দেলদুয়ারে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালিত
“গ্রামীন সকল পেশার নারীর অবদানের স্বীকৃতি ও অধিকার সুরক্ষা কর” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার মৌসাকাঠালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে উবিনীগ ও নায়াকৃষি আন্দোলনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গ্রামের নয়াকৃষির বয়োজেষ্ঠ্য নারী কৃষক রহিমা বেগম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দেওয়ান খাইরুন নাহার। উবিনীগের সহযোগী গবেষক ফাহিমা খাতুন লিজা উপস্থাপনায় ছিলেন।
বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উবিনীগের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জনি বলেন, প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালন করা হয়। কৃষি ও গ্রামীন উন্নয়নে নারীদের ভুমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ন। কৃষি থেকে নারীরা আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। কৃষির সাথে নারীদের যে সম্পর্ক ছিল। কৃষির প্রথমে বীজের বিষয়টা আছে। এই বীজ আমাদের ঘরে ছিল কৃষকের হাতে ছিল। এখন বীজ গুলোকে কোম্পানি গুলো নিজের বলে দাবি করছে। আমাদের নারীদের যে অধিকার জ্ঞান টাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের একটাই দাবি । আমাদের কৃষকের বীজ, নারীদের বীজ নারীদের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। কুমার জেলে, পশুপালনে নারীদের ভুমিকার স্বীকৃতি দিতে হবে।
প্রধান অতিথী কৃষক রহিমা বেগম বলেন, আমরা নারীরা ঘরে বাইরে সমান কাজ করি আমাদের কাজের দাম দেওয়া হয় না। নারীর কাজের মূল্যায়ন চাই।
কুমার কল্পনা পাল বলেন, আমাদের কাজ এখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্লাষ্টিক এর কারনে, আমাদের কাজের মূল্য নাই । কৃষিতে আমরা ব্যবহারের জন্য হাড়ি পাতিল সহ নানা পন্য তৈরী করি সমাজে আমাদের কাজের মূল্যায়ন নাই। আমাদর কাজের স্বীকৃতি চাই। তাঁতী সূর্য বেগম বলেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করি মজুরী কম , মেশিনের তাঁতের কারনে আমরা টিকতে পারছি না আমাদের কাজের মূল্যায়ন নাই।
গ্রামের বিভিন্ন পেশার নারীদের অবদান তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মোনতাহিনা খাতুন, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, দেলদুয়ার। পারুল আক্তার, উপজেলা সমবায় অফিসার, তৈয়বা আকতার, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক, ডা. বিদ্যুৎ কুমার সাহা, প্রাণিসম্পদ অফিসার, খন্দকার মাহবুবুর রহমান, উপজেলা শিক্ষা অফিসার, বদরুল আলম, সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, মোছা: খাদিজা আক্তার, একাডেমিক সুপার ভাইজার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাছিরন বেগম, ইউপি সদস্য, দাইমা জায়েদা বেগম, কুমার কল্পনা পাল, কৃষক ছালমা বেগম, তাঁতী সূর্য বেগমসহ অনেকে।
পরিশেয়ে আজকের সভার সভাপতি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আমরা নারীরা ঘরে বাইরে অনেক কাজ করি কিন্তু আমাদের মূল্য নাই। নারীদের কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে। আগে ঘর থেকে শুরু করতে হবে। ঘরের বাইরে নারীরা অনেক নির্যাতিত হয় আপনারা মেয়েদের লেখাপড়া শেখাবেন। আপনারা সেভাবে মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। আপনারা এখানে আসছেন বাড়ির কাজ ফেলে। আপনাদের এখানে আসাটাকেও সম্মান করতে হবে।
এতে তাঁতী, কৃষক, জেলে, কুমার, বেত ও বাঁশ শিল্পসহ নানা শ্রেণী পেশার প্রায় ৫০০ নারীরা র্যালী করে গ্রামীণ নারী দিবসে অংশগ্রহণ করেন।
এম.কন্ঠ/ ১৫ অক্টোবর ২০২৬/এম. টি

























