ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
জাহাঙ্গীর স্মৃতি সেবাশ্রম বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা গোপালপুরে মাদ্রাসা সুপারকে হত্যার অভিযোগ ঘাটাইলে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার, গ্রেফতার দুই প্রাণিসম্পদ দেশে আমিষের চাহিদা পূরণ করছে-ডা. বেগম শামসুন্নাহার আহম্মদ গোপালপুরে যাত্রীর বিরুদ্ধে ইজিবাইক চালককে গলাটিপে হত্যার অভিযোগ টস ভাগ্যে বিজয়ী হয়ে বিন্দুবাসিনী স্কুল চ্যাম্পিয়ন ঘাটাইলে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ধান নষ্ট, বন্ধ করে দেওয়া হলো ভাটা কালিহাতীতে আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ঘাটাইলে ইট ভাটার ধোয়ায় ক্ষেতের ধান নষ্ট হওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা টাঙ্গাইলে তীব্র তাপপ্রবাহে পোল্ট্রি খামারিদের প্রশিক্ষণ

টাঙ্গাইলে শ্বশুড়বাড়ীতে নাটোরের ট্রাক চালক আলমকে হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ১০:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫

টাঙ্গাইলের সখীপুরের কালিদাস বল্লাচালা এলাকায় আলম ফকির (৩০) নামে এক ট্রাক চালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুড়বাড়ীর সদস্যদের বিরুদ্ধে। ছেলে হত্যার বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে তার বাবা। আলম ফকির নাটোরের গুরুদাসপুর নওপাড়া এলাকার আকছেদ ফকিরের ছেলে।

এ ঘটনায় সখীপুর থানায় হত্যা মামলা না নেয়ায় আকছেদ ফকির বাদি হয়ে ১৩ জানুয়ারি টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল সখীপুর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কালিদাস বল্লাচালা এলাকার মৃত শাজাহান মিয়ার ছেলে মো. বাবুল মিয়া (৪৭), তার ছেলে মো. রাকিব (২১), আজাহার মিয়ার ছেলে মো. দুলাল মিয়া, মো. বাবুল মিয়ার মেয়ে লতিফা আক্তার ফাতেমা, দুলু মিয়ার ছেলে মো. শাহাদত মিয়া, মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. সিরাজ মিয়া, দুলাল মিয়ার মেয়ে লিপি আক্তার ও মৃত শাজাহান মিয়ার স্ত্রী রিজিয়া বেগমকে বিবাদী করা হয়েছে।

আকছেদ ফকির জানান, তিন মাস আগে বল্লাচালা এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে লতিফা আক্তারের সাথে প্রেম করে তার ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিষয়টি লতিফার মা মেনে নিলেও বাবুল প্রবাসে থাকায় মেনে নেয়নি। বাবুল মিয়া প্রবাস থেকে দেশে আসায় গত ৬ জানুয়ারি আলম তার স্ত্রী লতিফা আক্তার ফাতেমাকে নিয়ে শ^শুড়ীবাড়ী কালিদাস বল্লাচালা এলাকায় বেড়াতে যান। ৭ জানুয়ারি আলম নাটোর গ্রামের বাড়ি চলে যায়। ৮ জানুয়ারি আলম তার স্ত্রীকে স্বর্ণের অলংকার কিনে দেয়ার জন্য বাড়ি থেকে তিন লাখ টাকা নিয়ে শ^শুড়বাড়ী যান। ৯ জানুয়ারি আলমের মৃত্যুর সংবাদ পান তার বাবা আকশেদসহ পরিবারের সদস্যরা।

আকশেদ ফকির বলেন, আমার ছেলেও আগে বিয়ে করেছিলো, মেয়ে লতিফা আক্তারেও আগে বিয়ে হয়েছিলো। তিন মাস আগে তারা প্রেম করে বিয়ে করে। এটা আমার ছেলের শ^শুড় মেনে না নিয়ে কৌশলে ডেকে এনে তিনিসহ সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যা করেছে। আমার ছেলের হাতেসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে আমি যাতে মামলা না করি সে জন্য বাবুল বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য গোলামী আল মামুনের মাধ্যমে এক লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ সাদা কাগজে টিপসই নেয়। পরে দেখি সেখানে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমার একমাত্র ছেলে আলমকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাপী আল মামুন বলেন, আমি শুধু পুলিশ লাশের বিষয়টি অবগত করেছি। তারপর আমি কিছু জানি না।
এ বিষয়ে আইনজীবী তোফায়েল আহমেদ বলেন, মামলাটি আদালতে দায়েরের পর বিচারক তদন্তের জন্য সখীপুর থানা পুলিশকে দায়িত্ব দিয়েছে।

সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, আলম কালিদাস বল্লাচালা এলাকায় বাবুলের মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করতেছিলো। বিয়ে ঠিক না হওয়ায় আলম বাইরে গিয়ে কোন কিটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাই থানায় অপমৃত্যুর মামলা নেয়া হয়েছে। তার শরীরের কোথাও আঘাতে চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যা বিষয়ে আসলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এম.কন্ঠ/ ২৩ জানুয়ারী /এম.টি

নিউজটি শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলে শ্বশুড়বাড়ীতে নাটোরের ট্রাক চালক আলমকে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশ: ১০:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৫

টাঙ্গাইলের সখীপুরের কালিদাস বল্লাচালা এলাকায় আলম ফকির (৩০) নামে এক ট্রাক চালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুড়বাড়ীর সদস্যদের বিরুদ্ধে। ছেলে হত্যার বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে তার বাবা। আলম ফকির নাটোরের গুরুদাসপুর নওপাড়া এলাকার আকছেদ ফকিরের ছেলে।

এ ঘটনায় সখীপুর থানায় হত্যা মামলা না নেয়ায় আকছেদ ফকির বাদি হয়ে ১৩ জানুয়ারি টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিসিয়াল সখীপুর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কালিদাস বল্লাচালা এলাকার মৃত শাজাহান মিয়ার ছেলে মো. বাবুল মিয়া (৪৭), তার ছেলে মো. রাকিব (২১), আজাহার মিয়ার ছেলে মো. দুলাল মিয়া, মো. বাবুল মিয়ার মেয়ে লতিফা আক্তার ফাতেমা, দুলু মিয়ার ছেলে মো. শাহাদত মিয়া, মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. সিরাজ মিয়া, দুলাল মিয়ার মেয়ে লিপি আক্তার ও মৃত শাজাহান মিয়ার স্ত্রী রিজিয়া বেগমকে বিবাদী করা হয়েছে।

আকছেদ ফকির জানান, তিন মাস আগে বল্লাচালা এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে লতিফা আক্তারের সাথে প্রেম করে তার ছেলে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিষয়টি লতিফার মা মেনে নিলেও বাবুল প্রবাসে থাকায় মেনে নেয়নি। বাবুল মিয়া প্রবাস থেকে দেশে আসায় গত ৬ জানুয়ারি আলম তার স্ত্রী লতিফা আক্তার ফাতেমাকে নিয়ে শ^শুড়ীবাড়ী কালিদাস বল্লাচালা এলাকায় বেড়াতে যান। ৭ জানুয়ারি আলম নাটোর গ্রামের বাড়ি চলে যায়। ৮ জানুয়ারি আলম তার স্ত্রীকে স্বর্ণের অলংকার কিনে দেয়ার জন্য বাড়ি থেকে তিন লাখ টাকা নিয়ে শ^শুড়বাড়ী যান। ৯ জানুয়ারি আলমের মৃত্যুর সংবাদ পান তার বাবা আকশেদসহ পরিবারের সদস্যরা।

আকশেদ ফকির বলেন, আমার ছেলেও আগে বিয়ে করেছিলো, মেয়ে লতিফা আক্তারেও আগে বিয়ে হয়েছিলো। তিন মাস আগে তারা প্রেম করে বিয়ে করে। এটা আমার ছেলের শ^শুড় মেনে না নিয়ে কৌশলে ডেকে এনে তিনিসহ সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যা করেছে। আমার ছেলের হাতেসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে আমি যাতে মামলা না করি সে জন্য বাবুল বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য গোলামী আল মামুনের মাধ্যমে এক লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ সাদা কাগজে টিপসই নেয়। পরে দেখি সেখানে অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমার একমাত্র ছেলে আলমকে যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাপী আল মামুন বলেন, আমি শুধু পুলিশ লাশের বিষয়টি অবগত করেছি। তারপর আমি কিছু জানি না।
এ বিষয়ে আইনজীবী তোফায়েল আহমেদ বলেন, মামলাটি আদালতে দায়েরের পর বিচারক তদন্তের জন্য সখীপুর থানা পুলিশকে দায়িত্ব দিয়েছে।

সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, আলম কালিদাস বল্লাচালা এলাকায় বাবুলের মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করতেছিলো। বিয়ে ঠিক না হওয়ায় আলম বাইরে গিয়ে কোন কিটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তাই থানায় অপমৃত্যুর মামলা নেয়া হয়েছে। তার শরীরের কোথাও আঘাতে চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যা বিষয়ে আসলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এম.কন্ঠ/ ২৩ জানুয়ারী /এম.টি