ঘাটাইলে চাঞ্চল্যকর যুবদল নেতা হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ৫
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে আলোচিত স্থানীয় যুবদল নেতা মিন্টু (৪৭) হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে ঘাটাইল থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মামলার মূল আসামীসহ ৫জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত আমিনুল ইসলাম মিন্টু উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের ছনখোলা আমুয়াবাইদ এলাকার আব্দুল মজিদ মাস্টারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। মিন্টুর পরিবার স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তার বড় ভাই আব্দুল মান্নান সংগ্রামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. সোহেল মিয়া, আবু হানিফ, মো. জয়নাল আবেদীন, মো. মসলিম উদ্দিন, মো. আঃ করিম এবং এ ঘটনায় পলাতক আসামি মির্জা মোয়াজ্জেম হোসেন (তোতা) কে গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত রবিবার ৩১, মে নিখোঁজ হন ঘাটাইল উপজেলার আমুয়াবাইদ এলাকার আমিনুল ইসলাম খান মিন্টু (৪৭) । নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে বিষয়টি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় ঘাটাইল থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে সর্বপ্রথম মামলার অন্যতম আসামি মো. সোহেল মিয়াকে আটক করে পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্যমতে অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মামলার সাথে জড়িত মোট ৫জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেখানো মতে গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় ঘাটাইল থানাধীন কাউটেনগর এলাকার জনৈক রইজ উদ্দিনের মালিকানাধীন একটি নিচু জলাভূমি থেকে কচুরিপানায় ডুবানো অবস্থায় নিখোঁজ মো. আমিনুল ইসলাম খান মিন্টুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। আনুমানিক ৩ মাস আগে বোয়ালিয়া হাটবাড়ি বাজারে মো. আমিনুল ইসলাম খান মিন্টু ও মির্জা মোয়াজ্জেম হোসেন (তোতা) এর মধ্যে তর্কবিতর্কের ঘটনা ঘটে। মির্জা মোয়াজ্জেম হোসেন (তোতা) ঐ ঘটনার পর থেকে মিন্টুর প্রতি ক্ষুব্ধ ও শত্রুভাবাপন্ন হয়ে উঠে এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে অর্থের বিনিময়ে মো. সোহেল ও আবু হানিফকে ভাড়া করে মো. আমিনুল ইসলাম খান মিন্টুকে হত্যার জন্য। পরবর্তীতে সোহেল ও হানিফ গত ৩১ মে রাত সাড়ে ৮টায় মো. আমিনুল ইসলাম খান মিন্টুকে কৌশলে ডেকে নিয়ে ঘাটাইল থানাধীন সংগ্রামপুর ইউনিয়নের কাউটেনগর সাকিনস্থ জনৈক রহিজ উদ্দিন এর ডোবার কাছে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে মো. আমিনুল ইসলাম খান মিন্টুকে লাঠি দিয়ে মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করে এবং উক্ত মৃতদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী রহিজ উদ্দিনের ডোবার কচুরিপানার নিচে মৃতদেহ লুকিয়ে রাখে। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে এবং পলাতক আসামি মির্জা মোয়াজ্জেম হোসেন (তোতা) কে গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে ঘাটাইল থানা পুলিশ।
নিহত মিন্টুর বড় ভাই ও বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান বলেন, আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছিল। আমি আমার ভাই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. সোহেল ও মো. হানিফ নিজেদের দোষ স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। হত্যাকান্ডেরর রহস্য উন্মোচন ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্থানীয় পাঁচজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।
এম.কন্ঠ/ ০৬ জুন /এম. টি

















