ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীসহ বনে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১২৯ টি মামলা প্রত্যাহার হচ্ছে..রিজওয়ানা হাসান
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা টাঙ্গাইলে মধুপুরে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীসহ বনে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১২৯ টি মামলা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, শালবনে আবার শাল গাছ ফেরদ আনা হবে। তাই আসন্ন বর্ষায় বেশি বেশি শাল গাছ রোপন করতে হবে। এখানে যারা বনবাসী আছেন তাদের এই বন রক্ষায় ভূমিকা পালন করতে হবে। এসব কাজে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। বনে যে জায়গা বেদখল আছে সে গুলো চিহ্নিত করতে সীমানা পিলার দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, শালবনে বাণিজ্যিকভাবে ইউক্যালিপটাস ও আকাশিয়া গাছ রোপন করা হয়। সে গুলো ক্রমান্নয়নে বন্ধ করা হবে। কারন এসব গাছে বন্য প্রাণীর কোন খাবার নেই। রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল মধুপুরের টেলকি এলাকায় শাল চারা রোপণকালে এসব কথা বলেন।
এছাড়া মধুপুর বনাঞ্চলের রাজাবাড়ী এলাকায় সীমানা চিহ্নিতকরণের কাজ পরিদর্শন ও সীমানা পিলার স্থাপনের মাধ্যমে ‘স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে মধুপুর শালবন পুন:প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পের কার্যক্রমও উদ্বোধন করা হয়।
তিনি বলেন, যে পাঁচ লাখ গাছ লাগানো হবে, তা দেশীয় গাছ নির্বাচন করা হয়েছে। এই গাছগুলো প্রচুর পরিমাণে প্রাণীদের আশ্রয় দেবে। এই গাছগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সবুজ করার জন্য নয়, আমরা ভালো অক্সিজেন পাবো, দূষণ কমবে, পাখির আশ্রয় হবে। যারা এই গাছগুলো লাগাবে, তাদের গাছের সঙ্গে একটা আত্মিক সম্পর্ক হয়ে যাবে। আমরা গাছগুলো লাগিয়েই বসে থাকবো না, সেগুলোর যত্ন ও পরিচর্যা করবো। আমাদের ধ্বংসাত্মক উন্নয়ন প্রক্রিয়া সেখান থেকে নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, প্রকৃতিকে আমরা বিরক্ত করে নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গাছ কেটে বলি, ‘২০ হাজার গাছ কেটে ৪০ হাজার গাছ লাগাবো।’ এজন্য আমাদের এতো বড় বড় বিপত্তি হয়। আপনি কিছু প্রাকৃতিক অবস্থায় ফেরত আনতে পারেন, কিন্তু সবটা ফেরত আনতে পারবেন না। বাংলাদেশ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হওয়ারই দরকার ছিল না। আমরা এতোই প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর ছিলাম, আমরা এমন অত্যাচার করলাম প্রকৃতিকে, এখন আমাদের তা সংশোধনের কাজ করতে হচ্ছে। আজকের এই কাজটি আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের ধ্বংসপ্রাপ্ত বা ধ্বংস প্রায় প্রাকৃতিকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে নিজের স্বার্থেই।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান। উপস্থিত ছিলেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসীন হোসেনসহ উর্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এম.কন্ঠ/ ২৫ মে /এম.টি


























