গোপালপুরে ‘মাতৃছায়া’র সাফল্য, ৩১ জনের ২৭ জনই বৃত্তিপ্রাপ্ত
গোপালপুরে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে ‘মাতৃছায়া’ বেসিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটিতে কোচিং করা ৩১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২৪ জন ট্যালেন্টপুল ও ৩ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে।
গোপালপুর পৌরসভার আঙুঙ্গী এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও কোচিংয়ের পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশ, অধ্যবসায় এবং পাঠ্যবিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছেন একজন পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক এবং তিনজন সহকারী শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠচর্চা ও পরীক্ষার প্রস্তুতির পাশাপাশি ব্যক্তিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টরা জানান।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ১৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৯ জন ট্যালেন্টপুল ও ২ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পায়। ২০১৯ সালে ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন ট্যালেন্টপুল ও ৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করে।
২০২২ সালে ১৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১১ জন ট্যালেন্টপুল ও ৪ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জন ট্যালেন্টপুল ও ৩ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে।
এই চার বছরে মোট ৮৩ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৭ জন ট্যালেন্টপুল ও ১৫ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। সব মিলিয়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭২ জন।
মাঝের বছরগুলোতে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি বা সমাপনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ওই বছরগুলোর কোনো বৃত্তির ফলাফল নেই।
এদিকে, ‘মাতৃছায়া’ বেসিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে কোচিং করে ২০২৫ সালের সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এসএম মতিউর রহমানের ছেলে তাহশীন রহমান (আপন)। তাঁর এ সাফল্যে পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
তার মা হাফিজা পারভীন (সুইটি) বলেন, “তাহশীন রহমান ‘মাতৃছায়া’ বেসিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে কোচিং করেছে। সেখানে শিক্ষকদের আন্তরিকতা, নিয়মিত তত্ত্বাবধান ও পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ তাকে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে সহযোগিতা করেছে। তার পরিশ্রমের ফল হিসেবে এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”
প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে সহযোগি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও ভালো ফলাফলের জন্য নিয়মিত পাঠচর্চা, শৃঙ্খলা ও শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান গুরুত্বপূর্ণ। মাতৃছায়ার শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর বৃত্তি পরীক্ষায় ভালো ফল করছে—এটি আমাদের জন্য আনন্দের ও গর্বের। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।”
পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক জেসমিন নাহার রুমা বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠচর্চা, শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলে এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতা বিকাশে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ ও সন্তোষ বিরাজ করছে।
এম.কন্ঠ/ ২৯ অগাস্ট /এম. টি

























