ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
ঘাটাইলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকৃত কৃষকের হাতেই কৃষক কার্ড দিয়েছেন টাঙ্গাইলে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন টাঙ্গাইলে কৃষি মেলার উদ্বোধণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক সচ্ছল থাকলে দেশ ভালো থাকবে-প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈশাখী শোভাযাত্রায় কালিহাতীতে বাংলা নববর্ষ উদযাপন সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানোই আমাদের বড় দায়িত্ব-প্রতিমন্ত্রী টুকু কক্সবাজারে সাড়ে পাঁচ হাজার জেলের নিরাপত্তা দিতে ইন্টারনেট চালু করা হবে-মাহবুব আনাম স্বপন বাসাইলে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারসহ ৩ ছিনতাইকারী গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উচ্ছ্বসিত টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের মানুষ

টাঙ্গাইলে মাসব্যাপী সবার জন্য ইফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ০৬:৩০:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গাইল শহরে আসা ভূমিহীন থেকে বহুতল ভবণের মালিক, দিন মজুর থেকে সরকারি কর্মচারি, নারী পুরুষ সবার জন্য মাসব্যাপী ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম রোজ থেকে শুরু করে চাঁদ রাত পর্যন্ত টাঙ্গাইল শহরের শহীদ মিনারে চলছে মাসব্যাপী বিনামূল্যে ইফতার কর্মসূচি চলবে।

এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ত্রিবেণী টাঙ্গাইল এবং বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি ব্যাচ-১৯৯২। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ রোজাদার বিনামূল্যে এখানে ইফতার করছেন।

আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, ২০১৫ সাল থেকে এই দুই সংগঠন মিলে পবিত্র রমজানে ইফতারের আয়োজন করে। এখানে কোনো দিন বুট, মুড়ি, পেঁয়াজু, চপ, জিলাপি, ফলসহ বিভিন্ন ইফতারি দিয়ে রোজাদারদের আপ্যায়ন করা হয়। আবার কোনো দিন খিচুড়ি মাংসের আয়োজন করা হয়। তবে প্রতিদিনই শরবত থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইফতার করার জন্য সারিবদ্ধভাবে লোকজন বসে আছেন। এদের কেউ স্কুলছাত্র, ব্যবসায়ী, ভ্যানচালক; আবার কেউ রিকশাচালক, পথচারী, ভিক্ষুক, অসহায় এবং দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। টাঙ্গাইল শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ ও টহল পুলিশের সদস্যদের জন্যও এখান থেকে বিনামূল্যে ইফতার করে থাকেন।

ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মনিরুজ্জামান নামের এক শিক্ষক বলেন, গত কয়েক বছর শহিদ মিনারের ইফতারের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখেছি। এ বছর নিজে ইফতার করেছি। মহৎ এই উদ্যোগে সাথে যারা জড়িত, তাদের মঙ্গল কামনা করি।
রিকশাচালক হারুন মিয়া বলেন, ইফতারি কিনে খেতে অনেক টাকা লাগে। দুই থেকে তিন বছর ধরে এখানে ইফতার করছি। খিচুড়ি, মাংসের পাশাপাশি মুড়ি, পেঁয়াজু, বুট, কলা খেয়েছি। তাদের খাবারের মান খুব ভালো।’

ত্রিবেণীর সদস্য বিভূতি ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রতি দিন তিন শতাধিক রোজাদার এখানে ইফতার করেন। মূলত পথচারী এবং গরিব মানুষের জন্য এমন আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইল শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ ও টহল পুলিশ সদস্যরাও এখান থেকে বিনামূল্যে ইফতারি করে থাকেন। সপ্তাহে দুই দিন খিচুরিও দেয়া হয় রোজাদারদের মাঝে।

