টাঙ্গাইলে শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিলের শাহাদাত বার্ষিকী পালিত
টাঙ্গাইলে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন জেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিল প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংগঠনের জেলা কার্যালয়ে এ সব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলন জেলার সংগঠক তুষার আহমেদ, জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ফাতেমা রহমান বীথি, দপ্তর সম্পাদক প্রেমা সরকার, পৌর কমিটির আহবায়ক আদিবা হুমায়রা, সদস্য শিশির ও সানজিদা ইসলাম প্রমুখ।
ফাতেমা রহমান বীথি বলেন, ‘শহীদ শাকিল শুধু একটি নাম নয়, তিনি একটি চেতনা, একটি সংগ্রামের প্রতীক। বৈষম্যহীন, মানবিক, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে তিনি যে পথ দেখিয়ে গেছেন, সেই পথেই আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। শাকিল আজীবন বেঁচে থাকবেন মানুষের মুক্তির সংগ্রামে।’
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণআন্দোলনের যে রূপ নেয়, তার অন্যতম ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিল। ঐ দিন মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটোয়া বাহিনী পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সম্মিলিত হামলায় শাকিলের মাথায় গুলি করা হয়। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ৭ আগস্ট ২০২৪, বুধবার বিকেল তিনটায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিল ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা)-এর চারুকলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। মিরপুরের ‘আমাদের পাঠশালা’ থেকে বেড়ে ওঠা শাকিল শৈশব থেকেই সংগ্রামী ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কবিতা ছিল তাঁর আত্মপ্রকাশের মাধ্যম। আন্দোলনের মধ্যে তিনি লিখেছিলেন: ‘মানচিত্র আজ মৃত্যু নগরী, আর্তনাদ জমেছে পতাকায়! তাজা প্রাণ মূল্যহীন -আমি পেয়েছি স্বাধীনতা নামে, বুলেটের আঘাতে শেষ নিঃশ্বাস’।
এম.কন্ঠ/ ০৭ অগাস্ট /এম. টি

























