ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে মাদরাসা ও কিন্ডার গার্ডেন-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী জনগণের পুলিশ হোন, কোনো দলের চাটুকার নয়-কালিহাতীতে সারজিস আলম ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে কারবালার শিক্ষা: ন্যায়, ত্যাগ ও মানবতা শীর্ষক সেমিনার ঘাটাইলে ৬টি গরুসহ চোর আটক বিশ্বকাপের ম্যাচকে কেন্দ্র করে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ কালিহাতীতে ওভার ভোল্টেজে শতাধিক পরিবারের ক্ষতি টাঙ্গাইলে ধর্ষণের দায়ে ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইলে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন মির্জাপুরে নদীতে ভেসে উঠেছে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহবান ভাইস-চ্যান্সেলরের

বিশ্বকাপের ম্যাচকে কেন্দ্র করে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ০১:১০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ দেখা কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রথম একাডেমিক ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টার দিকে খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে প্রথমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বহিরাগত সন্দেহকে কেন্দ্র করে বাগবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাধে।

এ সময় তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এবং এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জননেতা আব্দুল মান্নান হলের সামনে অবস্থান নেন। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের বিভাগে ফিরে গেলেও রাত আনুমানিক ১টার দিকে প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস, পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে ভবনের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত আহত সাত শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গুরুতর আহত একজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুস আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনির মোর্শেদ বলেন, “একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।”

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, রাতে সংঘর্ষ থেমে গেলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

 

এম.কন্ঠ/ ০৮ জুলাই /এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের ম্যাচকে কেন্দ্র করে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

প্রকাশ: ০১:১০:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ দেখা কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রথম একাডেমিক ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১০টার দিকে খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে প্রথমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বহিরাগত সন্দেহকে কেন্দ্র করে বাগবিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রক্টরিয়াল বডির হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাধে।

এ সময় তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এবং এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জননেতা আব্দুল মান্নান হলের সামনে অবস্থান নেন। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের বিভাগে ফিরে গেলেও রাত আনুমানিক ১টার দিকে প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস, পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে ভবনের জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত আহত সাত শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গুরুতর আহত একজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুস আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনির মোর্শেদ বলেন, “একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।”

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, রাতে সংঘর্ষ থেমে গেলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।

 

এম.কন্ঠ/ ০৮ জুলাই /এম. টি