টাঙ্গাইলে বেশি ঠিকাদারী কাজ পাওয়ায় রানাকে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা করা হয়
বিদ্যুৎ অফিসের ঠিকাদার রানা আহাম্মেদ গত বছরের শেষের দিকে ও চলতি বছরের শুরুতে বেশ কিছু কাজ পায়। সেই কাজ দেখে অন্য ঠিকাদাররা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে থামানোর চেষ্টা করেন।
এক পর্যায়ে কয়েক জন ঠিকাদার বৈঠক করে রানা আহাম্মেদের উপর হামলার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর গ্রেপ্তার হওয়া শাকিল আহমেদ ধরেরবাড়ীর উজ্জল হোসেনকে দায়িত্ব দেন।
৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে উজ্জল সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের কয়েক জন শীর্ষ সর্বহারার সদস্যদের সাথে কথা বলে রানার উপর হামলা করার দায়িত্ব দেয়। তবে হামলার পাশাপাশি যে গুলি করা হবে, এ বিষয়ে উজ্জল ও অন্য ঠিকাদাররা আগে থেকে জানাতো না।
রোববার রাতে টাঙ্গাইল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন গ্রেপ্তার হওয়া তিন ঠিকাদার। গ্রেপ্তার হওয়া উজ্জল হোসেনের বক্তব্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইসমত আরা, শাকিল আহমেদের বক্তব্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজ উদ্দিন ফরাজী ও মো. শাহীনের বক্তব্য সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট সজীব চৌধুরী লিপিবদ্ধ করেন।
স্বীকারোক্তিতে তারা আরও বলেন, হামলায় তাদের ঠিকাদারদের নির্দেশে সদর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কালিহাতীর চর পৌলির কিছু সন্ত্রাসীরা ঠিকাদার রানা আহাম্মেদের উপর হামলা করে। তাদের মধ্যে কেউ অর্থ দিছে, কেউ সন্ত্রাসী সর্বহারা সদস্যদের ভাড়া করে দিয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঠিকাদার রানা আহাম্মেদের গতিবিদি লক্ষ্য করে। পুলিশ ও আদালত সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, গত ২৬ মে সোমবার দুপুরে শহরের বেলটিয়াবাড়ী মোড়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার পলাশতলী এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রানা আহাম্মেদ (৫৫) সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। এময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে সন্ত্রাসীরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করা রানা আহাম্মেদকে। পরবর্তীতে তার স্ত্রী মীরা আক্তার বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। ২৮ মে সন্ত্রাসীদের বহনকৃত ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার চালক কালিহাতীর জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে অটো চালক ও ঠিকাদার রানা আহাম্মেদের তথ্য যাচাই বাছাই করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শনিবার রাতে শহরের আদালত পাড়া থেকে চাঞ্চল্যকর ঠিকাদার রানা আহাম্মেদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও গুলি নিক্ষেপের ঘটনার মামলায় যুবলীগ নেতাসহ তিন জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রোববার বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শহরের কাগমারা মেসের মার্কেট এলাকার মো. আতাব আলীর ছেলে মো. শাহীন (৩২), সন্তোষ এলাকার মো. শফিকুল ইসলাম এর ছেলে মো. শাকিল আহমেদ (২৭), ধরেরবাড়ি এলাকার মৃত আবু সাইদের ছেলে ও বাঘিল ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. উজ্জল হোসেন (৩৮)।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানবীর আহাম্মেদ বলেন, বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
এম.কন্ঠ/ ১৮ অগাস্ট /এম. টি





















