ঘাটাইলে মানসিক ভারসাম্যহীন বাবার ছুরিকাঘাতে মেয়ে খুন
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে মানসিক ভারসাম্যহীন বাবা মুক্তার আলীর ছুরিকাঘাতে তিন বছরের মেয়ে তোহা খুন হয়েছে। রোববার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার কাইতকাই গ্রামে ঘটে এ ঘটনা।
পরে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার সকালে আসামী মুক্তারকে গ্রেফতার করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘাটাইল থানার ওসি (তদন্ত) সজল খান।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মুক্তার আলী প্রায় এক বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় আছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় নেওয়া হলেও খুব একটা উন্নতি হয়নি। ঘটনার রাতে হঠাৎ তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। নিঃশব্দ ঘরের মধ্যে ঘুমন্ত মেয়ের গায়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছুরি দিয়ে বুক ও পেটে আঘাত করেন। মুহূর্তেই রক্তে ভেসে যায় ছোট্ট তোহার দেহ। এসময় তার ক্ষতবিক্ষত শরীর থেকে বেরিয়ে আসে নাড়িভুঁড়ি। এ দৃশ্য দেখে বারবার মূর্ছা যান মা রুমি আক্তার। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বড় বোন রাহিমা মুক্তি জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন বাবা মুক্তার (৩৬) ছুরি দিয়ে ছোট বোন তোয়ামনিকে হত্যা করেছে। রাতের খাবার শেষে বাবা-মায়ের সাথেই তোয়ামণি ঘুমিয়ে ছিলো। তোয়া আর মা ঘুমিয়ে পড়লে, বাবা ঘুম থেকে উঠে গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত ছুরি দিয়ে তোয়ামনির পেটে পরপর দুইবার আঘাত করেন। তৎখনাত মা (রুমি) দেখতে পায় তোয়াকে রক্তাক্ত করে বাবা দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।
ঘাটাইল থানার ওসি (তদন্ত) সজল খান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মুক্তার আলী মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় শিশুটিকে হত্যা করেছে। সোমবার সকালে আসামী মুক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যাবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এম.কন্ঠ/ ০৩ নভেম্বর /এম. টি

























