ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
কালিহাতীতে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়, অভিযোগে তদন্তে দুদক নাগরপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর পাটক্ষেত থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার সখীপুরে নিখোঁজের দুইদিন পর ডোবা থেকে বিধবা নারীর লাশ উদ্ধার টাঙ্গাইলে টাকা হাওলাদ না দেওয়ায় গৃহবধূকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ গোপালপুর পৌরসভার ১৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা টাঙ্গাইলে শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড কালিহাতীতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ টাঙ্গাইলে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আসামির কারাদন্ড টাঙ্গাইলে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক নিহত, পিতা পুত্রসহ গ্রেপ্তার ৩ টাঙ্গাইলে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতামূলক প্রচারণা

টাঙ্গাইলে ৩দিন ব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ১২:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫

oppo_2

টাঙ্গাইলে বিলুপ্ত প্রায় গ্রামীন খেলাধুলাসহ বাহারি পিঠার স্বাদ নিয়ে তিন দিন ব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব শুরু হয়েছে।

বুধবার সকালের শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে টাঙ্গাইল কালচারাল রিফরমেশন ফোরাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এ উৎসবের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহেল রানা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হামিদুল হক মোহন, লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদের পরিকল্পনাবিদ ও নিদের্শক ছিলেন গোলাম আম্বিয়া নুরী, আহ্বায়ক আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, সদস্য সচিব অনিক রহমান বুলবুল প্রমুখ।

আয়োজক জানান, বর্তমান প্রজ্জমের মাঝে অতীতের গ্রামীণ লোক সংস্কৃতি তুলে ধরাই অনুষ্ঠানের মুল লক্ষ্য। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীন খেলাধুলাকে বর্তমানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে মোবাইল ব্যবহারের ফাঁকে বাংলার ইতিহাস সর্ম্পকে ওরা জানতে পারবে।

তারা আরও জানায়, ৪০টি দোকানে পিঠা ছাড়াও বিভিন্ন খাবার পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ২০০ রকমের পিঠা পসরা দেখা যায়। এসব পিঠার মধ্যে মালাই পিঠা, মুঠি পিঠা, আন্দশা, কুলশি, কাটা পিঠা, কলা পিঠা, খেজুর পিঠা, ক্ষীর কুলি, গোকুল পিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, পুলি পিঠা, পাতা পিঠা, পাটিসাপটা,পাকান পিঠা, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, নারকেল জিলাপি, তেলের পিঠা, চাঁদ পাকান পিঠা, ঝুরি পিঠা, ছাঁচ পিঠা, দুধি চিতই, বিবিখানা, ভাঁপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, মালপোয়া, নকশি পিঠা উল্লেখ্যযোগ্য।

লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসবে দেশীয় খেলা দাঁড়িয়বান্দা, বউচি, লাঠিখেলা, ওপেন্টি বায়োস্কোপ, হা-ডু-ডু, চিবুরি, গোল্লাছুট, এক্কা-দোক্কা, লোকজ সংস্কৃতি জারিগান, পুথিপাঠ, পালাগান, লোকনৃত্য, কবিগান, লোকগীতি, পল্লীগীতি, ভাওয়াইয়া, শ্যামাসংগীত, কীর্তন, কিচ্ছা বয়ান প্রভূতি। এছাড়া মেলায় প্রতিদিনই থাকছে –বাউলগান, কবিগান, লোকনৃত্য, সঙযাত্রা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পৌরউদ্যানের উম্মুক্ত প্রাঙ্গণের স্টলে স্টলে পিঠার পসরা সাজিয়ে চলছে বিকিকিনি। বাহারি রঙের সঙ্গে বৈচিত্র্যময় ডিজাইন ও নকশায় অনন্য হয়ে এক একটি পিঠা। দোকানে পিঠা বানাচ্ছে বিক্রেতা আর কিনে খাচ্ছেন ক্রেতারা। আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য পিঠাপুলির সঙ্গে সেলফি তুলে পিঠা কেনা ও খাওয়ার দৃশ্যকে স্মৃতিময় করে রাখার চেষ্টাও লক্ষনীয়।

পৌরউদ্যানে লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব আয়োজন ঘিরে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রছাত্রী ও শহরের সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম মোস্তফা লাবু বলেন, পশ্চিমা সংস্কৃতি ও আমাদের পাশর্^বর্তী দেশের সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন কারনে আমাদের দেশের সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে তিন দিন ব্যাপী আয়োজন করা হয়। এমন অনুষ্ঠান আগামী প্রজন্মের সন্তানকে মাদক, সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখবে। ভবিষ্যতে আবারও আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

