দেশব্যাপী ইংরেজি বানান দক্ষতা বিকাশে
শাহীন শিক্ষা পরিবারের স্পিলিং স্টার প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা
দৈনিক যুগান্তরের প্রিন্ট মিডিয়া পার্টনারশিপে দেশব্যাপী ইংরেজি বানান দক্ষতা বিকাশে শাহীন শিক্ষা পরিবারের স্পিলিং স্টার প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুকবার সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত ৩৪ টি জেলার ৪০ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশ নিতে ২২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
এ দিকে সকালে টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, শাহীন শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাছুদুল আমীন শাহীন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাফর আহমেদ, বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আ. হালিম প্রমুখ।
সরেজমিন দেখা যায়, পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। নির্ধারিত ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষার্থীরা পৃথক সারিতে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশ করে এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করে। পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের আগেই সুসজ্জিত তোরণের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয়। আকর্ষণীয় মাঠসজ্জা ও বিভিন্ন ফটো পয়েন্টে পরীক্ষার্থীরা বাবা-মায়ের সঙ্গে ছবি তোলে এবং আনন্দঘন সময় কাটায়। পরীক্ষা শুরুর আগেই পুরো কেন্দ্রজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। পরীক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন।

শাহীন শিক্ষা পরিবার জানায়, প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় মোট ৫০টি প্রশ্ন ছিল এবং পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রেই নির্ধারিত পদ্ধতিতে উত্তর প্রদান করে। পরীক্ষা শেষে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী উত্তরপত্র মূল্যায়নের কার্যক্রম শুরু করা হয় বলে জানান শাহীন শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাছুদুল আমীন শাহীন। পরবর্তী বিভাগীয় রাউন্ডে প্রায় ৫০০ নির্বাচিত পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। সেখানে লিখিত ও মৌখিক মূল্যায়নের মাধ্যমে দেশব্যাপী ১০০ জন প্রতিযোগীকে নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত এই ১০০ জনকে নিয়ে মূল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগিতায় শীর্ষ ১০ প্রতিযোগীর জন্য থাকবে আকর্ষণীয় ল্যাপটপসহ বিশেষ পুরস্কার। পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে থাকবে ৩ লাখ টাকা, ২ লাখ টাকা, ১ লাখ টাকা এবং দুজনের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ।
আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুদের ইংরেজি বানান দক্ষতা ও শব্দভান্ডার বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা বিকাশের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে শিশুদের ইংরেজিভীতি দূর করে মাতৃভাষার মতো স্বাভাবিক ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইংরেজিকে গ্রহণ ও শেখার মানসিকতা তৈরি করাও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
পরীক্ষায় অংশ নেয়া চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিবেক সরকার বলেন, প্রতিটি পরীক্ষা থেকে নতুন নতুন অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয়। আজকের পরিক্ষার থেকেও অনেক কিছু শিখেছি। পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
অপর শিক্ষার্থী বিএম গোলাম মোর্শেদ আদিব বলেন, আমি জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে সারা দেশে নিজেকেই পরিচিত করতে চাই। পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো লাগছে।
শিক্ষার্থী আদনান আল নোমান বলেন, আমি বড় হয়ে সেনাবাহিনীর সদস্য হতে চাই। এই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আমার অনেকটা ভীতি দূর হলো।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভীতি দূর করার জন্য এই অনুষ্ঠানটি ভালো ভূমিকা রাখবে। এ ধরনে এক্সট্রা কারিকুলামের কারনে শিক্ষার্থী মোবাইলসহ খারাপ দিক থেকে বিরত থাকবে। ফলে আমাদের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিশোরগ্যাং মুক্ত সমাজ গঠনে সহায়তা করবে।
শাহীন শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাছুদুল আমীন শাহীন বলেন, সাধারণ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতে কোন ভাবেই মনে না করে, ইংরেজি তাদের আন্তর্জাতিক ভাষা। মার্তৃভাষা বাংলার মতোই যাতে ইংরেজিকে গ্রহণ করতে পারে সেই জন্য এই আয়োজন। এক জন শিক্ষার্থী যখন এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে, তখন বানান শুদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি সব বিষয়ে সমৃদ্ধ হবে। প্রাথমিক পর্যায় থেকে সন্তানদের ইংরেজিতে সমৃদ্ধ করার জন্য এ ধরনের প্রতিযোগিতা মাঝে মধ্যেই আয়োজন করা হবে।
এম.কন্ঠ/ ২১ অগাস্ট /এম. টি























