কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতার কারখানায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের আনাম গ্রীণ ফুয়েল এনার্জি রিসোর্স কারখানায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা গ্রামে তাঁর খামারবাড়িসংলগ্ন কারখানায় শুক্রবার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার দুপুরে জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামীল শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালসহ জেলার শীর্ষ নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ফকিরের ভাতিজা শরীফুল ইসলাম শরীফ জানান, স্বপন ফকিরের খামারবাড়ির একাংশে ফ্যাক্টরি রয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ওই ফ্যাক্টরির পেছনের গেট কেটে ১৫-১৬ জনের ডাকাতদল ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে। ডাকাতেরা কারখানায় ঢুকেই অদূরে থাকা নৈশপ্রহরীর হাত-পা, মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর ডাকাতেরা প্রধান ফটকের পাশে থাকা গার্ডকেও একইভাবে বেঁধে রাখে। পরে তারা বিদ্যুতের সুইচ বন্ধ করে কারখানার ট্রান্সফরমারের ভেতরের যন্ত্রপাতি খুলে নেয়। জেনারেটরের ঘরে গিয়ে মূল্যবান তার ও ব্যাটারিগুলো নিয়ে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ট্রাকযোগে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ মধুপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম এমাজ উদ্দিন সরদার বলেন, ‘আনাম গ্রিন ফুয়েল এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্স ফার্নেস ওয়েল কারখানার দুই শ কেভি ট্রান্সফরমারের যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে গেছে ডাকাতের দল। যার মূল্য ৪৫-৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক মূল্যবান তার, কিছু নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার খবর শুনেছি।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, বিগত ২৫ বছরে এমন ঘটনা ঘটেনি। এতে আমরা শঙ্কিত, মর্মাহত ও উদ্বেগ প্রকাশ করি। স্থানীয় নেতাকর্মী ও আমরা ধারণা করছি বিএনপির বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগের ধোসর কালো আনোয়ার এ ঘটনা ঘটাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ডাকাতি করে কি ফকির মাহবুব আনাম স্বপনকে ভয় দেখানো বা রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় করা চেষ্টা চলছে সেটা ভাবার বিষয়। এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জন সম্মুখে প্রকাশ করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামীল শাহীন বলেন, আগামীতে জাতীয় সংসদের নির্বাচন। সারাদেশেই পরিচিত আছে ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ক্লিন ইমেজের রাজনীতি করে। সেখানে ডাকাতির ঘটনা কি বলতে চায় সেটা সবার কাছেই জানা। ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের ক্ষেত্রে যদি এমন হয়। তাহলে আমাদের ক্ষেত্রে কি হবে। এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। পাশাপাশি আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমরানুল কবীর বলেন, মামলার পর তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করা হবে।
এম.কন্ঠ/ ০৪ মে /এম.টি























