ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
তিন দিনেও খোঁজ মিলেনি দশম শ্রেণির ছাত্র সাফি’র টাঙ্গাইলে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা সমাপ্ত টাঙ্গাইলে কোটা সংস্কারসহ একদফা দাবিশে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান টাঙ্গাইলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত টাঙ্গাইলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের স্মরণে আলোচনা সভা টাঙ্গাইলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া রোধে পুলিশের ক্লিনিং স্যাটারডে পালন হরিজন কলোনীতে হামলা ও মন্দির ভাংচুরের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে সমাবেশ কালিহাতীতে শাজাহান সিরাজ কলেজের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন টাঙ্গাইলে যুবলীগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ বিতরণ দেশ স্বাধীনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন নুরুল ইসলাম বাবুল

জলদস্যুদের কবলে নাগরপুরের সাব্বির, দুশ্চিন্তায় পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ১১:৪৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মার্চ ২০২৪

ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশের এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। বর্তমানে ওই জাহাজটি সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছে জলদস্যুরা। পণ্য বহনকারী জাহাজে ২৩ জন নাবিকের মধ্যে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মো. সাব্বির হোসেনও রয়েছেন। সে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুরে সাব্বিরের পরিবার গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারেন জাহাজটি জলদস্যুরা আটক করে সোমালিয়ায় তাদের সুবিধামত জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। এমন খবরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্যারাইলাইজড হওয়া বাবা, মা ও একমাত্র বোনসহ আত্মীয় স্বজনরা। একমাত্র ছেলের জিম্মির খবর শুনে বাবা হারুন অর রশিদ হাউমাউ করে কাঁদচ্ছেন। মা সালেহা বেগম বুক চাপড়িয়ে কাদঁছেন আর বিলাপ করছেন। একমাত্র বোন মিতু আক্তার ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছেন। তার ভাই যেন জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়ে তাদের কাছে আবার ফেরত আসে। গ্রামের লোকজন ও আত্মীয় স্বজনরা বাড়িতে এসে তাদের শান্তনা দিচ্ছেন। জিম্মির খবর পেয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন রয়েছেন সবাই। সাব্বিরকে ফেরত পেতে সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

সাব্বিরের চাচাতো ভাই আহম্মেদ হোসেন রানা বলেন, সাব্বিরা দুই ভাইবোন। তার পরিবার সচ্ছল নয়। ভাঙাচুড়া ঘরে বসবাস করেন তার বাবা-মা। অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল না থাকায় সাব্বির ছোট বেলা থেকেই তার মামার বাড়ি সহবতপুর ইউনিয়নের কাজির পাচুরিয়ার এলাকায় থাকতেন এবং সেখান থেকেই পড়াশোনা করেছে। সাব্বিরের বাবা মস্তিস্কে রক্ত ক্ষরণ জনিত কারণে প্যারাইলাইজড হয়ে শয্যাশায়ী। সাব্বিরের চাকুরী হওয়ার পর তার মা শয্যাশায়ী স্বামীকে নিয়ে সহবপুর তার বাবার বাড়ি বসবাস করেন। সহবতপুরের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামে এখন কেউ আর থাকেন না। একমাত্র উপার্জনক্ষম সাব্বিরের কিছু হয়ে গেলে তাদের আর চলার উপায় থাকবে না।

তিনি আরো জানান, খবরের মাধ্যমে তার নাম শুনেছি। পরে টিভিতে দেখলাম তাদের জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। তারা জাহাজ সোমালিয়ায় নিয়ে গেছে। গতকাল দুপুর থেকেই সাব্বিরের ফোন বন্ধ। কোন যোগাযোগ করতে পারছি না। এখনও পরিবারের সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি। মুক্তিপন চেয়েছে কিনা সরকারের কাছে জানিনা। তবে যতদ্রুত সম্ভব সাব্বিরসহ সবাইকে যেন নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবী জানাই সরকারের কাছে।

সাব্বিরের বোন মিতু আক্তার বলেন, ভাইয়ের সাথে সর্বশেষ সোমবার কথা হয়েছে। এরআগে আমার ফোনে তার মাথা ন্যাড়া করার ছবি পাঠিয়েছে। সাগরের কি যেন রেখা অতিক্রম করার পর জুনিয়রদের মাথা ন্যাড়া করতে হয়। এটা নিয়ে আমরা ভাই বোন হাসাহাসি করেছি। পরে বিকেলের পর আবার ফোন করে সাব্বির। বললো বাড়িতে বাবা মার সাথে কথা বলার জন্য বারবার ফোন করেছে কিন্তু ফোন বন্ধ ছিল। বাবা এবং মায়ের সাথে কথা বলার আকুলতা ছিল অনেক সাব্বিরের। পরে আর বাবা মার সাথে কথা বলতে পারেনি সাব্বির। পরে জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়েছে এমন খবর গণমাধ্যমে দেখার পর তার ফোনে আর যোগাযোগ করতে পারিনি বন্ধ থাকার কারণে। বাবা মা এখন শুধু কাঁদছে শান্তনাও দিতে পারছি না। সরকার থেকেও কোন সুখবর পাচ্ছি না। আমরা আমার ভাইকে ফিরে পেতে চাই।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে। আশা করি দ্রুত সুখবর পাওয়া যাবে।

প্রসঙ্গত, সাব্বির হোসেন সহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে থেকে এসএসসি পাস করে। ২০১৬ সালে টাঙ্গাইলের কাগমারি এম এম আলী কলেজ থেকে এইচএসএসসি পাস করে ভর্তি হন চট্রগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে পাস করে ২০২২ সালের জুন মাসে এমভি আব্দুল্লাহ নামক পণ্য বহনকারী একটি জাহাজে মার্চেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী নেন।

