জাতীয় সংসদ নির্বাচন, টাঙ্গাইল-৮ আসন
বিএনপি প্রার্থী আযমের চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাসেলের নগদ টাকা ১৭ গুণ বেশি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনে ৩৭ প্রার্থীর মনোনয়ন গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। নানা ত্রুটির কারনে ২৮ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন।
প্রার্থীদের পেশ করা হলফনামা থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানের চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের নগদ টাকা প্রায় ১৭ গুণ বেশি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল বছরে তিন কোটি টাকার বেশি সম্মানী পান। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসে বিদেশি নাগরিকত্ব ছেড়েছেন তিনি। বিএনপি প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেশি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলার বিষয়ে উল্লেখ করেছেন। একটি মামলা খারিজ হয়েছে অপর মামলা থেকে অব্যহতি পেয়েছেন। তিনি স্নাতক পাস করেছেন এবং পেশা ব্যবসা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারমুডার নাগরিকত্ব ছেড়েছেন। তার আয়ের উৎস বাড়ি ভাড়া থেকে এক কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। শেয়ার সঞ্চয়পত্র থেকে আয় তিন কোটি ৯০ লাখ ৪১ হাজার ৬২১ টাকা। নিজস্ব ব্যবসা থেকে সম্মানী পান দুই কোটি ৯৬ লাখ ১৬ হাজার এবং ব্যাংকের বোর্ড মিটিং থেকে পান এক লাখ ৭০ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে নিজের নামে নগদ তহবিলে রয়েছে ১২ কোটি ৯১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৫, স্ত্রীর নামে সাত কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৩। ব্যাংকে জমা রয়েছে ৩১ লাখ ১৫ হাজার ২১৫ টাকা, স্ত্রীর নামে রয়েছে তিন কোটি ৭০ লাখ ৫১ হাজার ৭৯৪ টাকা। বন্ড ও কোম্পানী শেয়ার অর্জনকালীন বর্তমান মূল্য ৭০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তার নিজের নামে কোন গাড়ি নেই, স্ত্রীর নামে রয়েছে তিন কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার টাকার গাড়ি। এক কোটি ৬০ লাখ টাকা মূল্যের ৮০ তোলা স্বর্ণ রয়েছে।
এছাড়া স্ত্রীর নামে রয়েছে তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৮০ ভরি স্বর্ণ ও ৪ সেট হিরা। ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী রয়েছে ৭৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৩৫ টাকার। স্ত্রীর রয়েছে ২৫ লাখ টাকার। ২০ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে নিজের নামে, স্ত্রীর রয়েছে পাঁচ লাখ টাকার। তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের তার একটি পিস্তল ও একটি শটগান রয়েছে। উত্তরাধীকার সূত্রে তিনি চার কোটি ৫৬ লাখ ৬৪ হাজার ১৪ টাকার সম্পত্তি রয়েছে, স্ত্রীর রয়েছে ৮ কোটি ৫৯ রাখ ৬৭ হাজার ৮৪৮ টাকার সম্পত্তি। অস্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্য ৮৯ কোটি ৯২ লাখ ৯৬ হাজার ২২০ টাকা। স্ত্রীর ৭০ কোটি ৪০ লাখ ৫০৫ টাকা।
স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে ৬৭ লাখ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা মূল্যের ৫৪৬ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ৩৫৩.৫০ শতাংশ জমি রয়েছে। নিজের নামে ১২ কোটি এক লাখ ৪৯ হাজার ৬৬০ টাকা মূল্যের ৩০৮৮.২৯ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে। স্ত্রীর রয়েছে তিন কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ১৩৭.১০ শতাংশ অকৃষি জমি। নিজের নামে ১৪ কোটি ৬১ লাখ ২ হাজার ৯৮৩ টাকা মূল্যের ঢাকার বারিধারা ও সখীপুরে দুটি বাড়ি রয়েছে, স্ত্রীর নামে ১৪ কোটি ৪১ লাখ ১৬ হাজার ৫৪৯ টাকা ৪টি বাড়ি এবং ঢাকায় তিনটি বাড়ি চার কোটি ৯৯ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের।
এছাড়াও স্ত্রীর নামে ৭টি বাড়ি রয়েছে- যার মূল্য ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৩১ হাজার ১০০ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন বর্তমান মূল্য ৬৪ কোটি ৫৯ লাখ ১৭ হাজার ৩৮৬ টাকা। স্ত্রীর নামে ৫৮ কোটি ২৪ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৮ টাকা। ২০২৫-২৬ সালের অর্থ বছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন তিন কোটি ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ২১৭ টাকা। স্ত্রী দিয়েছেন তিন কোটি ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৪১ টাকা।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে ১০টি মামলার মধ্যে দুটি মামলা আদেশের অপেক্ষোয় রয়েছে। একটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। অপর সাতটি মামলা থেকে তিনি অব্যহতি পেয়েছেন। হলফনামায় তিনি আয়ের উৎসের ঘরে কিছুই উল্লেখ করেননি।
অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তিনি নগদ তহবিল ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর ১১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। ঢাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে ৬ লাখ ২২ হাজার ১৪৬ টাকা, অগ্রণী ব্যাংকে স্ত্রীর জমা রয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ১৩৩ টাকা। বন্ড ও শেয়ার রয়েছে ১১ লাখ ১৯ হাজার ৯১০ টাকা, স্ত্রীর রয়েছে ১১ লাখ ৯৯৬ টাকা। ব্যাংকে স্থায়ী আমানত রয়েছে ৫৪ লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকা, স্ত্রীর রয়েছে ৮৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ৪৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি হার্ড জীপ গাড়ি ও ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেটকার রয়েছে। ২০ লাখ টাকা মূল্যের ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে।
এছাড়া স্ত্রীর ২১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। চার লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য এক কোটি ৭০ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর এক কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদ হিসেবে কালিয়াকৈরে স্ত্রীর নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ৯২ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে। সখীপুরের ঘেচুয়ায় ৪০ লাখ ৯২ হাজার টাকা মূল্যের ২৬৩ শতাংশ জমি রয়েছে। পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের ৩ কাঠা অকৃষি জমির উপর জাইকা ভিলেজ রয়েছে। নিজের নামে ঢাকার বিজয়নগরে ৩০ লাখ ৮৭ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের ২৫১৭ বর্গফুটের দুটি বাণিজ্যক ভবন রয়েছে।
স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ টাকার ২৭৭০ বর্গফুটের গুলশানে একটি ফ্ল্যাট, ৩১০০ বর্গফুটের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট রয়েছে- যার মুল্যে ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। নিজের নামে ১০ লাখ টাকার ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন থেকে বর্তমান মূল্য দেখিয়েছেন দুই কোটি ৭০ লাখ টাকা, স্ত্রীর ১৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। দায় হিসেবে ৫৬ লাখ এবং স্ত্রীর এক কোটি ৫৩ লাখ উল্লেখ করেছেন। তিনি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে আয়কর দিয়েছেন ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭২ টাকা। স্ত্রী দিয়েছেন ৭ লাখ ৭৮ হাজার ২৮২ টাকা।
এম.কন্ঠ/ ০৫ জানুয়ারী /এম. টি
























