ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২৩৮ মালমায় অভিযুক্ত ছিলো টুকু
সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ছাত্রদল থেকে রাজনীনিতে হাতেখড়ি। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতিও ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে সুনামের সাথে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। টাঙ্গাইলের নেতা হলেও সারাদেশেই তার রয়েছে পরিচিতি ও সুনাম। টেকনাথ থেকে তেতুলিয়া, সুরমা থেকে পাথারিয়া রয়েছে তার গ্রহণ যোগ্যতা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৫ আসনে (সদর) আসনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। মনোনয়ন পত্রে জমা দেওয়া হলফ নামায় উল্লেখ করেছেন, রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসাও করেন তিনি।
হলফনামায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, তিনি স্নাতক পাশ। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তার নামে ২৩৮টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে তিনটি থেকে অব্যাহতি এবং দুটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকি মামলাগুলো থেকে খালাস পেয়েছেন তিনি। নিজের ও স্ত্রীর রয়েছে বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে। ব্যাংকে আছে স্থায়ী আমানত। টুকুর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ টাকা রয়েছে তিন লাখ ৩৭ হাজার ২৯২ টাকা। তবে টুকুর বিপরীতে তার স্ত্রী নামে দুই গুণের বেশি নগদ টাকা রয়েছে আট লাখ ১৫ হাজার ৭৯৫ টাকা।
হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, টুকুর বার্ষিক আয় এক কোটি ৪৯ লাখ ৯৫ হাজার ১৪১ টাকা। তার স্ত্রী সায়মা পারভীন সিম্মির বার্ষিক আয় ৫৪ লাখ ৪২ হাজার ১২৬ টাকা। টুকুর বাড়ি ভাড়া ও কৃষি কৃষি খাত থেকে বার্ষিক আয় না থাকলেও ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় এক কোটি ২৯ লাখ ৬৩ হাজার ৮৯৩ টাকা। তবে তার স্ত্রী বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে বার্ষিক পান ৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। শেয়ার সঞ্চয়পত্র কিংবা ব্যাংক আমানত থেকে টুকু সুদ পান ১০ লাখ ১৫ হাজার ৬২৪ টাকা। খামার থেকে বার্ষিক আয় ১০ লাখ ১৫ হাজার ৬২৪ টাকা।
নিজের ব্যাংকে জমা ১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৪ হাজার ৫১ টাকা। সঞ্চয়পত্র আমানত রয়েছে ২৯ লাখ ১৩ হাজার ৯৫০ টাকা। স্ত্রীর ব্যাংকে জমা রয়েছে ৭৪ লাখ ৩৯০ টাকা। উপহার হিসেবে টুকুর ৪৫ ভরি ও স্ত্রীর ৮০ ভরি সোনা রয়েছে। টুকুর ফ্রিজ ও টিভি ও ফ্যানের মূল্য ৫০ হাজার টাকা এবং খাট ও আলমারির মূল্য ৫০ হাজার টাকা।
এছাড়া বাস, ট্রাক, মোটরযান ও মোটরসাইকেল ইত্যাদির বিবরণীতে অধিগ্রহণকালীন মূল্য ২৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী টুকুর টাঙ্গাইলে ৫ দশমিক ৭৭৫ শতাংশ জমি পেয়েছেন। মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য পাঁচ কোটি ১০ লাখ ৫৫ হাজার ২৯৭ টাকা। এছাড়া মোট স্থাবর সম্পদের মূল্য এক কোটি ৫০ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্নে দেখানো টুকুর সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ১৫ লাখ ২৪ হাজার ৭৯৬ টাকা। আয়ের পরিমাণ এক কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ৩২৫ টাকা।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। এবার উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণ ভোট দেবেন। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সন্তোষজনক রয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে, এটাই জনগণের প্রত্যাশা। জনগণ সুযোগ দিলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোরগ্যাংমুক্ত করে একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এম.কন্ঠ/ ০৪ জানুয়ারী /এম. টি



















