টাঙ্গাইলে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিকসিত করতে জেলা প্রশাসক শরীফা হকের নানা উদ্যোগ
টাঙ্গাইলের শিশু শিক্ষার্থীদের বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ও বিকসিত করতে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক শরীফা হক ৪৫টি কার্যক্রম শুরু করেছেন। এতে প্রতিটি শিশু সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
এরই ধারাবাহিতকতায় রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলা প্রশাসক শরীফা হক শিক্ষা মানোন্নয়নে জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নানা পরামর্শ দেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সকল প্রাইমারি স্কুলের প্রধানদের সাথে একাধিক সভা, শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অভিভাবক সমাবেশ, বিদ্যালয় গুলোতে কৃষ্ণচূড়া, জারুল ও সোনালু গাছের চারা রোপন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ১৬০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্লে গ্রাউন্ড নির্মাণসহ প্রায় প্রতিটি প্রদক্ষেপই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে বিভিন্ন লেখকদের বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করতে বুক কর্ণার স্থাপন ও খেলা ধূলায় উৎসাহিত করতে খেলা সামগ্রীও বিতরণ করা হয়েছে।

দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল, পরিবেশ সচেতন হবে এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজে আসছে। শিক্ষার্থীদের কাছে পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগ, কালার পেন্সিল বক্স, টিফিন বক্স, ওয়াটার বটল, স্কুল ব্যাগসহ শিক্ষা উপকরণও বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে উৎসাহি করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিশুদের বিজ্ঞানমনস্ক করতে বিজ্ঞান মেলার আয়োজন বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞান বক্স বিতরণ ও প্রযুক্তি নির্ভর ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে স্কুলগুলোতে দেয়া হচ্ছে আধুনিক আইটি সরঞ্জাম।
আরো জানা যায়, শিশুদের পরিবেশ সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় বৃক্ষরোপন থেকে শুরু করে শব্দ দূষণ, উদ্ভিদের জীবনচক্র আর খাদ্য শৃঙ্খল কর্মশালার মাধ্যমে শেখানো হচ্ছে। স্কুল গুলোতে বর্জ্য পৃথকীকরণ এর জন্য তিন রঙের বিন দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিশুরা বর্জ্য আলাদা করা শিখলে কাল সারা দেশ শিখবে, ভবিষ্যতে তারা জলবায়ু পরিবর্তনের সৈনিক হবে।
আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার একটি অন্যতম কারণ পথচারীদের অসচেতনতাও। শিক্ষার্থীদের তাদের বয়স উপযোগী করে কর্মশালার মাধ্যমে কিছু বেসিক ট্রাফিক রুলস শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি যেন শিক্ষার্থীরা সড়কে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারে।

মিড ডে মিল ও সুষম খাদ্যপ্রান্তিক পর্যায়ের বেশ কিছু স্কুলে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সুষম খাদ্য নিয়ে ব্যবহারিক ক্লাসও হচ্ছে শ্রেণিকক্ষে। উদ্দেশ্য শৈশব থেকেই যেন শিশুরা পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে জানে, আর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।
শিশুদের মন থেকে দুর্যোগের আতঙ্ক দূর করে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহযোগিতায় স্কুলগুলোতে ভূমিকম্প ও অগ্নিদুর্ঘটনায় করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক মহড়া করা হচ্ছে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে স্কুলের পাশের সড়ক গুলো সংস্কার করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে ১৬০ টি স্কুলে তিনি বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত ম্যুরাল স্থাপন করেছেন। অভিভাবক সমাবেশে সন্তানকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো, শৃঙ্খলা, ডিভাইস আসক্তি থেকে দূরে রাখা, বাল্যবিবাহ ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অভিভাবকদের পরামর্শ দিচ্ছেন জেলা প্রশাসক।

চাকতা গ্রামের গোলাম রাব্বিসহ কযেক জন অভিভাবক বলেন, বর্তমান জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে প্রাথমিক শিক্ষার মান অনেকটা উন্নতি হচ্ছে। এক দিকে শিক্ষার্থীরা পাঠ্য বইয়ের বাইরে বাস্তবতা শিখছে, অপর দিকে খেলা ধূলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও বিকসিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, শিশুরা প্রতিটি দেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাদের পরিপূর্ণ বিকাশ ও উর্বর শৈশব নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। প্রচলিত প্রশাসনিক পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়ে জেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে রুপান্তর করা হচ্ছে সমন্বিত মানবিক যাত্রায় যার লক্ষ্য ভবিষ্যত পৃথিবীকে নেতৃত্বদানে সক্ষম সুনাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতেই কাজ করে যাচ্ছি।
এম.কন্ঠ/ ১২ জুলাই /এম. টি






















