ঢাকা ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ

ব্যবসা বানিজ্য টিকিয়ে রাখতে আ’লীগ কর্মীরা বিএনপিতে প্রবেশের চেষ্টায় লিপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ০১:০৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

টাঙ্গাইল প্রতিদিন সভা-সমাবেশ বা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে বিএনপির ৩১ দফার প্রতিশ্রুতি লিফলেট বিতরন করে চলেছেন দলের নেতাকর্মীরা। এতে করে নেতাকর্মীরাও সরব হয়ে উঠেছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় দলে প্রবেশের পায়তারা শরু করেছে।

এ নিয়ে পুরো জেলা জুড়ে চলছে সমালোচনা। তবে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীরা মনে করছেন যারা বাড়তি সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বা এর দালালদের পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন তারা দলের জন্য ভবিষ্যতে খুবই ক্ষতির কারণ দয়ে দাড়াবে।

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে টাঙ্গাইলের আরিফ মটরস এর সত্বাধিকারি শহিদুর রহমান আরিফ। তিনি বিগত পৌরসভা নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরনের হয়ে প্রকাশ্যে নির্বাচনে মাঠে থেকে সক্রিয় ভূমি পালন করেন। ২০২১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক আলমগীর।

এরপর শহিদুর রহমান আরিফ আলমগীরের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ভূমি পালন করেন। কারচুপি ভোটের মাধ্য সেসময় সিরাজুল হক আলমগীর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহিদুর রহমান আরিফ হয়ে উঠেন মেয়রের ঘনিষ্টজন। শুরু করেন বিভিন্ন দপ্তরে দালালি। অল্প দিনেই মেয়র ও আওয়ামী লীগের নেতাকের কাছে আস্থা অর্জন করে ফেলেন।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পরই জেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী একে একে আত্মগোপনে চলে যান। পরে তাদের অনুসারিরা টিকে থাকার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সক্ষ গড়ে তুলেন। এভাবেই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়রের আস্থাভাজন শহিদুর রহমান আরিফ জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় দলের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। এ নিয়ে জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছি, জেল খেটেছি। কিন্তু কিছু সুবিধাবাদি সেই ফ্যাসিস্ট লোকজন দলে ভীড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এটা দলের সাথে এবং তারেক রহমানের সাথে বেইমানি করা হচ্ছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, এটা নিয়ে আমরাও অত্যান্ত বিব্রত। আমাদের কিছু কিছু নেতা কর্মী যারা কোনদিন বিএনপি করে নাই বা কিছুদিন বিএনপি করেছে। তারা বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাথে লিয়াজো করে নিজেদের ব্যবসা বানিজ্য টিকিয়ে রেখেছে। তারাই আবার এখন দলে ভীড়তে শুরু করেছে। আমরা এ বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছি।

 

এম.কন্ঠ/  ০২ জুলাই  /এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যবসা বানিজ্য টিকিয়ে রাখতে আ’লীগ কর্মীরা বিএনপিতে প্রবেশের চেষ্টায় লিপ্ত

প্রকাশ: ০১:০৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

টাঙ্গাইল প্রতিদিন সভা-সমাবেশ বা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে বিএনপির ৩১ দফার প্রতিশ্রুতি লিফলেট বিতরন করে চলেছেন দলের নেতাকর্মীরা। এতে করে নেতাকর্মীরাও সরব হয়ে উঠেছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় দলে প্রবেশের পায়তারা শরু করেছে।

এ নিয়ে পুরো জেলা জুড়ে চলছে সমালোচনা। তবে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীরা মনে করছেন যারা বাড়তি সুবিধা নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বা এর দালালদের পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন তারা দলের জন্য ভবিষ্যতে খুবই ক্ষতির কারণ দয়ে দাড়াবে।

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে টাঙ্গাইলের আরিফ মটরস এর সত্বাধিকারি শহিদুর রহমান আরিফ। তিনি বিগত পৌরসভা নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরনের হয়ে প্রকাশ্যে নির্বাচনে মাঠে থেকে সক্রিয় ভূমি পালন করেন। ২০২১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পান শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল হক আলমগীর।

এরপর শহিদুর রহমান আরিফ আলমগীরের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ভূমি পালন করেন। কারচুপি ভোটের মাধ্য সেসময় সিরাজুল হক আলমগীর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহিদুর রহমান আরিফ হয়ে উঠেন মেয়রের ঘনিষ্টজন। শুরু করেন বিভিন্ন দপ্তরে দালালি। অল্প দিনেই মেয়র ও আওয়ামী লীগের নেতাকের কাছে আস্থা অর্জন করে ফেলেন।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পরই জেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী একে একে আত্মগোপনে চলে যান। পরে তাদের অনুসারিরা টিকে থাকার জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে সক্ষ গড়ে তুলেন। এভাবেই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়রের আস্থাভাজন শহিদুর রহমান আরিফ জেলা বিএনপির কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় দলের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। এ নিয়ে জেলা জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছি, জেল খেটেছি। কিন্তু কিছু সুবিধাবাদি সেই ফ্যাসিস্ট লোকজন দলে ভীড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এটা দলের সাথে এবং তারেক রহমানের সাথে বেইমানি করা হচ্ছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, এটা নিয়ে আমরাও অত্যান্ত বিব্রত। আমাদের কিছু কিছু নেতা কর্মী যারা কোনদিন বিএনপি করে নাই বা কিছুদিন বিএনপি করেছে। তারা বিগত ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাথে লিয়াজো করে নিজেদের ব্যবসা বানিজ্য টিকিয়ে রেখেছে। তারাই আবার এখন দলে ভীড়তে শুরু করেছে। আমরা এ বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছি।

 

এম.কন্ঠ/  ০২ জুলাই  /এম. টি