ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
টাঙ্গাইলে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ টাঙ্গাইলে ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে অবহিতকরণ সভা টাঙ্গাইল কারাগারে বিশ্বকাপ ফুটবলের ছোঁয়া কালিহাতীতে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল কুমুদিনী সরকারি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সচেতনতা বিষয়ক ক্যাম্পেইন ঘাটাইলে সড়কের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে মানববন্ধন কালিহাতীতে কয়েক মিনিটের ঝড়ে তছনছ কস্তুরীপাড়া বাজার সখীপুরে বাঁশ বোঝাই ট্রাকের পেছনে মুরগিবাহী ট্রাকের ধাক্কা; নিহত ৪ দুর্ঘটনায় স্বীকার নাতির চিকিৎসার অর্থ যোগাতে নানা মোটরবাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বাসাইলে গ্রাম আদালত বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পানিবন্ধী ৩৬ হাজার মানুষ

টাঙ্গাইলে যমুনাসহ তিন নদীর পানি বিপদসীমার উপরে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ০১:৫৯:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

টাঙ্গাইলে উজানের ঢল ও দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে চার উপজেলার আট হাজার পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে বন্যার্তরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে, ঝিনাই নদীর পানি ৮ সেন্টিমটার বেড়ে বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ও ধলেশ্বরী নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমা ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যার পানির স্রোতে ভূঞাপুর ও বাসাইল উপজেলার অন্তত পাঁচটি কাঁচা পাকা সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ভূঞাপপুরের উপজেলার গাবসারা, নিকরাইল, অর্জুনা ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া ঘোষপাড়া, খানুরবাড়ী, ভালকুটিয়া এলাকায় দেখা গেছে, যমুনা নদীর পানি পাড় উপচিয়ে এইসব এলাকায় প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষজন। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এসব পানিবন্দি মানুষজন। গত দুইদিন ধরে তারা পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

পানিবন্ধী হেনা বেগম বলেন, বাড়িতে রান্নার করার জায়গাটুকু ফাঁকা নাই। সব জায়গায় পানি আর পানি। গতকাল অন্যের বাড়ির লোকজন খাবার দিয়েছিলো, তাই খেয়েছিলো। আজ সকালে চিড়া খেলেও বিকেলেও ভাত রান্না করতে না পারায় খেতে পারিনি।
অপর জন মাহফুজ মিয়া বলেন, তিন দিন যাবত আমার মতো শত শত মানুষ পানিবন্ধী। জনপ্রতিনিধি বা সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা পাইনি।

জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, চার উপজেলার আট হাজার পরিবারের ৩৬ হাজার ১০০ মানুষ পানিবন্ধী। ভূঞাপুরে ৩০০, গোপালপুর ও কালিহাতীতে ১০০ প্যাকেট করে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। এছাড়াও প্রতি উপজেলায় দুই হাজার করে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেয়া হয়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত জিআর চাল ও অর্থ বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। সোমবারের মধ্যে তা বরাদ্দ পাওয়া যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সার্বক্ষনিক বন্যার খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। বন্যা কবলিতদের যথাযথ সাপর্ট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে।

এম.কন্ঠ/  ০৭ জুলাই /এম.টি

নিউজটি শেয়ার করুন

পানিবন্ধী ৩৬ হাজার মানুষ

টাঙ্গাইলে যমুনাসহ তিন নদীর পানি বিপদসীমার উপরে

প্রকাশ: ০১:৫৯:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুলাই ২০২৪

টাঙ্গাইলে উজানের ঢল ও দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে চার উপজেলার আট হাজার পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনা খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছে বন্যার্তরা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে, ঝিনাই নদীর পানি ৮ সেন্টিমটার বেড়ে বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ও ধলেশ্বরী নদীর পানি ১৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমা ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যার পানির স্রোতে ভূঞাপুর ও বাসাইল উপজেলার অন্তত পাঁচটি কাঁচা পাকা সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ভূঞাপপুরের উপজেলার গাবসারা, নিকরাইল, অর্জুনা ও গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া ঘোষপাড়া, খানুরবাড়ী, ভালকুটিয়া এলাকায় দেখা গেছে, যমুনা নদীর পানি পাড় উপচিয়ে এইসব এলাকায় প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষজন। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এসব পানিবন্দি মানুষজন। গত দুইদিন ধরে তারা পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

পানিবন্ধী হেনা বেগম বলেন, বাড়িতে রান্নার করার জায়গাটুকু ফাঁকা নাই। সব জায়গায় পানি আর পানি। গতকাল অন্যের বাড়ির লোকজন খাবার দিয়েছিলো, তাই খেয়েছিলো। আজ সকালে চিড়া খেলেও বিকেলেও ভাত রান্না করতে না পারায় খেতে পারিনি।
অপর জন মাহফুজ মিয়া বলেন, তিন দিন যাবত আমার মতো শত শত মানুষ পানিবন্ধী। জনপ্রতিনিধি বা সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা পাইনি।

জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, চার উপজেলার আট হাজার পরিবারের ৩৬ হাজার ১০০ মানুষ পানিবন্ধী। ভূঞাপুরে ৩০০, গোপালপুর ও কালিহাতীতে ১০০ প্যাকেট করে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে। এছাড়াও প্রতি উপজেলায় দুই হাজার করে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেয়া হয়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত জিআর চাল ও অর্থ বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। সোমবারের মধ্যে তা বরাদ্দ পাওয়া যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সার্বক্ষনিক বন্যার খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। বন্যা কবলিতদের যথাযথ সাপর্ট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি রয়েছে।

এম.কন্ঠ/  ০৭ জুলাই /এম.টি