ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উচ্ছ্বসিত টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ০২:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ডের উদ্বোধনসহ নানা কর্মসূচিতে যোগ দিতে টাঙ্গাইলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর জেলা পর্যায়ে তার এটি দ্বিতীয় সফর। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উচ্ছ্বসিত জেলার সর্বস্তরের মানুষ। টাঙ্গাইলে সিটি কর্পোরেশন, পরিত্যাক্ত এয়ারপোর্ট চালু, যমুনা নদীতে স্থায়ী বেরীবাঁধসহ নানা দাবি তুলেছেন দলের নেতাকর্মীরা। এ দিকে প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়েছেন, টাঙ্গাইল থেকে সারা দেশের ২৭ হাজার কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত করা হচ্ছে টাঙ্গাইলের দুটি হ্যালিপ্যাড, শহিদ মারুফ স্টেডিয়াম, কৃষি মেলা, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক। এছাড়াও কয়েক স্তুরের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিটসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তৎপড়তা চালাচ্ছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সাড়ে ১০টায় জেলা স্টেডিয়ামে কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সেখানে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ভাষণ শেষে পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করবেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন তারা। শহরজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভাবর্ধনের কাজ। স্টেডিয়ামে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ ও শফিকুর রহমান খান বলেন, টাঙ্গাইলে সিটি কর্পোরেশন, শহরের পরিত্যাক্ত এয়ারপোর্ট চালু, যমুনা নদীতে স্থায়ী বেরীবাঁধ, ভাসানী হল পুনঃনির্মাণ ও সরকারি সা’দত কলেজকে পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে। এছাড়াও বেকার সমস্য দূর করতে শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার গোড়াই থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করা হবে। আমরা খুব আনন্দিত। ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে যাচ্ছে টাঙ্গাইল।

পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, সফর সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখের মতো একটি দিনে মওলানা ভাসানীর স্মৃতিধন্য টাঙ্গাইলের মাটিতে এ কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়া জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে টাঙ্গাইলে এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এ সফর জেলার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে, এমনটি প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের।

 

এম.কন্ঠ/ ১৩ এপ্রিল /এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উচ্ছ্বসিত টাঙ্গাইলের সর্বস্তরের মানুষ

প্রকাশ: ০২:০৪:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ডের উদ্বোধনসহ নানা কর্মসূচিতে যোগ দিতে টাঙ্গাইলে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর জেলা পর্যায়ে তার এটি দ্বিতীয় সফর। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে উচ্ছ্বসিত জেলার সর্বস্তরের মানুষ। টাঙ্গাইলে সিটি কর্পোরেশন, পরিত্যাক্ত এয়ারপোর্ট চালু, যমুনা নদীতে স্থায়ী বেরীবাঁধসহ নানা দাবি তুলেছেন দলের নেতাকর্মীরা। এ দিকে প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দিতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়েছেন, টাঙ্গাইল থেকে সারা দেশের ২৭ হাজার কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে প্রস্তুত করা হচ্ছে টাঙ্গাইলের দুটি হ্যালিপ্যাড, শহিদ মারুফ স্টেডিয়াম, কৃষি মেলা, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজারসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক। এছাড়াও কয়েক স্তুরের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিটসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তৎপড়তা চালাচ্ছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সাড়ে ১০টায় জেলা স্টেডিয়ামে কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সেখানে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ভাষণ শেষে পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করবেন।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের খবরে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রিয় নেতাকে দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন তারা। শহরজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভাবর্ধনের কাজ। স্টেডিয়ামে মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ ও শফিকুর রহমান খান বলেন, টাঙ্গাইলে সিটি কর্পোরেশন, শহরের পরিত্যাক্ত এয়ারপোর্ট চালু, যমুনা নদীতে স্থায়ী বেরীবাঁধ, ভাসানী হল পুনঃনির্মাণ ও সরকারি সা’দত কলেজকে পূর্নাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে। এছাড়াও বেকার সমস্য দূর করতে শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে হবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার গোড়াই থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করা হবে। আমরা খুব আনন্দিত। ইতিহাসের স্বাক্ষী হতে যাচ্ছে টাঙ্গাইল।

পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, সফর সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখের মতো একটি দিনে মওলানা ভাসানীর স্মৃতিধন্য টাঙ্গাইলের মাটিতে এ কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়া জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে টাঙ্গাইলে এক উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এ সফর জেলার সার্বিক উন্নয়নের পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে, এমনটি প্রত্যাশা নেতাকর্মীদের।

 

এম.কন্ঠ/ ১৩ এপ্রিল /এম. টি