ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ বছরের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে মতবিনিময় সভা টাঙ্গাইলে বাড়িসহ জমির দখল বুঝে পেলেন রুবেল নাগরপুরে মাটির নিচ থেকে কলেজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার কালিহাতীতে মাদকবিরোধী অভিযান, তিনজনের কারাদণ্ড গোপালপুরে নেশাজাতীয় দ্রব্য মেশানো খাবার খেয়ে ৭ জন হাসপাতালে সিসা কারখানা বন্ধের দাবিতে কালিহাতী থানা ঘেরাও টাঙ্গাইলে সর্বদা নির্ভীক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গাছের চারা বিতরণ টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন কেন্দ্রীয় বিএনপির হ-য-ব-র-ল, জেলায় ব্যক্তি বলয়, সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা ছাদু বাসাইলে নন্দন বিলে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

কালিহাতীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়, অভিযোগে তদন্তে দুদক

তারেক আহমেদ :
প্রকাশ: ১২:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নারান্দিয়া টি. আর. কে. এন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে গত সাড়ে ১১ বছর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে তিনি কলেজের বিভিন্ন খাত থেকে ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও চরম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে সব অভিযোগ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।

স্কুল এন্ড কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এবার তদন্ত করেছে টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার দিনব্যাপী টাঙ্গাইল জেলা দুদকের উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে নথিপত্র যাচাই, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।

বুধবার সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, নারান্দিয়া টি.আর.কে.এন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে আঁতাত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোলাম মোস্তফা আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চাকরির বিষয় গোপন করে এবং ভূঞাপুর লোকমান ফকির ডিগ্রী কলেজের নিয়োগ যোগদান পত্রের তারিখ অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে ২০১৪ সালে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন।

অভিযোগ রয়েছে যোগাদানের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার সময়কালে দুর্নীতিতে জড়িয়ে নারান্দিয়া স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠানে থেকে ২১ টি খাত থেকে ৩৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৫ শত ৪৮ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সকাল ১১ টা থেকে শুরু করে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত তদন্ত করে দুদকের উপ পরিচালক ফখরুল ইসলাম। তবে তদন্ত শেষে অভিযোগকারী কয়েকজন শিক্ষক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, দুর্নীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে যাচাই না করেই তদন্ত দল ফিরে গেছে। এতে তারা সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, অভিযোগের প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অভিযোগকারি সহকারি অধ্যাপক আব্দুল সালাম তালুকদার বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২১ টি খাতে তার আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমান ৩৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৫ শত ৪৮ টাকা। দুদকে অভিযোগ দেয়ার পর দুদকের উপ পরিচালক তদন্তে আসেন।

কলেজের সহকারি অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ৫ আগষ্টের পর অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা পালিয়ে যাবার পর সকল শিক্ষক কর্মচারি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি মিলে আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। আমি গত ১১ মাস দ্বায়িত্ব পালনের পর তিনি আবার তবিয়তে বহাল হয়ে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয়। গত ১০ মাস যাবৎ আমার বেতন বন্ধ রয়েছে।

একই কলেজের সহকারি অধ্যাপক সুমির কুমাড় মোদক অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার বেতন বন্ধ করে দেয়। আমি এখনো সে বেতন পাই নাই। বেতন বন্ধ করলেও আমি পিছপা হবো না। আমি প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। দুদকের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেন এই শিক্ষক।

অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা ২০১৪ সালে আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চাকরির বিষয় গোপন করেন এবং ভূঞাপুর লোকমান ফকির ডিগ্রী কলেজের নিয়োগ যোগদান পত্রের তারিখ অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন।

এর আগে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে চাকরিতে বয়স জালিয়াতি, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, টিউশন ফির টাকা আত্মসাৎ, ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগে শিক্ষা অধিদপ্তরও পৃথকভাবে তদন্ত করে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না।

টাঙ্গাইল জেলা দুদকের উপ পরিচালক ফখরুল ইসলাম বলেন. তদন্ত চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

 

এম.কন্ঠ/ ০১  জুলাই /এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

কালিহাতীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়, অভিযোগে তদন্তে দুদক

প্রকাশ: ১২:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নারান্দিয়া টি. আর. কে. এন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে গত সাড়ে ১১ বছর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে তিনি কলেজের বিভিন্ন খাত থেকে ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার, সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি ও চরম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তবে সব অভিযোগ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।

স্কুল এন্ড কলেজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এবার তদন্ত করেছে টাঙ্গাইল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার দিনব্যাপী টাঙ্গাইল জেলা দুদকের উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে নথিপত্র যাচাই, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।

বুধবার সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, নারান্দিয়া টি.আর.কে.এন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে আঁতাত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোলাম মোস্তফা আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চাকরির বিষয় গোপন করে এবং ভূঞাপুর লোকমান ফকির ডিগ্রী কলেজের নিয়োগ যোগদান পত্রের তারিখ অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে ২০১৪ সালে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন।

অভিযোগ রয়েছে যোগাদানের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার সময়কালে দুর্নীতিতে জড়িয়ে নারান্দিয়া স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠানে থেকে ২১ টি খাত থেকে ৩৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৫ শত ৪৮ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সকাল ১১ টা থেকে শুরু করে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত তদন্ত করে দুদকের উপ পরিচালক ফখরুল ইসলাম। তবে তদন্ত শেষে অভিযোগকারী কয়েকজন শিক্ষক অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, দুর্নীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে যাচাই না করেই তদন্ত দল ফিরে গেছে। এতে তারা সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, অভিযোগের প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অভিযোগকারি সহকারি অধ্যাপক আব্দুল সালাম তালুকদার বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ২১ টি খাতে তার আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমান ৩৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৫ শত ৪৮ টাকা। দুদকে অভিযোগ দেয়ার পর দুদকের উপ পরিচালক তদন্তে আসেন।

কলেজের সহকারি অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ৫ আগষ্টের পর অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা পালিয়ে যাবার পর সকল শিক্ষক কর্মচারি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি মিলে আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। আমি গত ১১ মাস দ্বায়িত্ব পালনের পর তিনি আবার তবিয়তে বহাল হয়ে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয়। গত ১০ মাস যাবৎ আমার বেতন বন্ধ রয়েছে।

একই কলেজের সহকারি অধ্যাপক সুমির কুমাড় মোদক অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার দূর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার বেতন বন্ধ করে দেয়। আমি এখনো সে বেতন পাই নাই। বেতন বন্ধ করলেও আমি পিছপা হবো না। আমি প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। দুদকের তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেন এই শিক্ষক।

অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা ২০১৪ সালে আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের চাকরির বিষয় গোপন করেন এবং ভূঞাপুর লোকমান ফকির ডিগ্রী কলেজের নিয়োগ যোগদান পত্রের তারিখ অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন।

এর আগে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে চাকরিতে বয়স জালিয়াতি, ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, টিউশন ফির টাকা আত্মসাৎ, ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগে শিক্ষা অধিদপ্তরও পৃথকভাবে তদন্ত করে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না।

টাঙ্গাইল জেলা দুদকের উপ পরিচালক ফখরুল ইসলাম বলেন. তদন্ত চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

 

এম.কন্ঠ/ ০১  জুলাই /এম. টি