টাঙ্গাইলের কাইতলা হাট নিয়ে ষড়যন্ত্র, কোটি টাকা রাজস্ব হারাতে পারে সরকার
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ঐতিহ্যবাহী কাইতলা হাট নিয়ে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর শঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন সুরাহা হয়নি। এমনকি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় অর্ধশত বছরের কাইতলা হাটটি পশু (গরু, মহিষ, ছাগল) বিক্রি জন্য বিখ্যাত। যে কারনে এই হাট সর্বোচ্চ রাজস্ব পায় সরকার। চলতি বছরও সরকার তিন কোটি ৫৯ লাখ টাকার উপরে রাজস্ব পেয়েছে। এ দিকে এই হাটটি বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে পাশ^বর্তী সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের লোকজন। শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি তিন লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে দেওদিঘী হাট নিয়েছেন। সেখানে প্রতিনিয়ত বাঁশ বিক্রি হলেও তিনি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে জোড় পূর্বক পশুর হাট বসিয়েছেন। কাইতলার হাটটি শনিবার বসে।
এ দিকে দেওদিঘী হাটটি সোমবার বসলেও সেখানে পশু বিক্রি না করে শুধু বাঁশ বিক্রি করা হতো। কাইতলা হাটটি ক্ষতি করতে জোরপূর্বক শনিবার দেওদিঘীতে পশুর হাট বসানো হচ্ছে। এতে কোরবানীর ঈদের আগে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যে কোন সময় সংঘর্ষ ঘটতে পারে।
এ দিকে ২১ এপ্রিল দেওদিঘী হাটের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কাইতলা হাটের ইজারাদার মাসুদুর রহমান। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, দেওদিঘী হাটের কারনে কাইতলা হাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও কাইতলা হাটে যাওয়া বিভিন্ন পাইকার ও খামারি গরু জোরপূর্বক দেওদিঘী হাটে নামানোর অভিযোগ রয়েছে হাট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
২৬ এপ্রিল এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার মো. রাফিউল ইসলাম দেওদিঘীর হাটটি শনিবারের পরিবর্তে সোমবার বসানোর জন্য সখীপুরের নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।
আব্দুল লতিফ ও আনোয়ার হোসেন নামের দুই পাইকার বলেন, আমরা কয়েক দশক যাবত কাইতলা হাটে গরু বিক্রি করি। গত হাটে দেওদিঘী হাটে গরু বিক্রি করতে করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে আমরা তেমন লাভ করতে পারছি না।
কাইতলা হাটের ইজারাদার মাসুদুর রহমান বলেন, একই দিনে কাছাকাছি আরেকটি হাট বসালে দুই হাটের সুনাম নষ্ট হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এছাড়াও কয়েক কোটি টাকা দিয়ে আমি ইজারা নেয়ায় আমার মতো হাটটিরও ক্ষতি হতে পারে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
দেওদিঘী হাটের ইজারাদার শফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়দের আবেদনের পেক্ষিতে হাটে বাঁশের পাশাপাশি পশু বিক্রি করা হচ্ছে। কারো বা কোন হাটের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এখানে পশু বিক্রি করা হয় না।
সখীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রনী বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চিঠি পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সখীপুরের ইউএনও লিখিত আকারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এম.কন্ঠ/ ০৪ মে /এম. টি

