ত্রিবেণীর সভাপতি মোমেনুল ইসলাম খান বাপ্পী বলেন, অসহায় অনেক মানুষের রমজান মাসে ইফতারি কেনার সামর্থ্য নেই। এছাড়া দূরের অনেক মানুষ রমজানের সময় টাঙ্গাইলে এসে ঠিকমতো ইফতার করতে পারেন না। মূলত তাদের কথা চিন্তা করে আমরা বিনামূল্যে ইফতারের আয়োজন করেছি।

 

এম.কন্ঠ/ ০৯ মার্চ/এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলে মাসব্যাপী সবার জন্য ইফতার

প্রকাশ: ০৬:৩০:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

টাঙ্গাইল শহরে আসা ভূমিহীন থেকে বহুতল ভবণের মালিক, দিন মজুর থেকে সরকারি কর্মচারি, নারী পুরুষ সবার জন্য মাসব্যাপী ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম রোজ থেকে শুরু করে চাঁদ রাত পর্যন্ত টাঙ্গাইল শহরের শহীদ মিনারে চলছে মাসব্যাপী বিনামূল্যে ইফতার কর্মসূচি চলবে।

এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ত্রিবেণী টাঙ্গাইল এবং বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি ব্যাচ-১৯৯২। প্রতিদিন প্রায় ৩০০ রোজাদার বিনামূল্যে এখানে ইফতার করছেন।

আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, ২০১৫ সাল থেকে এই দুই সংগঠন মিলে পবিত্র রমজানে ইফতারের আয়োজন করে। এখানে কোনো দিন বুট, মুড়ি, পেঁয়াজু, চপ, জিলাপি, ফলসহ বিভিন্ন ইফতারি দিয়ে রোজাদারদের আপ্যায়ন করা হয়। আবার কোনো দিন খিচুড়ি মাংসের আয়োজন করা হয়। তবে প্রতিদিনই শরবত থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইফতার করার জন্য সারিবদ্ধভাবে লোকজন বসে আছেন। এদের কেউ স্কুলছাত্র, ব্যবসায়ী, ভ্যানচালক; আবার কেউ রিকশাচালক, পথচারী, ভিক্ষুক, অসহায় এবং দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। টাঙ্গাইল শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ ও টহল পুলিশের সদস্যদের জন্যও এখান থেকে বিনামূল্যে ইফতার করে থাকেন।

ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মনিরুজ্জামান নামের এক শিক্ষক বলেন, গত কয়েক বছর শহিদ মিনারের ইফতারের খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখেছি। এ বছর নিজে ইফতার করেছি। মহৎ এই উদ্যোগে সাথে যারা জড়িত, তাদের মঙ্গল কামনা করি।
রিকশাচালক হারুন মিয়া বলেন, ইফতারি কিনে খেতে অনেক টাকা লাগে। দুই থেকে তিন বছর ধরে এখানে ইফতার করছি। খিচুড়ি, মাংসের পাশাপাশি মুড়ি, পেঁয়াজু, বুট, কলা খেয়েছি। তাদের খাবারের মান খুব ভালো।’

ত্রিবেণীর সদস্য বিভূতি ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রতি দিন তিন শতাধিক রোজাদার এখানে ইফতার করেন। মূলত পথচারী এবং গরিব মানুষের জন্য এমন আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইল শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ ও টহল পুলিশ সদস্যরাও এখান থেকে বিনামূল্যে ইফতারি করে থাকেন। সপ্তাহে দুই দিন খিচুরিও দেয়া হয় রোজাদারদের মাঝে।

ত্রিবেণীর সভাপতি মোমেনুল ইসলাম খান বাপ্পী বলেন, অসহায় অনেক মানুষের রমজান মাসে ইফতারি কেনার সামর্থ্য নেই। এছাড়া দূরের অনেক মানুষ রমজানের সময় টাঙ্গাইলে এসে ঠিকমতো ইফতার করতে পারেন না। মূলত তাদের কথা চিন্তা করে আমরা বিনামূল্যে ইফতারের আয়োজন করেছি।

 

এম.কন্ঠ/ ০৯ মার্চ/এম. টি