ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
স্ত্রীকে হত্যা করে নিজেই পুলিশে খবর দেন, স্বামীর যাবজ্জীবন টাঙ্গাইলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে ১৯ বছর পর স্বামীর যাবজ্জীবন হামের টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিলো বিগত সরকার প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কালিহাতীতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন টাঙ্গাইলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযানে হত্যা ও ধর্ষণ মামলার দুই আসামী গ্রেপ্তার কালিহাতীতে এমআর টিকাদান কর্মসূচি উপলক্ষে সমন্বয় সভা ঘাটাইলে বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ছাগল পেয়ে খুশি টাঙ্গাইলে অর্ধশতাধিক খামারি টাঙ্গাইলে তিনদিন ব্যাপী বিজ্ঞান মেলা শুরু

দেলদুয়ারে ব্যারিস্টার আশরাফুলের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

দেলদুয়ার প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ০১:১৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়া ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি ও বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

বুধবার বেলা ১১ টায় উপজেলার লাউহাটী বাজারে কাতুলি সহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের জনসাধারণের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুলোয় এ আওয়ামী লীগ নেতা দলিয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি এলাকায় একজন আওয়ামী লীগার হিসেবে পরিচিত। এর আগে তিনি দেশ বরণ্য জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছিলেন। এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি এক পক্ষের নিকট থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে অন্য পক্ষকে ঘায়েল করতে নিজে মামলা সাজিয়ে দেন এবং সে মামলাগুলো পরিচালনা করে লাভবান হন। নিজে আইনজীবী হওয়ার সুবাদে মামলা করিয়ে দিয়ে বাদী-বিবাদী উভয়কেই সর্বাসান্ত করেছেন এমন অনেক নজির রয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এছাড়াও তিনি নানা ফায়দা লুটতে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করছেন বলেও অনেকের দাবি।

উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের কাতুলী গ্রামের মো. মজনু মিয়ার ছেলে আশরাফুল ইসলাম লন্ডনে আইন বিষয়ে অধ্যয়নকাল থেকেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। ওই সময়ে লন্ডনে সফরে যাওয়া জনৈক বিচারপতিকে হেনস্তা করেন আশরাফুল। ওই বিচারপতি দেশে এসে আশরাফুলের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। পরে দেশে আসার সময় এয়ারপোর্টে গ্রেফতার হয়েছিলেন আশরাফুল ইসলাম।

কাতুলী গ্রামে একই মাঠে গরু কুরবানী নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ গত কয়েক বছর যাবত। ৩ বছর যাবত প্রশাসনের উপস্থিতিতে ওই গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরও ৫ জুন উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহীনি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বৈঠকে বসে সুষ্ঠু সমাধান দেন। বিরোধপূর্ণ মাঠে গরু কোরবানী করবেন না মর্মে প্রতিশ্রুতি দেন ব্যরিস্টার আশরাফুলের বাবা মজনু মিয়া।

কিন্তু ঈদের আগের দিন ব্যরিস্টার আশরাফুল বাড়ী এসে ওই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিরোধপূর্ণ মাঠেই কোরবানী দেবেন এমন সিদ্ধান্ত নেন। প্রশাসনের নিকট এ খবর পৌছলে গরু কোরবানী দেওয়ার আগেই সেনাবাহীনি, থানা পুলিশ সহ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই স্থানে হাজির হয়ে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে বিরোধপূর্ণ মাঠে কোরবানী না করার জন্য বলেন। কিন্তু ব্যরিস্টার আশরাফুল ইসলাম প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই স্থানেই কোরবানী করবেন এমন সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে ব্যরিস্টার আশরাফুল বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে প্রশাসন সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশংকায় সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত ও পরামর্শে কাতুলী মসজিদ ও মাদরাসার সামনের খোলা জায়গার পরিবর্তে যার যার গ্রামে বাড়ীর সমনে পশু কোরবানী দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিলো।

এ বিষয়ে জনৈক ব্যক্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন কার্যক্রম গ্রহণে সচেষ্ট থাকবে। কারও কল্পনা প্রসূত উস্কানীমূলক কথায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার আশরাফ বলেন, আমি বাদি হয়ে কারও বিরুদ্ধে মামলা করিনি। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী নারী। অভিযোগকারীরা ওই নারীর জমি বেদখল দিয়ে সেখানে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছেন। এটাই আসল ঘটনা।

