ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

টাঙ্গাইলে জেলা আ.লীগ নেতা ও সমবায় ব্যাংকের সভাপতির বিচার দাবি ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ০১:১৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সভাপতি কুদরত এলাহী কে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল সমবায় মার্কেটে ব্যবসায়ীরা এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে টাঙ্গাইল সমবায় সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির আহবায়ক রাহেলা জাকির অভিযোগ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাদের দোসররা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন যেভাবে নিজেদের দখলে নিয়ে নানা দুর্নীতির মধ্য দিয়ে অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে তেমনি তাদের আরেক দোসর ভয়ংকর দুর্নীতিবাজ মো. আমির কুদরত-ই-এলাহি খান দলীয় প্রভাববলয়ে থেকে জোরবলে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সভাপতির পদ দখল করে অত্র ব্যাংকের তদানীন্তন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সুলতান আলম খানের সাথে যোগসাজশে অন্যান্য লোকজনের সহায়তায় দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ব্যাংকটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।

একই সাথে ব্যাংকের সমবায় সুপার মার্কেটটির উন্নয়নের নামে একটি অত্যন্ত জমজমাট মার্কেট ভবন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন এবং দশতলা মার্কেট করার এবং সেখানকার ব্যবসায়ীদের নতুন ভবনে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে তাদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন তারপর এই দীর্ঘদিনেও ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না-করে বরং আদায়কৃত কয়েক কোটি টাকা এই কুদরত-ই-এলাহী খানচক্র আত্মসাৎ করে। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায়ের সাথে সাথে তারা পালিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে সমবায় মার্কেটের পুরাতন ব্যবসায়ীদের অনেকেই পথে বসেছেন এবং ৩০ জনের মতো পুরাতন দোকান মালিক মৃত্যুবরন করেছেন। এদিকে বর্তমানে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের আলোচিত দুর্নীতির বিষয়ে ব্যাপক তদন্তের মাধ্যমে কুচক্রী কুদরত-ই-এলাহি খানচক্রের কয়েক জনের বিরুদ্ধে দুদক জেলা কার্যালয় টাঙ্গাইলে পাঁচটি মামলা দায়ের করেছে।

প্রতিটি মামলায়ই আসামী করা হয়েছে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সভাপতি মো. আমির কুদরত-ই-এলাহি খান ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সুলতান আলম খানকে যিনি বর্তমানে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার উপজেলা সমবায় অফিসার হিসেবে কর্মরত। এই মামলার বাকি অভিযুক্তরা, কুদরত-ই- এলাহি খান চক্রের অপরাপর মো. সুলতান আলম খান, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. নাছির উদ্দিন, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, শিপ্রা দেবনাথ, রেখা ইয়াসমিন, মোহাম্মদ ইমতিয়াজ রুহুল, মো. আনছার সিকদার, মো. শাহীনুজ্জামান, মো. সিরাজুল ইসলাম।

মামলাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মামলাগুলোর প্রতিটির আমির কুদরত-ই-এলাহি খান ও সুলতান আলম খান পরস্পর যোগসাজশে বিগত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের দশতলা শপিং কমপ্লেক্স প্রকল্পের দোকান বরাদ্দ গ্রহীতাদের নিকট থেকে অগ্রিম জামানতের রশিদমূলে আদায়কৃত মোট ১১ কোটি ১৩ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করে। ঠিকাদারকে অগ্রিম প্রদানের মিথ্যা অথবা বানোয়াট ভাউচার সৃষ্টির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।

অন্য আসামিরা নিজেরা লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে আলোচ্য অর্থবছরগুলোর অডিট বিধি মোতাবেক সম্পাদন না-করে উক্ত টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেন। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছর থেকে ২০২৪-২-২৫ অর্থ বছর পর্যন্ত এই ব্যাংকে তথা সমবায়ীদের অভাবনীয় অর্থ লোপাট হয়েছে। বর্তমানে সমবায় শপিং কমপ্লেক্সের নামে যে ভবন তৈরি করা হয়েছে সে ভবনে যারা নতুন বরাদ্দ পেয়েছেন তারাও আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিগত ১০ বছরে জেলা কোর্ট, ঢাকা হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোর্ট মিলে ১২, ১৩ টা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর আমির কুদরত-ই- এলাহি খানসহ সহযোগী কর্মকর্তা কর্মচারীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান করতে হবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা আমাদের পুরাতন ১৫৫ এবং নতুন সম্ভাব্য ১৫০ ব্যাক্তিগণের অপুরনীয় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকটিকে একটি ধ্বংশস্তুপে পরিনত করেছে। দুদক অনুসন্ধানে প্রমানীত আসামীদের গ্রেফতার করে তাদের উর্ধ্বতন সহযোগীদের শাস্তির আওতায় এনে টাঙ্গাইল সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের এবং সমবায়ীদের সম্পদ রক্ষা করুন।

 

