ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলেসহ নিহত ৫ জনের মরদেহ হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ০৭:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত পাঁচজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার দিনগত রাত ৪টার দিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আইনী প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের পরিবারের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করে।

এসময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেকের পরিবারকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। এরআগে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার পূরাব নিজপাগা গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস (৩৫), তার ছেলে নিরব (১২), নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা (৩৫), একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান (৩৩) ও আব্দুর রশিদের মেয়ে রিফা আক্তার (২৩)। তারা ঈদের ছুটি শেষে গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন।

বাসের যাত্রী ও নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার থেকে ছেড়ে আসা বাসটির হঠাৎ করেই তেল শেষ হয়ে যায়। পরে বাসের চালক ও হেলপার মহাসড়কের রেল লাইনের পাশে দাঁড় করিয়ে তেল আনতে যায়। গ্রায় ১ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসটি একই স্থানে রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে কেউ কেউ রেললাইনে বসে ছিলেন এবং ফোনে কথা বলছিলেন। এসময় একটি ট্রেনে এসে তাদের ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মা-ছেলেসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। বাসের যাত্রীরা বেশির ভাগই পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন।

নিহত রিফা আক্তারের বড় ভাই আব্দুল মোমিন বলেন, ‘রাত ৪টার দিকে আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। নিহতরা সবাই আমার পরিবারের এবং আত্মীয়স্বজন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দিয়েছে। মরদেহগুলো নিয়ে বাড়িতে পৌঁছেছি। বাদ জোহর তাদের দাফন করা হবে।’

টাঙ্গাইল রেলস্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান বলেন, ‘গাইবান্ধা থেকে ছেড়ে আসা গাজীপুরের একটি যাত্রীবাহী একটি বাস কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় পৌঁছালে বাসের তেল শেষ হয়ে যায়। এসময় কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশে রেললাইনে বসেছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের ট্রেন চলে আসে। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশুসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনী পক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’

এম.কন্ঠ/ ২৯ মার্চ/এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলেসহ নিহত ৫ জনের মরদেহ হস্তান্তর

প্রকাশ: ০৭:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত পাঁচজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার দিনগত রাত ৪টার দিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আইনী প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের পরিবারের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করে।

এসময় ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রত্যেকের পরিবারকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। এরআগে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার পূরাব নিজপাগা গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস (৩৫), তার ছেলে নিরব (১২), নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা (৩৫), একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান (৩৩) ও আব্দুর রশিদের মেয়ে রিফা আক্তার (২৩)। তারা ঈদের ছুটি শেষে গাইবান্ধা থেকে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন।

বাসের যাত্রী ও নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার থেকে ছেড়ে আসা বাসটির হঠাৎ করেই তেল শেষ হয়ে যায়। পরে বাসের চালক ও হেলপার মহাসড়কের রেল লাইনের পাশে দাঁড় করিয়ে তেল আনতে যায়। গ্রায় ১ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসটি একই স্থানে রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে কেউ কেউ রেললাইনে বসে ছিলেন এবং ফোনে কথা বলছিলেন। এসময় একটি ট্রেনে এসে তাদের ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই মা-ছেলেসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। বাসের যাত্রীরা বেশির ভাগই পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন।

নিহত রিফা আক্তারের বড় ভাই আব্দুল মোমিন বলেন, ‘রাত ৪টার দিকে আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। নিহতরা সবাই আমার পরিবারের এবং আত্মীয়স্বজন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দিয়েছে। মরদেহগুলো নিয়ে বাড়িতে পৌঁছেছি। বাদ জোহর তাদের দাফন করা হবে।’

টাঙ্গাইল রেলস্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান বলেন, ‘গাইবান্ধা থেকে ছেড়ে আসা গাজীপুরের একটি যাত্রীবাহী একটি বাস কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় পৌঁছালে বাসের তেল শেষ হয়ে যায়। এসময় কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশে রেললাইনে বসেছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের ট্রেন চলে আসে। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশুসহ পাঁচ জনের মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইনী পক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহগুলো তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’

এম.কন্ঠ/ ২৯ মার্চ/এম. টি