ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
কালিহাতীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়, অভিযোগে তদন্তে দুদক নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার সখীপুরে নিখোঁজের দুইদিন পর ডোবা থেকে বিধবা নারীর লাশ উদ্ধার টাঙ্গাইলে টাকা হাওলাদ না দেওয়ায় গৃহবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ গোপালপুর পৌরসভার ১৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা টাঙ্গাইলে শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড কালিহাতীতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ টাঙ্গাইলে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আসামির কারাদন্ড টাঙ্গাইলে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত, পিতা পুত্রসহ গ্রেপ্তার ৩ টাঙ্গাইলে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতামূলক প্রচারণা

দুই সপ্তাহেও খোঁজ মেলেনি নাজিরের, চরম উৎকণ্ঠায় পরিবার

রেজাউল করিম খান :
প্রকাশ: ০১:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নাজির উদ্দিনকে (৩৭) চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

গত ১৬ এপ্রিল সকালে নাজির উদ্দিন টেলিফোনে কান্নাকাটি করে বাবা ও স্ত্রীকে জানান, তাদের ইউক্রেনের সম্মুখযুদ্ধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেদিনের পর থেকে বাড়ির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই নাজিরের। এতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের পরিবারের সদস্যরা। নাজির উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের কুরমুশী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফয়েজ উদ্দিনের একমাত্র ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১৭ সালে নাজির ইরাকে যান। তিন বছর সেখানে চাকরি করে দেশে ফিরে এসে নিজ এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য করে সফল না হওয়ায় আবার বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরে নাজিরের সঙ্গে ঢাকার মিরপুর এলাকার এসপি গ্লোবাল নামের একটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ হয়। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মামুন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয় নাজিরের।

১২ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন নাজির উদ্দিন। দুবাই হয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমালে তাকে কয়েকদিন একটি ক্যাম্পে রাখা হয়। কিছুদিন পর সেখান থেকে বিমানে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে ১৪ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাকে ইউক্রেন সীমান্তে নেওয়া হয়। ১৪ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর তাকে পাঠানো হয় সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান সম্মুখযুদ্ধে যাওয়ার পর থেকে পরিবার সদস্যদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই নাজিরের।


নাজিরের বাবা ফয়েজ উদ্দিন বলেন, আমার ছেলেকে একটি প্যাকেজিং কোম্পানিতে চাকরির আশা দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে কেন যুদ্ধে পাঠানো হলো? চাকরি দেওয়ার মিথ্যা কথা বলে যারা নাজিরকে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠিয়েছে, আমি তাদের বিচার চাই।

নাজিরের স্ত্রী কুলসুম বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। রাশিয়ায় যাওয়ার পর যখন যুদ্ধের প্রশিক্ষণে পাঠানোর কথা জানতে পারেন, তখন থেকে তিনি প্রতিদিন ফোন করে কান্নাকাটি করতেন। গত ১৬ এপ্রিলের পর থেকে তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মরে গেছেন সেটাও জানতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, আমার একমাত্র মেয়ের বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। সে প্রতিদিন বাবার খবরের আশায় তাকিয়ে থাকে। সরকার যেন আমার স্বামীকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয় ০৬ নম্বর দিঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আমিরুল ইসলাম জানান, রাশিয়ায় কাজের কথা বলে নিয়ে একটি প্রতারক চক্র নাজিরের সাথে এমন প্রতারণা করেছে। বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাইদ বলেন, খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এম.কন্ঠ/  ০১ মে   /এম.টি

নিউজটি শেয়ার করুন

দুই সপ্তাহেও খোঁজ মেলেনি নাজিরের, চরম উৎকণ্ঠায় পরিবার

প্রকাশ: ০১:৫৫:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ মে ২০২৫

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নাজির উদ্দিনকে (৩৭) চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

গত ১৬ এপ্রিল সকালে নাজির উদ্দিন টেলিফোনে কান্নাকাটি করে বাবা ও স্ত্রীকে জানান, তাদের ইউক্রেনের সম্মুখযুদ্ধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেদিনের পর থেকে বাড়ির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই নাজিরের। এতে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের পরিবারের সদস্যরা। নাজির উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়নের কুরমুশী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ফয়েজ উদ্দিনের একমাত্র ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১৭ সালে নাজির ইরাকে যান। তিন বছর সেখানে চাকরি করে দেশে ফিরে এসে নিজ এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য করে সফল না হওয়ায় আবার বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরে নাজিরের সঙ্গে ঢাকার মিরপুর এলাকার এসপি গ্লোবাল নামের একটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ হয়। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মামুন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে রাশিয়ায় যাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয় নাজিরের।

১২ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন নাজির উদ্দিন। দুবাই হয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমালে তাকে কয়েকদিন একটি ক্যাম্পে রাখা হয়। কিছুদিন পর সেখান থেকে বিমানে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে ১৪ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তাকে ইউক্রেন সীমান্তে নেওয়া হয়। ১৪ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর তাকে পাঠানো হয় সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান সম্মুখযুদ্ধে যাওয়ার পর থেকে পরিবার সদস্যদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই নাজিরের।


নাজিরের বাবা ফয়েজ উদ্দিন বলেন, আমার ছেলেকে একটি প্যাকেজিং কোম্পানিতে চাকরির আশা দিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাকে কেন যুদ্ধে পাঠানো হলো? চাকরি দেওয়ার মিথ্যা কথা বলে যারা নাজিরকে রাশিয়ায় নিয়ে যুদ্ধে পাঠিয়েছে, আমি তাদের বিচার চাই।

নাজিরের স্ত্রী কুলসুম বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। রাশিয়ায় যাওয়ার পর যখন যুদ্ধের প্রশিক্ষণে পাঠানোর কথা জানতে পারেন, তখন থেকে তিনি প্রতিদিন ফোন করে কান্নাকাটি করতেন। গত ১৬ এপ্রিলের পর থেকে তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মরে গেছেন সেটাও জানতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, আমার একমাত্র মেয়ের বয়স মাত্র সাড়ে তিন বছর। সে প্রতিদিন বাবার খবরের আশায় তাকিয়ে থাকে। সরকার যেন আমার স্বামীকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।

স্থানীয় ০৬ নম্বর দিঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আমিরুল ইসলাম জানান, রাশিয়ায় কাজের কথা বলে নিয়ে একটি প্রতারক চক্র নাজিরের সাথে এমন প্রতারণা করেছে। বিষয়টি ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সাইদ বলেন, খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এম.কন্ঠ/  ০১ মে   /এম.টি