মজলুমের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ, টাঙ্গাইলে সমালোচিত এসআই রাসেল আবার ক্লোজড
বহুল প্রচারিত জনপ্রিয় পত্রিকা মজলুমের কণ্ঠে সংবাদ প্রচারের পর প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে যমুনা সেতু পূর্ব থানার এসআই রাসেল মিয়াকে আবার ক্লোজড করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর শুক্রবার মজলুমের কণ্ঠে ‘ক্লোজড হওয়া এসআই রাসেলের ঘুষের টাকা নিয়ে তোলপাড়’ শিরোনামে সংবাদ প্রচারের পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষেল নজরে আসায় তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছে। এর আগে ২৬ আগস্ট গোপালপুর থানায় আলমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামকে থাপ্পড় দেয়ার ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়াকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছিলো। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় কিছু পুলিশ সদস্যের জন্য পুরো বাহিনীর বদনাম হচ্ছে।
রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে যমুনা সেতু পূর্ব থানার ওসি সবজেল হোসেন জানান, ১৯ অক্টোবরের তারিখে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছে। বিষয়টি জানায় তিনি গতকাল রাতেই থানা ত্যাগ করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কালিহাতীর দেউপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের হাফেজ জোনায়েদ আল হাবিব টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের ৭ নং সেতু থেকে তার বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন।
এ সময় মীরহামজানি গ্রামের সেলিম নামে এক সিএনজি চালককে গাড়ি থামাতে ইশারা দিলে তিনি একটু দূরে গিয়ে গাড়িটি থামান। ততক্ষণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক মহাসড়কের পাশে পড়ে যায়। ট্রাক চাপায় হাফেজ জোনায়েদের গুরুত্বর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেলারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের থানায় কোন অভিযোগ করেনি। তবে ট্রাক মালিকের পক্ষকে জোনায়েদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করতে চাইলে তারা কোন সহযোগিতা নেয়নি। ১২ সেপ্টেম্বর যমুনা সেতুর এসআই মো. রাসেল মিয়াসহ দুই পুলিশ সদস্য সিএনজি চালক সেলিমের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে ২৫ হাজার টাকাসহ সিএনজিটি থানায় নিয়ে যান। পরে দিন রাতে তৎকালীন ওসিকে টাকা দিতে হবে বলে আরও ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে সিএনজি ছেড়ে দেন। এ সময় সেলিমের বাবা আব্দুল হাই, আত্মীয় হাফেজ আলী, স্থানীয় তানভীর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান ও পুলিশ তত্ত¡ বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আশরাফুল আলম বলেন, সাধারণ মানুষ যখন যে অপরাধ করে সেই অপরাধ যখন আইনের রক্ষকরা করেন তখন তা বেড়ে যায়। অল্প কিছু সদস্যের জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীর সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশও গ্রহণ যোগ্যতা হারাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ভরসাস্থলে পুলিশ রাখতে হলে এসব সদস্যের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অন্যরা যাতে একই অপরাধ না করে সেই জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে, এতে অন্যরাও সতর্ক থাকবে। এক জনের দোষ আরেক জনের ঘারে চাপানো যাবে না। পুলিশ সদস্যরাও প্রচুর ভাল কাজ করে, তাদেরও সুনাম রয়েছে। এই দুই একজন পুলিশের কারনে বধনাম হচ্ছে। তাই বলা যায়, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে একবারে শেষ করে নয়, পুলিশ বাহিনীর সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এম.কন্ঠ/ ১৯ অক্টোবর /এম. টি

























