ঈদযাত্রায় জ্বালানি সংকটে বিপাকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চালকরা
ওষুধ কোম্পানীর কাভার্ড ভ্যান চালক রবিউল ইসলাম। নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে ওষুধ নিয়ে রংপুরের তারাগঞ্জ যাচ্ছেন।
শনিবার বিকেল ৪ টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের রসুলপুর সবুর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির জন্য গাড়ির লাইনে দাঁড়ান। রোববার দুপুর ২ টা পর্যন্ত তিনি কোন জ¦ালানি পাননি।
রবিউল ইসলাম বলেন, ২২ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও কোন জ্বালানি পাইনি। এতে যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, অন্য দিকে সময় মতো ওষুধ পৌছে দিতে পারছি না। গাড়ির ওষুধ গুলো তারাগঞ্জ পৌছে দিয়ে রুপগঞ্জ ফিরে তারপর ছুটি নিয়ে বাড়ি যেতে হবে। জ¦ালানি তেলের যে সংকট আর যে যানজট তাতে মনে হয় ঈদ সড়কেই করতে হবে।
শুধু রবিউল ইসলাম নয়, তার মতো হাজার হাজার যানবাহনের চালক বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির জন্য অপেক্ষা করছে। চাতক পাখির মতো পাম্পের দিকে তাকিয়ে রয়েছে চালকরা।
মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা জানান, ইতিমধ্যে অনেকটা ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। গত বুধবার থেকে টাঙ্গাইলের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্পে ডিজেল আসার কয়েক ঘন্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ দুর্ভোগ শেষ হবে কবে তাও জানেন না পরিবহন চালকরা।
পরিবহন চালকরা জানান, টাঙ্গাইলের বেশির ভাগ ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের চালকরা। কেউ কেউ ১৫ থেকে ২২ ঘন্টা যাবত পাম্পে সিরিয়াল দিয়েও কাঙ্খিত জ্বালানি না পেয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চলমান ঈদযাত্রায় জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।
কালিহাতীর ট্রাক চালক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গতকাল রাতে চাল ঢাকা রেখে টাঙ্গাইলে এসে বিভিন্ন পাম্প ঘুরেও তেল পায়নি। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও বাড়লে তখন মহা বিপদ হতে পারে।
মহাসড়কের বিপুল পরিবহনের চালক ছানোয়ার হোসেন বলেন, আমি জামালপুর থেকে কক্সবাজার টিপ দেই। রোববার ভোর থেকে পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে থেকেও কোন জ্বালানি পাচ্ছি না। তবে টাঙ্গাইলের কোন কোন পাম্প তাদের স্থানীয় যানবাহন ও প্রভাবশালীদের জ্বালানি দিচ্ছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি কামনা করেন তিনি।
টাঙ্গাইল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান বলেন, টাঙ্গাইলে নারায়নগঞ্জ ও বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে জ্বালানি আনা হয়। সেখানে থেকে পর্যাপ্ত সরাবরাহ দিতে পারছে না। এতে আমরাও গ্রাহকদের চাহিদা মিটাতে পারছি না। জ্বালানি নামানোর কয়েক ঘন্টার মধ্যে তা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, ইতিমধ্যে টাঙ্গাইলে জ্বালানি মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি অভিযোগে বেশ কয়েক জনকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য ফিলিং স্টেশনকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম লাবলু বলেন, আমরা কাঙ্খিত জ্বালানি পাচ্ছি না। এ অবস্থা চলতে থাকলে পুরোদমে যখন ঈদযাত্রা শুরু হবে, তখন আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এম.কন্ঠ/ ১৬ মার্চ/এম. টি



























