স্কুল ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা
টাঙ্গাইলে মামলা করায় ভুক্তভোগী পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা
টাঙ্গাইলে স্কুল ছাত্রীকে শ্লীলতাহাটির চেষ্টার প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী পরিবারের উপর দফায় দফায় সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এছাড়াও নানাভাবে ওই পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে। বর্তমানের ওই পরিবারের লোকজন বাড়ি ছাড়া রয়েছে। এছাড়াও ভয়ে শহরে রিকশা চালাতে না পেরে অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছে।
শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলন করে এ সব তথ্য জানান টাঙ্গাইল সদরের মগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ২ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে চর-খিদির এলাকার ১৪ বছরের স্কুল ছাত্রী প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে টেলিভিশন দেখে ফেরার পথে একই এলাকার বখাটে মো. হাসান মিয়া তাকে জোরপূর্বক নিজ ঘরে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর ৪ জুলাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক বসে। কিন্তু সালিশ চলাকালীন সময়ে আসামি মজিবুর রহমানের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় হাসান মিয়া, ঈমান আলী, মো. জামাল, কাশেম, হালিমসহ একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় বাবুল হোসেনের ১৬ বছরের ছেলে রাকিবের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হলে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। এছাড়া নারীদের শ্লীলতাহানি ও নগদ টাকা লুট করা হয়। এই ঘটনায় টাঙ্গাইল সদর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় মামলা করার পর থেকেই আসামিরা ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছিল। আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার মেয়ের বাবা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম টাঙ্গাইল শহরের সার্কিট হাউজের পশ্চিম পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন বক্তারা। সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামসহ তার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, মামলার পর আসামীদের গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছিলো। এ মামলার ১ নম্বর আসামীকের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এম.কন্ঠ/ ১৮ জুলাই /এম. টি

























