বাসাইলে ধান ব্যবসায়ীর ঘরে টাকা চুরি, মীমাংসার চেষ্টা; আটক ৩
টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক ধান ব্যবসায়ীর ঘর থেকে সোয়া লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিক্ষুব্দ জনতা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া মধ্যপাড়া এলাকার ধান ব্যবসায়ী আনোয়ার মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন- উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া মধ্যপাড়া এলাকার কাশেম মিয়ার ছেলে লিহন মিয়া, ওমেদ আলীর ছেলে রোকন মিয়া ও খোকা মিয়ার ছেলে আসাদ মিয়া। এদের মধ্যে প্রাপ্ত বয়স না হওয়ায় লিহন মিয়াকে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর বাকি দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, আনোয়ার মিয়াসহ তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে না থাকার সুযোগে দুর্বৃত্তরা টিনের ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে কৌশলে ভিতরে প্রবেশ করে। এসময় ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রাখা এক লাখ ২৩ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। পরে আনোয়ার মিয়ার স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়িতে ফিরে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার ও ঘরের পেছনের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পায়। এসময় ড্রয়ারে রাখা টাকাগুলো দেখতে না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আনোয়ারের স্ত্রী ও সন্তানরা। এক পর্যায়ে একই বাড়ির লিহন মিয়াকে সন্দেহ হলে তাকে মুদি দোকানদার আলম মিয়ার বাড়িতে আটক করে স্থানীয়রা। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে রোকন ও আসাদের নাম বেড়িয়ে আসে। আলম মিয়ার বাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে বাসাইল থানা পুলিশ আলম মিয়ার বাড়ি থেকে অভিযুক্ত ৩জনকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী রাতেই এক লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার দুপুরে মামলার পর রোকন ও আসাদকে আদালতে পাঠানো হয়। আর প্রাপ্ত বয়স না হওয়ায় লিহন মিয়াকে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, কলিয়া গ্রামে মাদকের বিস্তার বেড়ে গেছে। খুব সহজেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। মূলক নেশার টাকা জোগাতে মাঝে মধ্যেই এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। মাদকের বিস্তার ও চুরি ঠেকাতে কলিয়া গ্রামে পুলিশি তৎপরতা বাড়ানোর দাবি স্থানীয়দের।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, ‘চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুইজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর একজনের প্রাপ্ত বয়স না হওয়ায় তাকে সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে পরিবারের জিম্বায় মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
এম.কন্ঠ/ ১৭ জুন /এম. টি


























