ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিহাতীতে জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের টিনের ঘরে চলছে পাঠদান

তারেক আহমেদ :
প্রকাশ: ০১:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নারান্দিয়া ইউনিয়নে আনোয়ারা হাসেম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরে নানা সংকট নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। আর সেই ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো পরীক্ষণ যন্ত্রপাতি। ফলে সঠিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদ ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভাই তারা মিয়া জানান, বিদ্যালয়টির টিনের চালাগুলো মরিচা ধরে ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং মাটির মেঝে কাঁদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া স্কুলের খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। আর শিক্ষার্থীরা যেখানে ক্লাস করছে, সেটি জরাজীর্ণ টিনের ঘর। আর সেই ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিন দেখা যায়,উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের চরনগরবাড়ী এলাকায় ১৯৯৫ সালে শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আবু হাসেম স্থানীয়দের সহায়তায় আনোয়ারা হাসেম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেন।২০০১ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করা হয়।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই টিনের ঘর দিয়ে শুরু করে শিক্ষা কার্যক্রম। এখনো ওই ঘরেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয়ের ঘরগুলো পরিত্যক্ত হওয়ায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন না থাকায় পূর্বের টিনের ঘরেই ঝুঁকির মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রচণ্ড সূর্যের তাপে সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত টিনশেড ঘরের ক্লাসে গরমে আমরা প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ি। আর বৃষ্টি হলেই টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় বই-খাতা। বৃষ্টির পানিতে কাঁচা ফ্লোরের শ্রেণিকক্ষের মধ্যে বসে থাকাও অনেক কষ্টকর ব্যাপার হয়ে পড়ে। খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় বৃষ্টি পানিতে জমে থাকায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। আমরা দ্রুত স্কুলের জন্য একটি পাকা ভবনের দাবি জানাচ্ছি সরকারের কাছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত নারান্দিয়া ইউনিয়নের চরনগরবাড়ী এ উচ্চ বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। এছাড়া বিজ্ঞানাগারের পরীক্ষণ যন্ত্রাদির অভাবে সংশ্লিষ্ট শাখায় ব্যবহারিক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষার্থীরা যেখানে ক্লাস করছে, সেটি জরাজীর্ণ টিনের ঘর। ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরের কারণে আমাদের ছেলে মেয়েদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে হচ্ছে। সরকার যদি নতুন ভবনের ব্যবস্থা না করে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাবে।

আনোয়ারা হাসেম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তামিম আকতার প্রামাণিক বলেন, বিদ্যালয়ের টিনের ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছি। এতে করে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার মান ব্যাহত হচ্ছে এবং ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

আনোয়ারা হাসেম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, ভবন সংকটের কারণে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার মান ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের নানা সংকট নিয়ে অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই আমরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম আমির হোসেন এবিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তার জানান, আনোয়ারা হাসেম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে আবেদন করতে হবে। ভবন নির্মাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

 

 

এম.কন্ঠ/ ২০ অগাস্ট /এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

কালিহাতীতে জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের টিনের ঘরে চলছে পাঠদান

প্রকাশ: ০১:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নারান্দিয়া ইউনিয়নে আনোয়ারা হাসেম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরে নানা সংকট নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। আর সেই ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো পরীক্ষণ যন্ত্রপাতি। ফলে সঠিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সহকারী শিক্ষক আব্দুল মজিদ ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভাই তারা মিয়া জানান, বিদ্যালয়টির টিনের চালাগুলো মরিচা ধরে ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং মাটির মেঝে কাঁদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। এ ছাড়া স্কুলের খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। আর শিক্ষার্থীরা যেখানে ক্লাস করছে, সেটি জরাজীর্ণ টিনের ঘর। আর সেই ঘরেই ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

সরেজমিন দেখা যায়,উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের চরনগরবাড়ী এলাকায় ১৯৯৫ সালে শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব আবু হাসেম স্থানীয়দের সহায়তায় আনোয়ারা হাসেম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেন।২০০১ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করা হয়।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই টিনের ঘর দিয়ে শুরু করে শিক্ষা কার্যক্রম। এখনো ওই ঘরেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয়ের ঘরগুলো পরিত্যক্ত হওয়ায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন না থাকায় পূর্বের টিনের ঘরেই ঝুঁকির মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রচণ্ড সূর্যের তাপে সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত টিনশেড ঘরের ক্লাসে গরমে আমরা প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ি। আর বৃষ্টি হলেই টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে ভিজে যায় বই-খাতা। বৃষ্টির পানিতে কাঁচা ফ্লোরের শ্রেণিকক্ষের মধ্যে বসে থাকাও অনেক কষ্টকর ব্যাপার হয়ে পড়ে। খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় বৃষ্টি পানিতে জমে থাকায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। আমরা দ্রুত স্কুলের জন্য একটি পাকা ভবনের দাবি জানাচ্ছি সরকারের কাছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত নারান্দিয়া ইউনিয়নের চরনগরবাড়ী এ উচ্চ বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী পাঠদান করছে। এছাড়া বিজ্ঞানাগারের পরীক্ষণ যন্ত্রাদির অভাবে সংশ্লিষ্ট শাখায় ব্যবহারিক জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়রা জানান, শিক্ষার্থীরা যেখানে ক্লাস করছে, সেটি জরাজীর্ণ টিনের ঘর। ঝুঁকিপূর্ণ টিনের ঘরের কারণে আমাদের ছেলে মেয়েদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে হচ্ছে। সরকার যদি নতুন ভবনের ব্যবস্থা না করে এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাবে।

আনোয়ারা হাসেম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তামিম আকতার প্রামাণিক বলেন, বিদ্যালয়ের টিনের ঘরগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছি। এতে করে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার মান ব্যাহত হচ্ছে এবং ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

আনোয়ারা হাসেম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, ভবন সংকটের কারণে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার মান ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের নানা সংকট নিয়ে অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই আমরা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম আমির হোসেন এবিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তার জানান, আনোয়ারা হাসেম মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে আবেদন করতে হবে। ভবন নির্মাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

 

 

এম.কন্ঠ/ ২০ অগাস্ট /এম. টি