 

এম.কন্ঠ/১৩ মার্চ/এম.টি

নিউজটি শেয়ার করুন

জলদস্যুদের কবলে নাগরপুরের সাব্বির, দুশ্চিন্তায় পরিবার

প্রকাশ: ১১:৪৬:১৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মার্চ ২০২৪

ভারত মহাসাগরে বাংলাদেশের এমভি আব্দুল্লাহ জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। বর্তমানে ওই জাহাজটি সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাচ্ছে জলদস্যুরা। পণ্য বহনকারী জাহাজে ২৩ জন নাবিকের মধ্যে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মো. সাব্বির হোসেনও রয়েছেন। সে উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুরে সাব্বিরের পরিবার গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারেন জাহাজটি জলদস্যুরা আটক করে সোমালিয়ায় তাদের সুবিধামত জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। এমন খবরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্যারাইলাইজড হওয়া বাবা, মা ও একমাত্র বোনসহ আত্মীয় স্বজনরা। একমাত্র ছেলের জিম্মির খবর শুনে বাবা হারুন অর রশিদ হাউমাউ করে কাঁদচ্ছেন। মা সালেহা বেগম বুক চাপড়িয়ে কাদঁছেন আর বিলাপ করছেন। একমাত্র বোন মিতু আক্তার ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করছেন। তার ভাই যেন জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়ে তাদের কাছে আবার ফেরত আসে। গ্রামের লোকজন ও আত্মীয় স্বজনরা বাড়িতে এসে তাদের শান্তনা দিচ্ছেন। জিম্মির খবর পেয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন রয়েছেন সবাই। সাব্বিরকে ফেরত পেতে সরকারের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

সাব্বিরের চাচাতো ভাই আহম্মেদ হোসেন রানা বলেন, সাব্বিরা দুই ভাইবোন। তার পরিবার সচ্ছল নয়। ভাঙাচুড়া ঘরে বসবাস করেন তার বাবা-মা। অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল না থাকায় সাব্বির ছোট বেলা থেকেই তার মামার বাড়ি সহবতপুর ইউনিয়নের কাজির পাচুরিয়ার এলাকায় থাকতেন এবং সেখান থেকেই পড়াশোনা করেছে। সাব্বিরের বাবা মস্তিস্কে রক্ত ক্ষরণ জনিত কারণে প্যারাইলাইজড হয়ে শয্যাশায়ী। সাব্বিরের চাকুরী হওয়ার পর তার মা শয্যাশায়ী স্বামীকে নিয়ে সহবপুর তার বাবার বাড়ি বসবাস করেন। সহবতপুরের ডাঙা ধলাপাড়া গ্রামে এখন কেউ আর থাকেন না। একমাত্র উপার্জনক্ষম সাব্বিরের কিছু হয়ে গেলে তাদের আর চলার উপায় থাকবে না।

তিনি আরো জানান, খবরের মাধ্যমে তার নাম শুনেছি। পরে টিভিতে দেখলাম তাদের জাহাজ জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। তারা জাহাজ সোমালিয়ায় নিয়ে গেছে। গতকাল দুপুর থেকেই সাব্বিরের ফোন বন্ধ। কোন যোগাযোগ করতে পারছি না। এখনও পরিবারের সাথে কেউ যোগাযোগ করেনি। মুক্তিপন চেয়েছে কিনা সরকারের কাছে জানিনা। তবে যতদ্রুত সম্ভব সাব্বিরসহ সবাইকে যেন নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবী জানাই সরকারের কাছে।

সাব্বিরের বোন মিতু আক্তার বলেন, ভাইয়ের সাথে সর্বশেষ সোমবার কথা হয়েছে। এরআগে আমার ফোনে তার মাথা ন্যাড়া করার ছবি পাঠিয়েছে। সাগরের কি যেন রেখা অতিক্রম করার পর জুনিয়রদের মাথা ন্যাড়া করতে হয়। এটা নিয়ে আমরা ভাই বোন হাসাহাসি করেছি। পরে বিকেলের পর আবার ফোন করে সাব্বির। বললো বাড়িতে বাবা মার সাথে কথা বলার জন্য বারবার ফোন করেছে কিন্তু ফোন বন্ধ ছিল। বাবা এবং মায়ের সাথে কথা বলার আকুলতা ছিল অনেক সাব্বিরের। পরে আর বাবা মার সাথে কথা বলতে পারেনি সাব্বির। পরে জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়েছে এমন খবর গণমাধ্যমে দেখার পর তার ফোনে আর যোগাযোগ করতে পারিনি বন্ধ থাকার কারণে। বাবা মা এখন শুধু কাঁদছে শান্তনাও দিতে পারছি না। সরকার থেকেও কোন সুখবর পাচ্ছি না। আমরা আমার ভাইকে ফিরে পেতে চাই।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করছে। আশা করি দ্রুত সুখবর পাওয়া যাবে।

প্রসঙ্গত, সাব্বির হোসেন সহবতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে থেকে এসএসসি পাস করে। ২০১৬ সালে টাঙ্গাইলের কাগমারি এম এম আলী কলেজ থেকে এইচএসএসসি পাস করে ভর্তি হন চট্রগ্রাম মেরিন একাডেমিতে। সেখান থেকে কৃতিত্বের সাথে পাস করে ২০২২ সালের জুন মাসে এমভি আব্দুল্লাহ নামক পণ্য বহনকারী একটি জাহাজে মার্চেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী নেন।

 

এম.কন্ঠ/১৩ মার্চ/এম.টি