সখীপুরে শহিদ দিবসে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ পেলো ফ্রি চিকিৎসা সেবা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহিদ দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইল ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রায় সাড়ে তিন হাজার সাধারণ মানুষ পেলো ফ্রি চিকিৎসা সেবা।
শুক্রবার দিনব্যাপী টাঙ্গাইলের সখীপুরের হাতিবান্ধা ইউনিয়নের তালিমঘর প্রাঙ্গণে কিডনি এওয়ারনেস মনিটরিং এন্ড প্রিভেনশন সোসাইটির এ সেবা কার্যক্রমের আয়োজন করে।
আলোচনা সভায় কিডনি বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাম্পস এর সভাপতি দেশের বিশিষ্ট কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ।
তিনি বলেন, কিডনি রোগের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলছে। আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে কিডনি রোগের হার উন্নত দেশের চেয়ে বেশী। বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লক্ষ লোক কোন না কোন কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি বিকল রোগের চিকিৎসা ব্যয় এত বেশি যে আমাদের মত দেশের শতকরা দশভাগ লোক তা বহন করতে পারে না। পক্ষান্তরে সবাই যদি স্বাস্থ্য সচেতন হয় এবং সুস্থ জীবন ধারা চর্চা করে তবে ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সার প্রতিরোধে আটটি স্বর্ণালী উপায়ের উপর জোর দেন, তা হল-নিয়মিত ব্যয়াম, সুষম পরিমিত খাবার ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, মাদক ও ধূমপান পরিহার করা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখা, যারা কিডনি রোগের ঝুঁকিতে আছে তাদের নিয়মিত চেক-আপ’এ থাকা ও শিশুদের জন্মগত কিডনি রোগ আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী খান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার মোস্তান হোসেন, মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের (প্রশিকা) চেয়ারম্যান কবি ও কথা সাহিত্যিক মিজ রোকেয়া ইসলাম, বিশিষ্ট লেখক গবেষক ও সাবেক যুগ্ম সচিব শাহ সানাউল হক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন, পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আমিমুল এহসান কবির, সখিপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল্লাহ আল রনী।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের (প্রশিকা) প্রধান নিবাহী কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষক, কবি, অনুবাদক অধ্যাপক ড. বিনয় বর্মন, ডিপিডিসির ডিজিএম কবি ও কথাসাহিত্যিক নূর কামরুন নাহার, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ আমিন শরীফ, ক্যাম্পসের নির্বাহী পরিচালক রেজওয়ান সালেহীন, প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি কবি ও সাহিত্যিক নাসরিন বেগম প্রমুখ।
সেবা নিতে আসা হাতিবান্ধা গ্রামের গফুর মিয়া বলেন, আমি কয়েক বছর যাবত এখানে সেবা নিতে আসি। এ বছর চোখের সমস্যা নিয়ে এখানে এসেছি। সেবা পাশাপাশি বিনামূল্যে মেডিসিনও পেয়েছি।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজনটি ২১ বছর ধরে করে আসছে ক্যাম্পস। ফ্রি মেডিকেল ও চক্ষু ক্যাম্পে টাঙ্গাইল ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের দরিদ্র রোগীর নিবন্ধন ও প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের জন্য বিনামূল্যে রক্ত ও প্রসাব পরীক্ষা, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রামসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে ১১ থেকে ২০ এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আগত বিশেষজ্ঞসহ প্রায় অর্ধশতাধিক চিকিৎসক, দিনব্যাপী রোগীদের সেবা প্রদান করেন ও বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করেন। এছাড়াও ২৫০ এর অধিক চক্ষু রোগীদের বিনামূল্যে চোখের ছানী অপারেশন ও লেন্স প্রতিস্থাপনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়।
এম.কন্ঠ/২২ ফেব্রুয়ারী /এম.টি























