টাঙ্গাইলে ৮ টি আসনে ৬৫ প্রার্থীর মনোনয়ন জমা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের আটটি আসনে ৮৬ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ৬৫ প্রার্থী। আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপির একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।
এছাড়াও এনসিপি জামায়াতে ইসলামী একক প্রার্থীসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিতরাও মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।
নির্বাচন কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে নয় প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন সাতজন। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল আসাদুল ইসলাম আজাদ মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এদিকে বিএনপি সমর্থিত আফিফ উদ্দিন আহমাদ মনোয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেননি। এ আসনে শুরুতে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. মোন্তাজ আলী মনোনয়ন পেলেও রোববার আব্দুল্লাহ হেল কাফিকে দলটি মনোনয়ন পত্র দিয়েছেন। তবে মোন্তাজ আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়াও জাতীয় পার্টি থেকে মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে সাত প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও পাঁচজন জমা দিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু। এছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর মো. হুমায়ন কবির, গণঅধিকার পরিষদের শাকিল উজ্জামান, জাতীয় পার্টির মো. হুমায়ন কবির তালুকদার। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক মন্ডল মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও জমা দেননি। বাকিদের নাম জানা যায়নি।
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে আট প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন সাত জন। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম ওবায়দুল হক নাসির। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান আজাদ মনোনয়ন জমা দিয়েছে। মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও জমা দেননি বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাইনুল ইসলাম। এ আসনে এনসিপির প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দার ও জামায়াতের প্রার্থী মো. হোসনী মোবারক জমা দিয়েছেন। বাকিদের নাম জানা যায়নি।
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে ১০ জন মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন সাত জন। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন। জামায়াতের প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক ও জাতীয় পার্টির মো. লিয়াকত আলী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। বাকিদের নাম জানা যায়নি।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ১৪ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ১১ জন। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আহছান হাবিব মাসুদ, জাতীয় পার্টির মোজাম্মেল হক, গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার, মো. হাসরত খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ খালেদ মোস্তফা জমা দিয়েছেন। জোটের কারনে এনসিপির মাসুদুর রহমান রাসেল মনোনয়ন পত্র জমা দেননি। বাকিদের নাম জানা যায়নি।
টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনে ১৮ প্রার্থী মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ১২ জন। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য রবিউল আওয়াল। বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত জুয়েল সরকার ও রিপন মিয়া মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তারেক শামস খান মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. একেএম আব্দুল হামিদ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মামুনুর রহিম সুমন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। বাকিদের নাম জানা যায়নি।
টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে নয় প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ছয় জন। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান সাইদ সোরহাব, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক দিপু হায়দার খান মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেননি। বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ফিরোজ হায়দার খান ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুলাহ তালুকদার মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। এনসিপির খন্দকার মাসুদ পারভেজ মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেননি। বাকিদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে ১১ প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ১০ জন। দলের মনোয়ন পেয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির মনোনয়ন দাবি করা সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল। তবে সালাউদ্দিন আলমগীরের কোন দলীয় পরিচয় নেই। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় পার্টির নাজমুল হাসান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আওয়াল মাহমুদ, আমজনতা পার্টির আলমগীর হোসেন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। খেলাফতে মজলিসের শহিদুল ইসলাম, মনির আহম্মেদ মনা জমা দেননি। বাকিদের নাম জানা যায়নি।
এম.কন্ঠ/ ৩০ ডিসেম্বর /এম. টি
























