ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু হত্যা মামলায় সৎ মায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জিনিয়া বখ্শ, আদালত প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ১২:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলে শিশু হত্যা মামলায় সৎ মাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এই রায় প্রদান দেন।

দণ্ডিত ব্যক্তির নাম সাবরিন নাহার সিনথি। তিনি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের মেয়ে। তিনি নিহত শিশুর বাবা সালাউদ্দিন ইমনের দ্বিতীয় স্ত্রী।

আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরেন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলি (পিপি) মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসায় সালাউদ্দিন ইমনের শিশু সন্তান সাইফ টেলিভিশন দেখছিল। উচ্চ আওয়াজে টেলিভিশন দেখার কারণে সৎ মা সাবরিন নাহার সিনথি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি ৩ বছরের শিশু সাইফকে পাশের রুমে ডেকে নিয়ে ওড়না দিয়ে হাত ও নাক-মুখ বেঁধে ফেলে। এতে সাইফ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ঘটনা ভিন্ন খাতে সাজাতে তিনি শিশুটির হাত-পা বেঁধে বাথরুমে নিয়ে পানিভর্তি বালতিতে মাথা ডুবিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর ডাকাতির নাটক সাজাতে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো করে। স্বামীর কাছে ফোনে ডাকাতির মিথ্যা তথ্য জানায়। ঘটনার পর নিহতের দাদা মোহা. সরোয়ার হোসেন বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

পুলিশের সন্দেহ হলে সাবরিন নাহারকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সাইফকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে দোষ স্বকার করে জবানবন্দি দেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রতীমা রানী তরফদার তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ১৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালতে মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রায় ঘোষণার পর দন্ডিত সাবরিন নাহারকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

 

এম.কন্ঠ/ ০৪ নভেম্বর ২০২৬/এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশু হত্যা মামলায় সৎ মায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশ: ১২:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলে শিশু হত্যা মামলায় সৎ মাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এই রায় প্রদান দেন।

দণ্ডিত ব্যক্তির নাম সাবরিন নাহার সিনথি। তিনি রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের মেয়ে। তিনি নিহত শিশুর বাবা সালাউদ্দিন ইমনের দ্বিতীয় স্ত্রী।

আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছরেন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের সরকারি কৌশুলি (পিপি) মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, ২০২০ সালের ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার বাসায় সালাউদ্দিন ইমনের শিশু সন্তান সাইফ টেলিভিশন দেখছিল। উচ্চ আওয়াজে টেলিভিশন দেখার কারণে সৎ মা সাবরিন নাহার সিনথি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি ৩ বছরের শিশু সাইফকে পাশের রুমে ডেকে নিয়ে ওড়না দিয়ে হাত ও নাক-মুখ বেঁধে ফেলে। এতে সাইফ নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ঘটনা ভিন্ন খাতে সাজাতে তিনি শিশুটির হাত-পা বেঁধে বাথরুমে নিয়ে পানিভর্তি বালতিতে মাথা ডুবিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর ডাকাতির নাটক সাজাতে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো করে। স্বামীর কাছে ফোনে ডাকাতির মিথ্যা তথ্য জানায়। ঘটনার পর নিহতের দাদা মোহা. সরোয়ার হোসেন বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

পুলিশের সন্দেহ হলে সাবরিন নাহারকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সাইফকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে দোষ স্বকার করে জবানবন্দি দেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) প্রতীমা রানী তরফদার তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ১৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালতে মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রায় ঘোষণার পর দন্ডিত সাবরিন নাহারকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

 

এম.কন্ঠ/ ০৪ নভেম্বর ২০২৬/এম. টি