ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
কালিহাতীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়, অভিযোগে তদন্তে দুদক নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার সখীপুরে নিখোঁজের দুইদিন পর ডোবা থেকে বিধবা নারীর লাশ উদ্ধার টাঙ্গাইলে টাকা হাওলাদ না দেওয়ায় গৃহবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ গোপালপুর পৌরসভার ১৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা টাঙ্গাইলে শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড কালিহাতীতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ টাঙ্গাইলে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আসামির কারাদন্ড টাঙ্গাইলে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত, পিতা পুত্রসহ গ্রেপ্তার ৩ টাঙ্গাইলে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতামূলক প্রচারণা

ওএমএসের চাল আটা কালোবাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ডিলার রফিকুল

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ০৭:৩৯:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫

টাঙ্গাইল শহরের বেড়াবুচনা বৌ-বাজার এলাকার ওএমএস ডিলার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের চাল আটা কালো বাজারের বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য বিভাগের কর্মচারীদের সহযোগিতায় রফিকুল ইসলাম স্থানীয়দের সরকার নির্ধারিত দামে চাল আটা না দিয়ে অতিরিক্ত দামে কালোবাজারে বিক্রি করে থাকেন।

এ দিকে খালি বস্তা কেনার আড়ালে কালোবাজারের চাল আটা কেনার অভিযোগ রয়েছে কালিহাতীর এলেঙ্গা এলাকার লাভলী বেগম নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

সোমবার বিকেল ৩ টায় বেড়াবুচনা বৌ বাজার রফিকুলের বিক্রয় কেন্দ্র থেকে এক ব্যাটারি চালিত অটো রিকশায় ওএমএসের আট বস্তা চাল ও এক বস্তা আটা তুলতে দেখা যায়।

রফিকুলের কর্মচারী মেরাজ মিয়া বলেন, লাভলী বেগম নামের ওই মহিলা খালি বস্তা কেনার পাশাপাশি চাল আটাও কিনেন। খাদ্য পরিদর্শক যারা থাকেন তাদের বললে আমাদের কয়েক বস্তা করে চাল আটা দিয়ে যায়।

পাশের মনোহারী দোকানে আসা হাবিবুল্লাহ বলেন, আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাল আটা পাই না। তবে রফিকুল ইসলাম বিভিন্নভাবে কালো বাজারের মাধ্যমে চাল আটা বিক্রি করে থাকেন। খাদ্য অফিসের যারা দায়িত্বে থাকেন তাদেরও চোখ বন্ধ থাকে।

সংবাদ কর্মীদের উপস্থিতির টের পেয়ে লাভলী বেগম অটো রিকশাক থেকে শটকে পড়েন। বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশার চালক রিফাত শান্তিকুঞ্জ মোড় হয়ে, থানাপাড়া দিয়ে, আদালত পাড়া, বাজিতপুর ও আদি টাঙ্গাইল ঘুরে পুনরায় শান্তিকুঞ্জ মোড় থেকে লাভলী বেগমকে তুলে নিয়ে কালিহাতীর এলেঙ্গা কলেজ মোড় এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচে গিয়ে থামেন। সেখানে লাভলী বেগম তারা কাকা শহিদুল ইসলামের কাছে চাল, আটা ও খালি বস্তা দেন।

লাভলী বেগম বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন। পরে সংবাদকর্মীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন লাভলী।
তবে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে রফিকুল ইসলামের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

রফিকুল ইসলামের বিক্রয় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা খাদ্য পরিদর্শক সুজয় কর্মকার বলেন, আমি সোমবার রফিকুল ইসলামের বিক্রয় কেন্দ্রে ছিলাম না। অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তবে সেখানে আমাদের অফিসের দারোয়ান মো. জিয়া দায়িত্বে ছিলেন।

দারোয়ান জিয়া বলেন, সকাল ৯ টা হতে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও আমি সোমবার দুপুর দেড় টায় চলে আসি। তখন রফিকুলের বিক্রয় কেন্দ্রে ১৩৩০ কেজি চাল ছিলো। আমি আসার পরে কালোবাজারে চাল বিক্রি করছে কিনা সেটা আমি জানি না।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেন বলেন, রফিকুলের কালোবাজারে চাল বিক্রি করার বিষয়টি আমার জানা নেই। সেখানে যারা দায়িত্ব ছিলেন তাদের সাথে কথা বলে জানাতে পারবো। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম.কন্ঠ/ ২১ জানুয়ারী /এম.টি