এম.কন্ঠ/  ১৯ জুলাই  /এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

টাঙ্গাইলে জেলা আ.লীগ নেতা ও সমবায় ব্যাংকের সভাপতির বিচার দাবি ব্যবসায়ীদের

প্রকাশ: ০১:১৪:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সভাপতি কুদরত এলাহী কে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইল সমবায় মার্কেটে ব্যবসায়ীরা এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে টাঙ্গাইল সমবায় সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির আহবায়ক রাহেলা জাকির অভিযোগ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তাদের দোসররা দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন যেভাবে নিজেদের দখলে নিয়ে নানা দুর্নীতির মধ্য দিয়ে অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে তেমনি তাদের আরেক দোসর ভয়ংকর দুর্নীতিবাজ মো. আমির কুদরত-ই-এলাহি খান দলীয় প্রভাববলয়ে থেকে জোরবলে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সভাপতির পদ দখল করে অত্র ব্যাংকের তদানীন্তন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সুলতান আলম খানের সাথে যোগসাজশে অন্যান্য লোকজনের সহায়তায় দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ব্যাংকটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।

একই সাথে ব্যাংকের সমবায় সুপার মার্কেটটির উন্নয়নের নামে একটি অত্যন্ত জমজমাট মার্কেট ভবন ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন এবং দশতলা মার্কেট করার এবং সেখানকার ব্যবসায়ীদের নতুন ভবনে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে তাদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন তারপর এই দীর্ঘদিনেও ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না-করে বরং আদায়কৃত কয়েক কোটি টাকা এই কুদরত-ই-এলাহী খানচক্র আত্মসাৎ করে। ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায়ের সাথে সাথে তারা পালিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে সমবায় মার্কেটের পুরাতন ব্যবসায়ীদের অনেকেই পথে বসেছেন এবং ৩০ জনের মতো পুরাতন দোকান মালিক মৃত্যুবরন করেছেন। এদিকে বর্তমানে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয় টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের আলোচিত দুর্নীতির বিষয়ে ব্যাপক তদন্তের মাধ্যমে কুচক্রী কুদরত-ই-এলাহি খানচক্রের কয়েক জনের বিরুদ্ধে দুদক জেলা কার্যালয় টাঙ্গাইলে পাঁচটি মামলা দায়ের করেছে।

প্রতিটি মামলায়ই আসামী করা হয়েছে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের সভাপতি মো. আমির কুদরত-ই-এলাহি খান ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সুলতান আলম খানকে যিনি বর্তমানে চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার উপজেলা সমবায় অফিসার হিসেবে কর্মরত। এই মামলার বাকি অভিযুক্তরা, কুদরত-ই- এলাহি খান চক্রের অপরাপর মো. সুলতান আলম খান, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. নাছির উদ্দিন, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, শিপ্রা দেবনাথ, রেখা ইয়াসমিন, মোহাম্মদ ইমতিয়াজ রুহুল, মো. আনছার সিকদার, মো. শাহীনুজ্জামান, মো. সিরাজুল ইসলাম।

মামলাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মামলাগুলোর প্রতিটির আমির কুদরত-ই-এলাহি খান ও সুলতান আলম খান পরস্পর যোগসাজশে বিগত ২০১৫-২০১৬ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের দশতলা শপিং কমপ্লেক্স প্রকল্পের দোকান বরাদ্দ গ্রহীতাদের নিকট থেকে অগ্রিম জামানতের রশিদমূলে আদায়কৃত মোট ১১ কোটি ১৩ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করে। ঠিকাদারকে অগ্রিম প্রদানের মিথ্যা অথবা বানোয়াট ভাউচার সৃষ্টির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।

অন্য আসামিরা নিজেরা লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে আলোচ্য অর্থবছরগুলোর অডিট বিধি মোতাবেক সম্পাদন না-করে উক্ত টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেন। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছর থেকে ২০২৪-২-২৫ অর্থ বছর পর্যন্ত এই ব্যাংকে তথা সমবায়ীদের অভাবনীয় অর্থ লোপাট হয়েছে। বর্তমানে সমবায় শপিং কমপ্লেক্সের নামে যে ভবন তৈরি করা হয়েছে সে ভবনে যারা নতুন বরাদ্দ পেয়েছেন তারাও আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিগত ১০ বছরে জেলা কোর্ট, ঢাকা হাইকোর্ট, সুপ্রীম কোর্ট মিলে ১২, ১৩ টা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর আমির কুদরত-ই- এলাহি খানসহ সহযোগী কর্মকর্তা কর্মচারীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান করতে হবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা আমাদের পুরাতন ১৫৫ এবং নতুন সম্ভাব্য ১৫০ ব্যাক্তিগণের অপুরনীয় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকটিকে একটি ধ্বংশস্তুপে পরিনত করেছে। দুদক অনুসন্ধানে প্রমানীত আসামীদের গ্রেফতার করে তাদের উর্ধ্বতন সহযোগীদের শাস্তির আওতায় এনে টাঙ্গাইল সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের এবং সমবায়ীদের সম্পদ রক্ষা করুন।

 

এম.কন্ঠ/  ১৯ জুলাই  /এম. টি