এম.কন্ঠ/  ১১ জুন   /এম.টি

নিউজটি শেয়ার করুন

দেলদুয়ারে ব্যারিস্টার আশরাফুলের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

প্রকাশ: ০১:১৭:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ জুন ২০২৫

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়া ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি ও বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

বুধবার বেলা ১১ টায় উপজেলার লাউহাটী বাজারে কাতুলি সহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের জনসাধারণের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুলোয় এ আওয়ামী লীগ নেতা দলিয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। তিনি এলাকায় একজন আওয়ামী লীগার হিসেবে পরিচিত। এর আগে তিনি দেশ বরণ্য জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য করে তোপের মুখে পড়েছিলেন। এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি এক পক্ষের নিকট থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে অন্য পক্ষকে ঘায়েল করতে নিজে মামলা সাজিয়ে দেন এবং সে মামলাগুলো পরিচালনা করে লাভবান হন। নিজে আইনজীবী হওয়ার সুবাদে মামলা করিয়ে দিয়ে বাদী-বিবাদী উভয়কেই সর্বাসান্ত করেছেন এমন অনেক নজির রয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এছাড়াও তিনি নানা ফায়দা লুটতে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করছেন বলেও অনেকের দাবি।

উপজেলার লাউহাটী ইউনিয়নের কাতুলী গ্রামের মো. মজনু মিয়ার ছেলে আশরাফুল ইসলাম লন্ডনে আইন বিষয়ে অধ্যয়নকাল থেকেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। ওই সময়ে লন্ডনে সফরে যাওয়া জনৈক বিচারপতিকে হেনস্তা করেন আশরাফুল। ওই বিচারপতি দেশে এসে আশরাফুলের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেন। পরে দেশে আসার সময় এয়ারপোর্টে গ্রেফতার হয়েছিলেন আশরাফুল ইসলাম।

কাতুলী গ্রামে একই মাঠে গরু কুরবানী নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ গত কয়েক বছর যাবত। ৩ বছর যাবত প্রশাসনের উপস্থিতিতে ওই গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরও ৫ জুন উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহীনি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বৈঠকে বসে সুষ্ঠু সমাধান দেন। বিরোধপূর্ণ মাঠে গরু কোরবানী করবেন না মর্মে প্রতিশ্রুতি দেন ব্যরিস্টার আশরাফুলের বাবা মজনু মিয়া।

কিন্তু ঈদের আগের দিন ব্যরিস্টার আশরাফুল বাড়ী এসে ওই সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিরোধপূর্ণ মাঠেই কোরবানী দেবেন এমন সিদ্ধান্ত নেন। প্রশাসনের নিকট এ খবর পৌছলে গরু কোরবানী দেওয়ার আগেই সেনাবাহীনি, থানা পুলিশ সহ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই স্থানে হাজির হয়ে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে বিরোধপূর্ণ মাঠে কোরবানী না করার জন্য বলেন। কিন্তু ব্যরিস্টার আশরাফুল ইসলাম প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই স্থানেই কোরবানী করবেন এমন সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে ব্যরিস্টার আশরাফুল বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে প্রশাসন সম্পর্কে অশোভন মন্তব্য করেন।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ বলেন, ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশংকায় সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত ও পরামর্শে কাতুলী মসজিদ ও মাদরাসার সামনের খোলা জায়গার পরিবর্তে যার যার গ্রামে বাড়ীর সমনে পশু কোরবানী দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিলো।

এ বিষয়ে জনৈক ব্যক্তির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসন কার্যক্রম গ্রহণে সচেষ্ট থাকবে। কারও কল্পনা প্রসূত উস্কানীমূলক কথায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার আশরাফ বলেন, আমি বাদি হয়ে কারও বিরুদ্ধে মামলা করিনি। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা দায়ের করেছেন ভূক্তভোগী নারী। অভিযোগকারীরা ওই নারীর জমি বেদখল দিয়ে সেখানে মাদরাসা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছেন। এটাই আসল ঘটনা।

এম.কন্ঠ/  ১১ জুন   /এম.টি