নিউজটি শেয়ার করুন

ওএমএসের চাল আটা কালোবাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ডিলার রফিকুল

প্রকাশ: ০৭:৩৯:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫

টাঙ্গাইল শহরের বেড়াবুচনা বৌ-বাজার এলাকার ওএমএস ডিলার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের চাল আটা কালো বাজারের বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য বিভাগের কর্মচারীদের সহযোগিতায় রফিকুল ইসলাম স্থানীয়দের সরকার নির্ধারিত দামে চাল আটা না দিয়ে অতিরিক্ত দামে কালোবাজারে বিক্রি করে থাকেন।

এ দিকে খালি বস্তা কেনার আড়ালে কালোবাজারের চাল আটা কেনার অভিযোগ রয়েছে কালিহাতীর এলেঙ্গা এলাকার লাভলী বেগম নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

সোমবার বিকেল ৩ টায় বেড়াবুচনা বৌ বাজার রফিকুলের বিক্রয় কেন্দ্র থেকে এক ব্যাটারি চালিত অটো রিকশায় ওএমএসের আট বস্তা চাল ও এক বস্তা আটা তুলতে দেখা যায়।

রফিকুলের কর্মচারী মেরাজ মিয়া বলেন, লাভলী বেগম নামের ওই মহিলা খালি বস্তা কেনার পাশাপাশি চাল আটাও কিনেন। খাদ্য পরিদর্শক যারা থাকেন তাদের বললে আমাদের কয়েক বস্তা করে চাল আটা দিয়ে যায়।

পাশের মনোহারী দোকানে আসা হাবিবুল্লাহ বলেন, আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাল আটা পাই না। তবে রফিকুল ইসলাম বিভিন্নভাবে কালো বাজারের মাধ্যমে চাল আটা বিক্রি করে থাকেন। খাদ্য অফিসের যারা দায়িত্বে থাকেন তাদেরও চোখ বন্ধ থাকে।

সংবাদ কর্মীদের উপস্থিতির টের পেয়ে লাভলী বেগম অটো রিকশাক থেকে শটকে পড়েন। বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশার চালক রিফাত শান্তিকুঞ্জ মোড় হয়ে, থানাপাড়া দিয়ে, আদালত পাড়া, বাজিতপুর ও আদি টাঙ্গাইল ঘুরে পুনরায় শান্তিকুঞ্জ মোড় থেকে লাভলী বেগমকে তুলে নিয়ে কালিহাতীর এলেঙ্গা কলেজ মোড় এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচে গিয়ে থামেন। সেখানে লাভলী বেগম তারা কাকা শহিদুল ইসলামের কাছে চাল, আটা ও খালি বস্তা দেন।

লাভলী বেগম বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন। পরে সংবাদকর্মীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন লাভলী।
তবে মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে রফিকুল ইসলামের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

রফিকুল ইসলামের বিক্রয় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা খাদ্য পরিদর্শক সুজয় কর্মকার বলেন, আমি সোমবার রফিকুল ইসলামের বিক্রয় কেন্দ্রে ছিলাম না। অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলাম। তবে সেখানে আমাদের অফিসের দারোয়ান মো. জিয়া দায়িত্বে ছিলেন।

দারোয়ান জিয়া বলেন, সকাল ৯ টা হতে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও আমি সোমবার দুপুর দেড় টায় চলে আসি। তখন রফিকুলের বিক্রয় কেন্দ্রে ১৩৩০ কেজি চাল ছিলো। আমি আসার পরে কালোবাজারে চাল বিক্রি করছে কিনা সেটা আমি জানি না।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ তানভীর হোসেন বলেন, রফিকুলের কালোবাজারে চাল বিক্রি করার বিষয়টি আমার জানা নেই। সেখানে যারা দায়িত্ব ছিলেন তাদের সাথে কথা বলে জানাতে পারবো। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম.কন্ঠ/ ২১ জানুয়ারী /এম.টি