ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ
কোটা বাতিলের দাবিতে টাঙ্গাইলে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ টাঙ্গাইলে যুবকদের স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো নির্মাণ টাঙ্গাইলে সেতুর সংযোগ সড়ক ধ্বসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ভূঞাপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষিকাকে কু-প্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগ শিক্ষকের সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে ভূঞাপুরে সংবাদ সম্মেলন মাদক না ছাড়লে টাঙ্গাইল ছাড়ার হুশিয়ারি এসপির টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল (বালক অনুর্ধ্ব-১৭) টুর্নামেন্টে পোড়াবাড়ি চ্যাম্পিয়ন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সারকে বদলি জনিত বিদায় সংবর্ধনা বাসাইলে নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশ-ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ শীর্ষক কর্মশালা টাঙ্গাইলে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষ মেলা শুরু

ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে কে ছিল?

মজলুমের কন্ঠ
প্রকাশ: ০৫:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাকিস্তানের জনপ্রিয় নেতা ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন জমিয়তে উলেমা-ই-ইসলাম (জেইউআই–এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রেহমান।

পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছেন, পার্লামেন্টে যে অনাস্থা ভোটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন, সেটি উত্থাপন করা হয়েছিল সাবেক সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার নির্দেশনায়। জিও নিউজের খবর।

২০২২ সালের এপ্রিলে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার ওই তৎপরতা হয়েছিল পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) নামের একটি জোটের মাধ্যমে। নওয়াজ শরিফ নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ নওয়াজ (পিএমএল–এন) ও বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টিসহ (পিপিপি) বেশ কয়েকটি দল ওই জোট গঠন করেছিল। সে সময় জোটের প্রধান ছিলেন ফজলুর রেহমান।

ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ফজলুর রেহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে অনাস্থা প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিলাম। কিন্তু অন্য দলগুলোর চাপের মুখে আমি যদি তখন না বলতাম, তাহলে ইমরানকে রক্ষা করছি বলে আমার ওপর একটি তকমা লাগানো হতো।

তিনি আরও বলেন, জেনারেল হামিদ তাকে বলেছিলেন, ‘তিনি এই ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারবেন না।’ অর্থাৎ যা কিছু করার তা পার্লামেন্টের ভেতরেই করতে হবে। রাজপথে কিছু করা যাবে না।

মাওলানা ফজলুরের ভাষ্য, ‘আমি তার (জেনারেল হামিদ) নির্দেশনাগুলো প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। পরে বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি), মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট–পাকিস্তান (এমকিউএম–পি) এবং অন্যরা পিটিআই সরকার থেকে সরে গিয়েছিল।’

৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা জেইউআই–এফ প্রধান বলেন, যখন তারা বলল যে পিটিআই-বিরোধীরা এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ, তখন আমার তাদের সঙ্গে একমত হতে হয়েছিল। না হলে আমাকে বলা হতো আমি ইমরান খানকে রক্ষায় সহযোগিতা করেছি।

ইমরানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ (পিটিআই) সরকারকে উৎখাতের পর পিএমএল–এনের প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠন হয়। ওই সরকারই ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আগে ১৬ মাস পাকিস্তান শাসন করে।

ইমরান খান তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। যদিও তার ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে জো বাইডেন প্রশাসন। পরে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর জন্য সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়ার ওপর দোষ চাপান ইমরান। পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলে গেছেন।

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করুন

ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে কে ছিল?

প্রকাশ: ০৫:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাকিস্তানের জনপ্রিয় নেতা ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন জমিয়তে উলেমা-ই-ইসলাম (জেইউআই–এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রেহমান।

পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেছেন, পার্লামেন্টে যে অনাস্থা ভোটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন, সেটি উত্থাপন করা হয়েছিল সাবেক সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার নির্দেশনায়। জিও নিউজের খবর।

২০২২ সালের এপ্রিলে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার ওই তৎপরতা হয়েছিল পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) নামের একটি জোটের মাধ্যমে। নওয়াজ শরিফ নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান মুসলিম লীগ নওয়াজ (পিএমএল–এন) ও বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পাকিস্তান পিপলস পার্টিসহ (পিপিপি) বেশ কয়েকটি দল ওই জোট গঠন করেছিল। সে সময় জোটের প্রধান ছিলেন ফজলুর রেহমান।

ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে ফজলুর রেহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে অনাস্থা প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিলাম। কিন্তু অন্য দলগুলোর চাপের মুখে আমি যদি তখন না বলতাম, তাহলে ইমরানকে রক্ষা করছি বলে আমার ওপর একটি তকমা লাগানো হতো।

তিনি আরও বলেন, জেনারেল হামিদ তাকে বলেছিলেন, ‘তিনি এই ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারবেন না।’ অর্থাৎ যা কিছু করার তা পার্লামেন্টের ভেতরেই করতে হবে। রাজপথে কিছু করা যাবে না।

মাওলানা ফজলুরের ভাষ্য, ‘আমি তার (জেনারেল হামিদ) নির্দেশনাগুলো প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। পরে বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টি (বিএপি), মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট–পাকিস্তান (এমকিউএম–পি) এবং অন্যরা পিটিআই সরকার থেকে সরে গিয়েছিল।’

৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করা জেইউআই–এফ প্রধান বলেন, যখন তারা বলল যে পিটিআই-বিরোধীরা এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ, তখন আমার তাদের সঙ্গে একমত হতে হয়েছিল। না হলে আমাকে বলা হতো আমি ইমরান খানকে রক্ষায় সহযোগিতা করেছি।

ইমরানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ (পিটিআই) সরকারকে উৎখাতের পর পিএমএল–এনের প্রেসিডেন্ট শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে জোট সরকার গঠন হয়। ওই সরকারই ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আগে ১৬ মাস পাকিস্তান শাসন করে।

ইমরান খান তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। যদিও তার ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে জো বাইডেন প্রশাসন। পরে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর জন্য সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল বাজওয়ার ওপর দোষ চাপান ইমরান। পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলে গেছেন।