ঢাকা ০৩:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকৃত কৃষকের হাতেই কৃষক কার্ড দিয়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: ০৮:২৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক পর্যায়ের প্রকৃত কৃষক কবির হোসেনের হাতেই কৃষক কার্ড তুলে দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া এলাকার কৃষক কবির হোসেনের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেয়ার পর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় কৃষি অধিদপ্তরসহ জেলার উর্ধ্বতন কর্মকতারা কবির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, কবির হোসেন তার বাড়ির উঠানে ঘরের সামনে ডাটা ও পাট শাকের চাষ করেছেন। এছাড়াও মাঠে বোরো ধান চাষ করেছেন। গোয়াল ঘরে তার তিনটি গরু বাধা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনের নিজস্ব জমি রয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি এলাকায় একজন কৃষক হিসেবেই পরিচিত। তবে তিনি কৃষি কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করার বিষয়টি সামনে আসার পর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কৃষক কার্ডের সুবিধা কি কেবলমাত্র পেশাদার কৃষকরাই পাচ্ছেন, নাকি অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এর আওতায় চলে আসছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কবির কৃষিকাজ করলেও তিনি নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করেন। এ কারণে কৃষক কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সংবাদ কর্মী মো. রবিন বলেন, কবির কৃষক কার্ড দেয়ার আগে কয়েক দফা বিভিন্ন সংস্থা থেকে তদন্ত করেছে। তিনি প্রকৃত কৃষক বলেই প্রধানমন্ত্রী তার হাতে কৃষক কার্ড তুলে দিছেন।

স্থানীয় এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক। বর্তমান সময়ে তথ্য যাচাই বাছাই না করে গুজবে কান দিয়ে বর্তমান সরকারের মানহানি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হতে হবে।

স্থানীয় কয়েক জন কৃষকের দাবি, কবির যেহেতু বর্গাচাষ করেন এবং তার নিজস্ব জমিও রয়েছে, তাই তিনি কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য। কৃষি কাজই কবিরের মূল পেশা। তাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

কৃষক কবির হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কুচক্রী মহল এমন করছে।

তিনি বলেন, আমি একজন কৃষক। কৃষি কাজের পাশাপাশি কন্টেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ জানান, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি। কবির প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়।

 

এম.কন্ঠ/ ১৬ এপ্রিল /এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকৃত কৃষকের হাতেই কৃষক কার্ড দিয়েছেন

প্রকাশ: ০৮:২৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক পর্যায়ের প্রকৃত কৃষক কবির হোসেনের হাতেই কৃষক কার্ড তুলে দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া এলাকার কৃষক কবির হোসেনের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেয়ার পর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় কৃষি অধিদপ্তরসহ জেলার উর্ধ্বতন কর্মকতারা কবির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, কবির হোসেন তার বাড়ির উঠানে ঘরের সামনে ডাটা ও পাট শাকের চাষ করেছেন। এছাড়াও মাঠে বোরো ধান চাষ করেছেন। গোয়াল ঘরে তার তিনটি গরু বাধা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনের নিজস্ব জমি রয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি এলাকায় একজন কৃষক হিসেবেই পরিচিত। তবে তিনি কৃষি কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করার বিষয়টি সামনে আসার পর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কৃষক কার্ডের সুবিধা কি কেবলমাত্র পেশাদার কৃষকরাই পাচ্ছেন, নাকি অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এর আওতায় চলে আসছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কবির কৃষিকাজ করলেও তিনি নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করেন। এ কারণে কৃষক কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সংবাদ কর্মী মো. রবিন বলেন, কবির কৃষক কার্ড দেয়ার আগে কয়েক দফা বিভিন্ন সংস্থা থেকে তদন্ত করেছে। তিনি প্রকৃত কৃষক বলেই প্রধানমন্ত্রী তার হাতে কৃষক কার্ড তুলে দিছেন।

স্থানীয় এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক। বর্তমান সময়ে তথ্য যাচাই বাছাই না করে গুজবে কান দিয়ে বর্তমান সরকারের মানহানি করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হতে হবে।

স্থানীয় কয়েক জন কৃষকের দাবি, কবির যেহেতু বর্গাচাষ করেন এবং তার নিজস্ব জমিও রয়েছে, তাই তিনি কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য। কৃষি কাজই কবিরের মূল পেশা। তাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

কৃষক কবির হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কুচক্রী মহল এমন করছে।

তিনি বলেন, আমি একজন কৃষক। কৃষি কাজের পাশাপাশি কন্টেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ জানান, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি। কবির প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়।

 

এম.কন্ঠ/ ১৬ এপ্রিল /এম. টি