টাঙ্গাইল কালচারাল রিফরমেশন ফোরামের আয়োজনে উৎসবে শেষ দিনে পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ।

এম.কন্ঠ/ ১৬ জানুয়ারী /এম.টি

নিউজটি শেয়ার করুন

টাঙ্গাইলে ৩দিন ব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব শুরু

প্রকাশ: ১২:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫

টাঙ্গাইলে বিলুপ্ত প্রায় গ্রামীন খেলাধুলাসহ বাহারি পিঠার স্বাদ নিয়ে তিন দিন ব্যাপী লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব শুরু হয়েছে।

বুধবার সকালের শহরের শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে টাঙ্গাইল কালচারাল রিফরমেশন ফোরাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এ উৎসবের উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহেল রানা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হামিদুল হক মোহন, লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদের পরিকল্পনাবিদ ও নিদের্শক ছিলেন গোলাম আম্বিয়া নুরী, আহ্বায়ক আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, সদস্য সচিব অনিক রহমান বুলবুল প্রমুখ।

আয়োজক জানান, বর্তমান প্রজ্জমের মাঝে অতীতের গ্রামীণ লোক সংস্কৃতি তুলে ধরাই অনুষ্ঠানের মুল লক্ষ্য। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া গ্রামীন খেলাধুলাকে বর্তমানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে মোবাইল ব্যবহারের ফাঁকে বাংলার ইতিহাস সর্ম্পকে ওরা জানতে পারবে।

তারা আরও জানায়, ৪০টি দোকানে পিঠা ছাড়াও বিভিন্ন খাবার পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ২০০ রকমের পিঠা পসরা দেখা যায়। এসব পিঠার মধ্যে মালাই পিঠা, মুঠি পিঠা, আন্দশা, কুলশি, কাটা পিঠা, কলা পিঠা, খেজুর পিঠা, ক্ষীর কুলি, গোকুল পিঠা, গোলাপ ফুল পিঠা, পুলি পিঠা, পাতা পিঠা, পাটিসাপটা,পাকান পিঠা, নারকেলের সেদ্ধ পুলি, নারকেল জিলাপি, তেলের পিঠা, চাঁদ পাকান পিঠা, ঝুরি পিঠা, ছাঁচ পিঠা, দুধি চিতই, বিবিখানা, ভাঁপা পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠা, মালপোয়া, নকশি পিঠা উল্লেখ্যযোগ্য।

লোকজ সাংস্কৃতিক উৎসবে দেশীয় খেলা দাঁড়িয়বান্দা, বউচি, লাঠিখেলা, ওপেন্টি বায়োস্কোপ, হা-ডু-ডু, চিবুরি, গোল্লাছুট, এক্কা-দোক্কা, লোকজ সংস্কৃতি জারিগান, পুথিপাঠ, পালাগান, লোকনৃত্য, কবিগান, লোকগীতি, পল্লীগীতি, ভাওয়াইয়া, শ্যামাসংগীত, কীর্তন, কিচ্ছা বয়ান প্রভূতি। এছাড়া মেলায় প্রতিদিনই থাকছে –বাউলগান, কবিগান, লোকনৃত্য, সঙযাত্রা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পৌরউদ্যানের উম্মুক্ত প্রাঙ্গণের স্টলে স্টলে পিঠার পসরা সাজিয়ে চলছে বিকিকিনি। বাহারি রঙের সঙ্গে বৈচিত্র্যময় ডিজাইন ও নকশায় অনন্য হয়ে এক একটি পিঠা। দোকানে পিঠা বানাচ্ছে বিক্রেতা আর কিনে খাচ্ছেন ক্রেতারা। আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য পিঠাপুলির সঙ্গে সেলফি তুলে পিঠা কেনা ও খাওয়ার দৃশ্যকে স্মৃতিময় করে রাখার চেষ্টাও লক্ষনীয়।

পৌরউদ্যানে লোকজ সাংস্কৃতিক ও পিঠা উৎসব আয়োজন ঘিরে বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রছাত্রী ও শহরের সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক আবুল কালাম মোস্তফা লাবু বলেন, পশ্চিমা সংস্কৃতি ও আমাদের পাশর্^বর্তী দেশের সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন কারনে আমাদের দেশের সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে তিন দিন ব্যাপী আয়োজন করা হয়। এমন অনুষ্ঠান আগামী প্রজন্মের সন্তানকে মাদক, সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখবে। ভবিষ্যতে আবারও আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

টাঙ্গাইল কালচারাল রিফরমেশন ফোরামের আয়োজনে উৎসবে শেষ দিনে পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ।

এম.কন্ঠ/ ১৬ জানুয়ারী /এম.টি