ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ যমুনা নদীতে; এবার দুদকের অভিযান

ঘাটাইল প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ০১:২৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুদক টাঙ্গাইলের উপপরিচালক ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন কার্যালয়, ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঘাটাইল থানায় পর্যায়ক্রমে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।

অভিযানকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবন, আবাসিক কক্ষ ও টয়লেটের মেঝেতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব ওষুধের মধ্যে কতগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ এবং কতগুলো ব্যবহারযোগ্য, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেখাতে পারেনি বলে জানিয়েছে দুদক।

অভিযান শেষে দুদক টাঙ্গাইলের উপপরিচালক ফখরুল ইসলাম বলেন, কমিশনের নির্দেশে তারা অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে ব্যাপক গাফিলতি, তদন্তের নামে দায়সারা কার্যক্রম, অনিয়ম, আলামত নষ্ট এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওষুধের বস্তার সঙ্গে ঘাটাইল থানায় জব্দ দেখানো ওষুধের বস্তার মধ্যে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। থানায় তুলনামূলকভাবে অল্প পরিমাণ ওষুধের বস্তা জব্দ দেখানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

হাসপাতালের এসব ওষুধ এখনো শ্রেণিবিন্যাস করে সংরক্ষণ করা হয়নি। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে ওষুধের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ডপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে। তবে ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও ওই কমিটি কোনো ফলাফল দিতে পারেনি বলে জানিয়েছে দুদক।

এদিকে সরকারি সম্পদ আত্মসাতের বিষয়টি সামনে না এনে ঘটনাটিকে চুরির মামলা হিসেবে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এখনো ওষুধের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি না হওয়া এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে থাকা ওষুধের মজুত, চাহিদা ও বিতরণের সুনির্দিষ্ট হিসাব না থাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুদক কর্মকর্তারা আরও জানান, হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বাইরের ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসাজশ বা সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

দুদকের ভাষ্য, তারা ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। তদন্ত শেষে কমিশনের কাছে সুপারিশ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

এম.কন্ঠ/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬/এম. টি

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ যমুনা নদীতে; এবার দুদকের অভিযান

প্রকাশ: ০১:২৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুদক টাঙ্গাইলের উপপরিচালক ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন কার্যালয়, ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঘাটাইল থানায় পর্যায়ক্রমে অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।

অভিযানকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত ভবন, আবাসিক কক্ষ ও টয়লেটের মেঝেতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব ওষুধের মধ্যে কতগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ এবং কতগুলো ব্যবহারযোগ্য, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেখাতে পারেনি বলে জানিয়েছে দুদক।

অভিযান শেষে দুদক টাঙ্গাইলের উপপরিচালক ফখরুল ইসলাম বলেন, কমিশনের নির্দেশে তারা অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে ব্যাপক গাফিলতি, তদন্তের নামে দায়সারা কার্যক্রম, অনিয়ম, আলামত নষ্ট এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওষুধের বস্তার সঙ্গে ঘাটাইল থানায় জব্দ দেখানো ওষুধের বস্তার মধ্যে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। থানায় তুলনামূলকভাবে অল্প পরিমাণ ওষুধের বস্তা জব্দ দেখানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

হাসপাতালের এসব ওষুধ এখনো শ্রেণিবিন্যাস করে সংরক্ষণ করা হয়নি। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে ওষুধের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ডপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে। তবে ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও ওই কমিটি কোনো ফলাফল দিতে পারেনি বলে জানিয়েছে দুদক।

এদিকে সরকারি সম্পদ আত্মসাতের বিষয়টি সামনে না এনে ঘটনাটিকে চুরির মামলা হিসেবে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এখনো ওষুধের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি না হওয়া এবং হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে থাকা ওষুধের মজুত, চাহিদা ও বিতরণের সুনির্দিষ্ট হিসাব না থাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুদক কর্মকর্তারা আরও জানান, হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বাইরের ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে কোনো ধরনের যোগসাজশ বা সিন্ডিকেট রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

দুদকের ভাষ্য, তারা ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। তদন্ত শেষে কমিশনের কাছে সুপারিশ করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

এম.কন্ঠ/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬/এম. টি