মোহামেডানে সৌরভ ছড়িয়ে সৌরভ দেওয়ান এখন জাতীয় দলে
সৌরভ অর্থ সুগন্ধময় আর সেই সুমিষ্ট গন্ধের সৌরভ ছড়িয়ে টাঙ্গাইলের ফুটবল রত্ন মোহামেডানে সৌরভ ছড়িয়ে সৌরভ দেওয়ান এখন বাংলাদেশ জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন।
মালদ্বীপের চারজাতি টুর্নামেন্টের জন্য প্রাথমিক দলে ডাক পেয়েছেন টাঙ্গাইল সদরের পোড়াবাড়ী সংলগ্ন বড় বেলতা গ্রামের ছেলে সরকারী এম এম আলী কলেজের অনার্স পড়ুয়া সৌরভ দেওয়ান। বেলতা গ্রামের জব্বার দেওয়ানের ছেলের ঘরের নাতি সৌরভ দেওয়ানের ছোটভাই আদনান দেওয়ান প্রান্তও কিন্তু উঠে আসছে ফুটবলের মাঠ কাঁপাতে।
২০০০ সালের ২৬ মার্চ বড় বেলতা গ্রামের জন্ম নেওয়া সৌরভ দেওয়ানের ফুটবলে হাতে খড়ি ২০১৪ সালে যখন সে নবম শ্রেনীর ছাত্র। বড় বেলতার বড় মাঠে সৌরভ দেওয়ান প্রতিবেশী ফুটবলারদের খেলা দেখেই মাঠে নেমেইে নিজের প্রতিভা তুলে ধরেন। নিখুঁত পায়ের কাজ খেলা দেখে এলাকাবাসী প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ২০১৫-১৬ সালে টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে ফুটবল লীগের রেইনবো ক্লাবের হয়ে লীগে ১০টি গোল করে আলোচনায় আসেন। তার চমৎকার ফুটবল সেন্স, বিপক্ষ গোলবারে প্রথম সুযোগেই বল জালে পাঠিয়ে দেওয়া তার অভ্যাসকে দ্রুত রপ্ত করেন।
টাঙ্গাইল পৌরসভার হয়ে অনুর্দ্ধ-১৭ ফুটবলে চমৎকার পারফরমেন্স প্রদর্শন করলে ঢাকা থেকে আগত ঢাকা মোহামেডানের কর্মকর্তাদের নজরে পড়েন। পেশাদার ফুটবলে লীগের দ্বিতীয় স্তর খেলোয়াড় তৈরীর (অনুর্দ্ধ-১৮) যুব ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহনের জন্য মোহামেডানের ট্রায়ালে অংশগ্রহন করেন এবং বাছাই প্রক্রিয়া যোগ্যতা বলে টিকে সরাসরি মোহামেডানের অধিনায়ক নির্বাচিত হন।

টুর্নামেন্টে তার দল মোহামেডান সেমিফাইনালে উঠে বসুন্ধরার নিকট হেরে বাদ পড়ে যায়। সৌরভ দেওয়ান ৩ ম্যাচে ২টি গোল করেন। সারা বিশে^ করোনার থাবায় ফুটবল খেলায় ছন্দপতন ঘটলে তিনি ২০২০ সালে প্রথম বিভাগের ওয়ারী স্পোটিং ক্লাবে খেলে ১১টি গোল করেন। ২০২১-২২ সেশনে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়ে ১৭টি গোল করার পর পুনরায় ২৩-২৪ সেশনে মোহামেডানে বাইন্ডিং খেলোয়াড় হিসেবে চলে আসেন। টানা তিন বছর সুযোগের অপেক্ষায় থেকেছেন এবং সুযোগ পেলেই গোল করার দক্ষতা দেখিয়েছেন। মোহামেডানে বিদেশী স্ট্রাইকারদের ভিড়ের কারনে সৌরভ দেওয়ান কয়েকটি ম্যাচে বদলী খেলোয়াড় হিসেবে খেলার সুযোগ পেয়ে ২টি করেন। মোহামেডানের কোচ আলফাজ পরিবর্তন হলে সহকারী কোচ আব্দুল কাইয়ুম সেন্টু সৌরভ দেওয়ানের উপর বিশ্বাস রাখেন। সৌরভ দেওয়ানও কোচের আস্থার প্রতিদানে প্রায় ম্যাচে গোল করেন। সর্বশেষ ৫ ম্যাচে করেছেন ৮ গোল। প্রথম পর্বসহ মোট গোল ৫টি। দুইটা হ্যাট্রিক আছে এবং ফেডারেশনে কাপে ৭টি গোল।
এরপূর্বে তিনি চট্রগ্রাম প্রিমিয়ার ফুটবল লীগে মোহামেডানের হয়ে ৪টি গোল করেন। সা’দত কলেজে অনার্স পড়ুয়া সৌরভ দেওয়ান সব সময় নিজেকে প্রস্তুত রেখেছেন সুযোগ পেলেই বাজিমাত করবেন।
গোলের সৌরভ ছড়িয়ে সৌরভ দেওয়ান খেলার মাঠে স্ট্রাইকার পজিশনকে নিজের করে নিয়েছেন। এখন ঢাকা মোহামেডানের স্ট্রাইকার পজিশন ছাড়িয়ে জাতীয় দলেও স্ট্রাইকার পজিশনে ডাক পেয়েছেন। মালদ্বীপের চারজাতি টুর্নামেন্টে ১ জুন প্রথম খেলা।
দেশীয় স্ট্রাইকারদের গোলের খরা কাটায় সৌরভ দেওয়ান এখন সেই শুন্যতা পূরণ করার পথে। সদস্য বিবাহিত, আতিয়া জান্নাতীর স্বামী সৌরভ দেওয়ান দারুণ সুযোগ সন্ধানী স্ট্রাইকার। খেলার মাঠে তার পরিশ্রমী ও দক্ষতা দুটোই আছে। খেলার মাঠে তাকে বল বানিয়ে দিলে সৌরভ দেওয়ান সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সিদ্ধহস্ত। দারুন ফিনিশিং করার ক্ষমতা তার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশের সেরা স্ট্রাইকার আসলাম এবং নকিবের পর সৌরভ দেওয়ান হতে বাংলাদেশের ভবিষ্যত দেশীয় অস্ত্র, দেশীয় স্ট্রাইকার। সেই পারবে দক্ষ স্ট্রাইকারের শুন্যতা পূরন করতে। সৌরভ দেওয়ানের জন্য এখন প্রয়োজন সঠিক যত্ন এবং ট্রেনিং। যা তার আত্ববিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিবে বহুগুন আর বাংলাদেশ দুইযুগ পর পাবে একজন জাত স্ট্রাইকার।
এম.কন্ঠ/ ৩১ মে /এম. টি


























