০ ওভারে ৫ উইকেটে ৯৪ রান করলে ১৯ রানে চ্যালেঞ্জার বিজয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। দলের পক্ষে সুকান্ত ২৫, সুমন ২৪, আরাফাত ১৮ রান করে। বোলিংয়ে বিজয়ী দলের ডলার ৫রানে ২টি উইকেট দখল করে।ম্যান অব দ্যা ম্যাচ চ্যালেঞ্জার ৯৭ এর ডলার এবং সেরা খেলোয়াড় আবর্তন ৯৯ এর আরাফাত রহমান।
দিনের দ্বিতীয় জেনারেল গ্রুপের ফাইনালে দূর্বার ২০১৭ ব্যাচ প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ১২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান করে। দলের পক্ষে নাহিদ সর্বোচ্চ ৭৮ রান করে। বোলিংয়ে রাব্বী ১৩ রানে ২টি উইকেট দখল করে। জবাবে ব্যাচ দূরন্ত ১৬ ব্যাটিং করতে নেমে ১১.১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রান করে ৭ উইকেটে জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হয়। দলের পক্ষে রাব্বী অপরাজিত ৬১, রিয়াদ ৩৩ ও লামা অপরাজিত ৩০ রান করে। বোলিংয়ে বিজিত দলের রুবু ২৬ রানে ২টি উইকেট দখল করে। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ রাব্বী এবং সেরা খেলোয়াড় স্বপ্ন। খেলায় আম্পায়ার ছিলেন উত্তম গৌড় ও মেহেদী হাসান খান রাসেল এবং স্কোরার আবু।
উল্লেখ্য বিন্দুবাসিনী ক্রিকেট প্রথম বারের মতো আয়োজন করে আবর্তন ৯৯, দ্বিতীয়বার বিন্দু ১৯৯৬ ব্যাচ এবং তৃতীয়বার আয়োজন করে ১৯৯৪ ব্যাচ। বিন্দুবাসিনী ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অংশগ্রহনকারী বিভিন্ন ব্যাচের সাবেক ছাত্রদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমবারে যে রকম জমজমাট আয়োজন হয়েছিলো। সে তুলনায় দিনে দিনে টুর্নামেন্টের মানটা কাংখিত হচ্ছে না। আধুনিকতায় ছোঁয়ায় দিনে দিনে আরো সুন্দরের পরিবর্তে খেলার মাঠে কিছুটা ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছে এবারের বিন্দুবাসিনী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। তারা ভবিষ্যতে আয়োজন আরো ভালো দেখতে চান।’
যদিও এবার ব্যান্ড মিউজিকের কনসার্টের মাধ্যমে পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানটি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে, যা বিন্দুবাসিনীর ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজনে স্বরনীয় হয়ে থাকবে।
এম.কন্ঠ/ ০৪ এপ্রিল /এম. টি















