সখীপুরের গৃহবধূ সুমাইয়াকে হত্যার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ছোটচওনা গ্রামের গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তারকে হত্যার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবার।
শনিবার সকাল ১১টায় টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত সুমাইয়া আক্তারের মা সুফিয়া খাতুনের পক্ষে তার মামাতো ভাই লিটন সিকদার।
লিখিত বক্তব্যে জানা যায, সুমাইয়ার পিতা দেশের বাইরে দুবাই অবস্থান করছেন। তার এক ভাই ও দুই বোনের মধ্যে ছোট মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১৯)কে প্রায় দেড় বৎসর পূর্বে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ছোটচওনা গ্রামের কৃষিজীবী বাহাদুর মিয়ার ছেলে বাবলু মিয়ার সাথে বিবাহ হয়। বাবলু মিয়া রাজমিস্ত্রির কাজ, অটোগাড়ী চালানোসহ নানাবিধ কাজ করলেও বেশিরভাগ সময় বেকার ছিল।
সে মাঝেমাঝে নেশা করাসহ স্থানীয়ভাবে কিশোর গ্যাং-এর সাথেও জড়িত। সম্প্রতি বাবলু মিয়া অটোরিকসা কিনে দেয়ার জন্য সুমাইয়ার নিকট ৫০ হাজার টাকা দাবী করে। তাকে ১০ হাজার টাকা জোগার করে দেওয়া হলে বাকী টাকার জন্য সে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। বিবাহের পর বাবার বাড়ীতে আসতে চাইলে তাকে নিষেধ করা হতো এবং নিয়মিত মারধর করা হতো। তার শ্বাশুড়ীসহ তার স্বামী তাকে আটকিয়ে রাখে এবং নানাবিধ নির্যাতন করে।
সুমাইয়া আক্তারের শ্বাশুড়ী ও তার স্বামী টাকার জন্য তাকে নিয়মিত মানসিক নির্যাতনসহ নানাবিধ মিথ্যা অভিযোগ ও ছলনার মাধ্যমে তার শ্বাশুড়ী বাবলু মিয়া ও বাবলু মিয়ার অপর চারভাইকে সুমাইয়ার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তোলে। তারা সংঘবদ্ধ ও সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন সময়ে তার উপর মানসিক ও শারিরীক নির্যাতন চালায়ে যায়। এরকম অবস্থায় গত ১২ নভেম্বর দিবাগত রাত্রে নির্যাতনের মাধ্যমে তাকে নিজের বসতঘরে রাতের বেলা হত্যা করে ভোরবেলায় আত্মহত্যা বলে চিৎকার করে এবং বাবলু মিয়া তার অপর ভাইদের সহায়তায় লাশ নামিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে এলাকাবাসীকে বিভ্রান্ত করে। পরে সখীপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে পোর্স্টমর্টেমের জন্য টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে এলে লাশের তথ্য জানতে চাইলে হাসপাতাল থেকে তাদেরকে কোন কিছুই জানানো হয়নি। পরে তাদের পাশ কাটিয়ে বাবলু মিয়ার পরিবারের লোকজন লাশ তাদের হেফাজতে নিয়ে ছোটচওনা স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করে। তারা সখীপুর থানায় মেয়েকে হত্যার করা হয়েছে বলে মামলা রজ্জু করতে চাইলে থানা থেকে জানায় এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, বাবলু মিয়ার পরিবার এবং তাদের নিকটাত্ময়ীরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় হত্যার ঘটনাটি বর্তমানে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং আপোষ মিমাংসা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা অব্যাহত রেখেছে।ভুক্তভোগীর পরিবার নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীবননাশের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। লিখিত বক্তব্যে সুমাইয়া আক্তারের হত্যাকারী বাবলু মিয়া ও তার মা-ভাইদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সুমাইয়া আক্তারের পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, গ্রামবাসীসহ প্রিন্ট ও উলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এম.কন্ঠ/ ১৫ নভেম্বর /এম. টি























